সাবেক ছাত্রদল নেতা ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মাহমুদুল আলম শাহীনকে লাঞ্চিত করার ঘটনায় সাতক্ষীরায় কৃষকদল আয়োজিত কৃষক সমাবেশ স্থগিত করেছে দলটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। দেবহাটা উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম জানান, দেশব্যাপী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২১ ডিসেম্বর) ইউনিয়ন পর্যায়ে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলা ৩ নম্বর সখিপুর ইউনিয়নে দুপুর ৩ টায় কৃষক সমাবেশ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু গত ২০ ডিসেম্বর রাতে সখিপুর মোড়ে দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান কমিটির সদস্য গোলাম ফারুক বাবু কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নেতা অ্যাডভোকেট মাহমুদুল আলম শাহীনকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে গালিগালাজ শুরু করে এবং কৃষক দলকে নিয়ে কটুক্তি করে। কৃষক দলের গুষ্টি মারব বলে হুমকি দেয়। কেন্দ্রীয় নেতাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়, তুই এখানে কি করতে এসেছিস তুই ঢাকায় যা। এই ধরনের কথাবার্তা বলে। এমতাবস্থায় স্থানীয় কৃষক দলের নেতৃবৃন্দ ২১ ডিসেম্বর কৃষক সমাবেশ না করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মূলত, কৃষক সমাবেশের ব্যানারে তার নাম ব্যবহার না করা ও মাইক প্রচারে কেন তার নাম ব্যবহার করা হয়নি এজন্য তিনি সম্পূর্ণ সংগঠন বিরোধী এবং কিছু লাঠিয়াল নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় কেন্দ্রীয় নেতাকে লাঞ্চিত করে। এ ঘটনায় হতবাক হয়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ ব্যাপারে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মাহমুদুল আলম শাহীন লাঞ্চিত হওয়ার কথা শিকার করে বলেন, হুমকি দাতা গোলাম ফারুক বাবু ৫ আগস্টের পরে খলিশাখালীতে ঘের দখলের চেষ্টা করে। ভূমিহীন নেতা কামরুল হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়। সে মামলার এজারভুক্ত আসামি। বিগত ১৫ বছর কোন দলীয় কর্মসূচি পালন না করে আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে চলে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শেখ মুজিবের গলায় মালা দেয়াসহ ছবি দেখা যায়। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। গত ১৭ বছর বহু নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কিন্তু যখন দেখি আওয়ামী লীগের বন্ধু খ্যাত চেয়ারম্যান বাবু যার দলে কোন অবদান নেই। ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের ছাতার নিচে থাকা বাবু পট পরিবর্তনের পরে আবারো গর্জন দিচ্ছে। আমি এ ব্যাপারে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেছি। বিএনপি থেকে তার আজীবন বর্হিষ্কার চাই। ঘটনার ব্যাপারে জানতে দেবহাটার পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সদস্য গোলাম ফারুক বাবুর ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার ফোন দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে দেবহাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম জানান, কথাকাটা কাটি হয়েছে। দলীয় ব্যাপার মিটে যাবে।

