পৌষ মাসের শুরুতে ঠাকুরগাঁও জেলার গরম কাপড়ের ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। শীতের গরম কাপড়ের দোকানগুলো ক্রেতাশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাতে কিছুটা শীত অনুভূত হলেও দিনের বেলায় তেমন শীতের প্রভাব নেই, যার ফলে ক্রেতারা গরম কাপড় কিনতে আসছেন না। হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী লালু , মিন্টা ও মানিক জানান, “আমরা কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসের মধ্যেই গরম কাপড়ের প্রচুর স্টক তুলেছিলাম। কিন্তু এবার শীতের দেখা নেই। সন্ধ্যা আর রাতে শীত পড়লেও দিনের বেলা গরম থাকে। এই কারণে ক্রেতারা দোকানে আসছেন না, আমরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছি।” গরম কাপড়ের দোকানে সোয়েটার, মাফলার, টুপি, জ্যাকেট এবং ব্লেজারের মতো বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগের বছরের তুলনায় এবার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তারা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে ঋণের বোঝা বাড়বে এবং ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। এদিকে, আবহাওয়া অফিস সূত্র থেকে জানা যায়, ডিসেম্বরের শেষের দিকে ঠান্ডা বাড়তে পারে। শীতের প্রকোপ বাড়লে ব্যবসা জমে উঠবে বলে আশা করছেন দোকানিরা। তবে বর্তমানে শীতের এই মিশ্র প্রকৃতির কারণে ব্যবসায়ীরা চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আবার বিশেষজ্ঞ মহলের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এর জন্য দায়ী হিসেবে মনে করছেন। স্থানীয় ক্রেতা ফরিদুল ইসলাম জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় গরম কাপড়ের বাজারে ভাটা পড়েছে। গরম কাপড়ের ব্যবসায়ীরা এখন প্রকৃতির ওপর ভরসা করে শীতের জোরালো তেজের অপেক্ষায় রয়েছেন যদি ব্যবসা জমে।

