বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চাঁদপুরের মতলব উত্তরের নিহত ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম রাজিবের মরদেহ দাফনের প্রায় ৫ মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে চাঁদপুরের মতলব উত্তরের রাঢ়ীকান্দি গ্রামের কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে তার মরদেহ উত্তোলন করে পুলিশ।পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহত আরিফুল ইসলাম রাজিবের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের টরকী এওয়াজ গ্রামে। তাঁর বাবা রজ্জব প্রধান। আরিফের স্ত্রী শরিফা বেগম ছাড়াও ৩ বছর বয়সী ইব্রাহিম নামে একমাত্র পুত্র সন্তান রয়েছে। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। পরে গাজীপুর থেকে তার মরদেহ এনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই চাঁদপুরের মতলব উত্তরের রাঢ়ীকান্দি গ্রামের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় গাজীপুরের গাছা থানায় মামলা হওয়ায় আদালতের নির্দেশে ৪ মাস ২৮ দিন পর মরদেহটি কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। জানা গেছে, আরিফুর ইসলাম রাজিব নিহতের ঘটনায় গত ২১ আগষ্ট গাজীপুরের গাছা থানায় তার পিতা রজ্জব প্রধান বাদী হয়ে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আকম মোজাম্মেল হক, জাহিদ আহসান রাসেল, অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান, জাহাঙ্গীর আলমসহ ৪৭৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এই মামলার প্রেক্ষিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন চীফ জুডিশিয়াল আদালত মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করতে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য আদেশ দেন। ওই আদেশে রাঢ়ীকান্দি গ্রামের কবরস্থান থেকে আরিফের মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট হিল্লোল চাকমা, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুরের গাছা থানার উপ-পরিদর্শক সুমন খান, মতলব উত্তর থানার উপ-পরিদর্শক মো. নাজিমুদ্দিনসহ নিহতের পরিবার ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুরের গাছা থানার উপ-পরিদর্শক সুমন খান বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চালাকালীন সময়ে গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরিফুল ইসলাম রাজিব মারা যান। তখন ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়েছিল। পরে এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে ময়নাতদন্তের জন্য আদালতের নির্দেশে তার মরদেহটি উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আবারও মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সহকারী কমিশনার ভূমি (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট হিল্লোল চাকমা বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে আরিফুল ইসলাম রাজিবের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। মরদেহটি চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রেরণ করা হয়েছে।

