ঢাকাFriday , 13 December 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কেশবপুরে খেজুরের রস সংগ্রহে গাছিদের প্রস্তুতি খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য রক্ষায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চারা রোপন।

Link Copied!

ঠিলে ধুয়ে দে বউ-গাছ কাটতে যাবো, সন্ধ্যে রস ঝেড়ে এনে জাউ রেন্ধে খাবো, ঠিলে ধুয়ে দে বউ গাছ কাটতে যাবো। যশোরের যশ খেজুরের রস, এই প্রবাদটি চিরায়ত বাংলার প্রতিটি মানুষের মুখে-মুখে ধ্বনিত হয় শীতের আগমনে।
কুঁয়াশার চাঁদরে মোড়ানো সকালের সোনালী সূর্য্যের মৃদু হাসি বাংলার মানুষকে জানিয়ে দেয় শীতের আগমনি বার্তা। শীত আসলেই কেশবপুর তথা যশোরের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল জুঁড়ে শুরু হয় গাছিদের খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন ঠিলে-খুংগি-দড়া, গাছি দাঁ, বালিধরাসহ ইত্যাদি তৈরীর অবিরাম প্রস’তি। বেড়ে যায় গাছিদের ব্যস্ততা। বেলা বাড়তেই ঠিলে-খুংগি-দড়া- গাছি দাঁ বালিধরা নিয়ে গাছিরা ছুটে চলে গাছ কাটতে। আবার ভোর বেলায় রস নামাতে কূয়াশা ভেদ করে চড়ে বেড়ায় এক গাছ থেকে আরেক গাছে। এর পর ব্যবস্তা বাড়ে মেয়েদের, কড়াইতে রস জালাতে সকাল থেকে দুপুর অবধি কোন ফুসরত নেই দম ফেলার।
শীত আসলেই আবহমান বাংলার ঘরে-ঘরে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। প্রতি ঘরে শুরু হয় পিঠা তৈরীর জন্য ঢেঁকিতে চাউলের গুড়া তৈরীর মহোৎসব। বাংলার প্রতি ঘরে ঘরে সন্ধ্যা হলেই একদিকে শুরু হয় কবি গান, অন্য দিকে সন্ধ্যে রসের পায়েশ পুলিসহ বিভিন্ন প্রকার পিঠা তৈরীর ধুম। এ যেন কবির সেই ঐতিহাসিক উক্তির বাস্তব রূপায়ণ; ঠিলে ধুয়ে দে বউ-গাছ কাটতে যাবো সন্ধ্যে রস ঝেড়ে এনে জাউ রেন্ধে খাবো।
এদিকে খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য রক্ষায় যশোর জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগে প্রতিবছরই খেজুর গাছের চারা ও বীজ রোপণ করা হচ্ছে এবং স’ানীয় কৃষকদের-কে খেজুর গাছের চারা রোপণে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের গাছিদেরকে প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে।
এতো কিছর পরেও ইট ভাটাসহ বিভিন্ন জালানী কাজে নিধন করা হচ্ছে এই মধুবৃক্ষ। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করতে না পারলে অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে খেজুর গুড়ের হাজার বছরের ঐতিহ্য। তাই সচেতন মহল মধুবৃক্ষ রক্ষায় দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকির হোসেন বলেন, কেশবপুরের খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য রক্ষায় যশোর জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগে প্রতিবছরই খেজুর গাছের চারা রোপণ ও গাছিদেরকে প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে।