যশোরের কেশবপুর পৌরসভার সাবদিয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসাটি দীর্ঘ ৩ যুগেরও অধিক সময় ধরে সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও জাতীয়করণ না হওয়ায় শিক্ষকরা বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বর্তমান মাদ্রাসাটির চেয়ার, বেঞ্চ, টেবিল সংকটসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে এর ভবিষ্যৎ হুমকির মূখে পড়েছে। এ সংকট নিরসন না হলে এলাকার শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় গড়ে তোলার কাজটিও মুখ থুবড়ে পড়বে। অপর দিকে টিন সেডের ঘর দুটির টিন মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে সামান্য বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের বইপত্র, কাপড় চোপড় ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। জানা গেছে, কেশবপুর পৌরসভার সাবদিয়া গ্রামে ১৯৮৩ সালে ২১ শতক জমির ওপর সাবদিয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসাটি স্থাপিত হয়। এরপর থেকে সুনামের সাথে শিক্ষা কার্য্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে মাদ্রাসাটি। ওই সময় এলাকাবাসী ও শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ৬ রুম বিশিষ্ট ২টি টিন সেডের আধা পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়। ৫ জন শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। এরপর প্রতি বছর ৫ম শ্রেণির বাৎসরিক পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীরা কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হচ্ছে। বর্তমান প্রতিষ্ঠানটি ধরে রাখাতে ও ভবিষ্যতে জাতীয় করণ হবে এমন আশায় শিক্ষকরা স্বেচ্ছায় হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। মাদ্রসার সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ৫ম শ্রেণির পরীক্ষায় এ মাদ্রাসা থেকে প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হচ্ছে। প্রতিদিন মাদ্রাসা শুরু থেকে শেষ পর্যান্ত একটানা পাঠদান করতে হয়। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা সরকারি বেতন ভাতা না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটলেও শিক্ষার্থীদের সাফল্যে তারা সন্তুষ্ট। সহকারী শিক্ষক শাহানারা খাতুন বলেন, এলাকাবাসীর টাকায় তৈরী দুটি টিন সেডের ঘরের টিন মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে সামান্য বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের বইপত্র, কাপড় চোপড় ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থায় দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে চললেও আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহযোগিতা পাইনি এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। বিশিষ্ট সমাজসেবক ইকরাম হোসেন বলেন, মাদ্রাসাটি কেশবপুর-সাগরদাঁড়ি সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় সীমানা প্রাচীর না থাকায় অভিভাবকরা আতঙ্কে থাকেন তাদের সন্তানদের এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে। মাদ্রাসাটির ব্যাস্ততম সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় দ্রুত সীমানা প্রাচীর না হলে যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পরে। প্রধান শিক্ষক মাওলনা খবির উদ্দীন বলেন, ২০২৩ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ শিক্ষার্থী সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়। বর্তমান মাদ্রাসাটিতে ৭২ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়নরত রয়েছে।

