যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ডাক্তার ও নার্স সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ায় কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। নানাবিধ সমস্যার মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেনের দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় গত ১১ মাসে ১১৩ সিজারিয়ান অপারেশনসহ প্রায় ১৩ হাজার রোগীকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হলেও তা সেবা প্রত্যাশীর তুলনায় নিতান্তই নগন্য। তাই দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল। কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সুত্রে জানাগেছে, ভৌগোলিক কারণে সীমান্তবর্তী যশোর সাতক্ষীরা ও খুলনাসহ তিন জেলার ৫ উপজেলার মোহনায় অবস্থিত কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থকমপ্লেক্সটি। যার ফলে কেশবপুরসহ যশোরের মনিরামপুর, খুলনার ডুমুরিয়া এবং সাতক্ষীরা জেলার তালা ও কলারোয়া উপজেলাসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রাম থেকে কেশবপুরের দুরত্ব কম থাকায় এসব অঞ্চলের রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসে। যে কারণে অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকে কেশবপুরে রোগীর চাপ বেশী থাকে। তার উপর আবার রয়েছে তীব্র ডাক্তার সংকট। গুরুত্বপুর্ণ এই চিকিৎসা কেন্দ্রটিতে ৩১জন ডাক্তার থাকার নিয়ম থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১৭জন। আর ১৭জন ডাক্তার দিয়ে এতো রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হয় কর্তব্যরত ডাক্তারদের। ফলে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে দুর-দুরন্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারন রোগীরা। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের প্রতি ভুক্তভোগীদের এটাই দাবী তিন জেলার মোহনায় অবস্থিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে শুন্যপদে দ্রুত ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ প্রদান করে সেবার মান উন্নত করা হোক। ডাক্তার সংকট নার্স সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত এই হাসপাতালে ইনডোরে ১হাজার ২৬জন, আউটডোরে ৯হাজার ৫২৫জন, কুকুরেকামড়ানো ১হাজার ৭৩৪জন, আলাদা ওয়ার্ডে ৫জন কুষ্ঠো রোগী ও ৩৩৭জন যক্ষা রোগীর চিকিৎসা প্রদান এবং ১১৩ সিজারিয়ান অপারেশনস ১২হাজার ৭৪০জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া এক্সরে, আল্ট্রাসোনোগ্রাম, প্যাথলোজী সেবা, ডেঙ্গু, চক্ষু চিকিৎসাসহ ১০হাজার ২৭৪জন কিশোরী ও শিক্ষার্থীকে জরায়ুমুখে ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি ভ্যাকসিনাজেশনের আওতায় টিকা প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন বলেন, ডাক্তার সংকট থাকায় রোগীর চাপ সামলাতে নির্ধারিত সময়ের বাইরেও অতিরিক্ত সময় সেবা প্রদান করা হয়। জেলা সিভিলসার্জন ডাক্তার মাহমুদুল হাসান বলেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল গুলোর মধ্যে কেশবপুরে রোগীর চাপ বেশী বিষয়টি আমরা জানি। আমি সরেজমিনে দেখেছি কেশবপুরে প্রচুর রোগী আসে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তাছাড়া ডিজি স্যার এসেছিলেন তাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। নিয়োগ হলে ডাক্তার সংকটের দ্রুত সমাধান হবে।

