মাত্রাত্রিক্ত শব্দ দূষণ আর ধূলায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নীলফামারী জেলাবাসী। ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তনের ছোয়া লাগলেও জঞ্জালের জেলা নীলফামারী যেনো এর ব্যতিক্রম। জঞ্জাল কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা জেলাবাসীর। দানব আকৃতির পাথর-বালু-বাঁশ ভর্তি শত শত ট্রাক-ট্রাক্টরগুলি যখন জেলার ৬টি উপজেলা শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে দিন রাত সমানে দাবড়ে চলছে তখন অবৈধ ভটভটি-নছিমন-করিমন-পাগলুর সাথে রিকশা, অটোরিকশা-ভ্যানের বিরামহীন জটঁলা নিয়ন্ত্রন করবে কে? নাকাল করে ছাড়ছে উপজেলাবাসীদের। সর্বত্রই অবাধ বিচরণ এদের। কোন নিয়মনীতির বালাই নেই। যত্রতত্র রাস্তার ওপর দাড়ানো, হুটহাট রাস্তার ওপরেই ব্রেক কষা, আচমকাই উল্টো দিকে রিকশা ঘোরানোয় প্রতিনিয়তই নানা দুর্ঘটনা দুর্বিষহ করে তুলেছে সড়কে চলাচল। ট্রাফিক আইনের বালাই নেই শহরগুলোতে। যে যার মতো চলছে। শতকরা ৯৫ জন রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যান চালক জানেননা জেবরা ক্রসিং কি। সবকিছুই চলছে নিজ নিজ নিয়মে। আর এসব জঞ্জালের সঙ্গে যোগ হয়েছে বিরামহীন প্রচার মাইকের শব্দ। এমনিতেই রিকশা-অটোরিকশা-ভ্যানের অযাচিত হর্ণে শব্দে শহরে কানপাতা দায় তার উপর উচ্চ স্বরে প্রচার মাইকিং কান ঝালাপালা করে ছাড়ছে বসবাসকারীদের। পাখি ডাকা ভোর থেকে অনেক রাত পর্যন্ত চলছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচার মাইক, সুলভ মূল্যে জুতা-স্যান্ডেল বিক্রি, বৈদ্যুতিক বাতি, বিভিন্ন কোম্পানির লোভনীয় অফার দিয়ে পন্য বিক্রি, শোক সংবাদ, গরু-ছাগল হারানো, সস্তায় গরু-মহিষর মাংস বিক্রির প্রচার, বয়লার মুরগী, ওষুধ ও মোবাইল সিম বিক্রি, বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের সভা-সমাবেশের সঙ্গে ওয়াজ-মাহফিলের প্রচার মাইক। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে অবৈধভাবে গড়ে উঠা বিভিন্ন ক্লিনিক, চিকিৎসকের প্রচার মাইক সঙ্গে বিভিন্ন স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় ছাত্রছাত্রী ভর্তির প্রচারনা। এক চিকিৎসকের প্রচার মাইক যেতে নাতেই আর এক চিকিৎসকের প্রচার মাইক এসে কানের কাছে হাজির। কখনও কখনও এক সঙ্গে দুই তিনটি প্রচার মাইক প্রতিযোগিতায় নামছে। কার মাইকের জোড় বেশি। এমনি অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সকল মহল যেন বধির হয়ে গেছেন। কানে তুলা দিয়ে আছেন সকলেই। প্রচার মাইক মানছে না কোন নিয়মনীতি। হাসপাতাল অফিস আদালত, মসজিদ মন্দির, স্কুল কলেজ কোন কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। নীলফামারী সরকারী কলেজের বিএসসির শির্ক্ষাথী আখতারুজ্জামান খান জানান, কলেজ যাওয়ার পথে কানে হাত দিয়ে পথ চলতে হয়। উচ্চ স্বরে মাইকের আওয়াজ যেন কান ঝালাপালা করে দেয়। আর এর সাথে ধূলাকনাতো আছেই।
নীলফামারীর সামাজিক সংগঠন দীপ্তমান যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আব্দুল মোমিন জানান, শব্দ দূষণ রোধে আমরা ২০২২ সাল থেকে আলোচনা সভা, সেমিনার, প্রচারপত্র বিলি ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে জনসচেতনতা সৃষ্ঠিতে কাজ করে যাচ্ছি। পরিবেশ অধিদপ্তর নীলফামারীর সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শব্দ দূষণ রোধে জেলা প্রশাসনের সহয়োগীতায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অর্থদণ্ড ও হাইড্রলিক হর্ণ জব্দ করা হয়েছে। অভিযান চলমান রয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছি।

