ঢাকাWednesday , 11 December 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঠাকুরগাঁওয়ে থ্রিহুইলার ও অটো চার্জারের মালিকানা: চাঁদাবাজির অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতাদের দখলদারিত্ব

Link Copied!

ঠাকুরগাঁও শহরের অধিকাংশ থ্রিহুইলার ও অটো চার্জারের মালিকানা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠে আসচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, শহরের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি বড় অংশ এই যানবাহনের মালিক। এসব যানবাহনের ক্রয় এবং পরিচালনার জন্য চাঁদাবাজি বা বেআইনি উপার্জনের অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ মানুষ।
জে আর থ্রিহুইলার: একটি উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জাকারিয়া ও রিংকু থ্রিহুইলার সংক্ষেপে জে আর।ঠাকুরগাঁও শহরে জে আর থ্রিহুইলার একটি উল্লেখযোগ্য নাম। শহরের মোট ৭টি পয়েন্টে থ্রিহুইলার যানবাহনের স্ট্যান্ড রয়েছে। এসব স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এই অর্থের ভাগ কারা পায় এবং এটি কীভাবে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই স্ট্যান্ডগুলোর মাসোয়ারা নিয়মিতভাবে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের কাছে পৌঁছে। তারা বিভিন্ন উপায়ে এই অর্থ ব্যবস্থাপনা করেন এবং নতুন নতুন থ্রিহুইলার কেনায় বিনিয়োগ করেন। এ ধরনের ক্রিয়াকলাপ স্থানীয় প্রশাসন এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। অবৈধ চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক দখলদারিত্বের কারণে অন্যান্য সাধারণ মানুষ এই ব্যাবসা বিনিয়োগ করতে দেখা যায় নি।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি থ্রিহুইলার থেকে প্রতিদিন ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। মাসিক হিসাবে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় লাখ টাকারও বেশি। এই অর্থের বড় অংশই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের পকেটে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় এক চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,”প্রতিদিন স্ট্যান্ডে চাঁদা দিতে হয়। তা না দিলে স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো যাবে না। এই চাঁদার টাকা কারা পায় তা আমরা জানি, তবে কিছু বলতে পারি না।” সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বেড়েই চলেছে। আওয়ামী থ্রিহুইলার মালিকদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের কারণে আর্ট গ্যালারী মোড়ে দীর্ঘদিনের জাসদ জেলা কার্যালয় ও ৫ টি উপজেলার স্থায়ী বাস স্ট্যান্ড দখল করে থ্রিহুইলার স্ট্যান্ড তৈরি করে। সাথে সাথে সেখানে মাদকের অভয়ারণ্য ও প্রতিপক্ষ দমনের রাজনৈতিক টর্চার সেল পরিচালিত হতো ‌। শহরের সাধারণ জনগণ এবং পরিবহন মালিকদের মধ্যে এই অবস্থার কারণে অসন্তোষ বাড়ছে। তারা বলছেন, বেআইনি চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিবহন খাতের সুষ্ঠু উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের ভাড়াও বেড়ে যাচ্ছে সাথে সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য যাত্রী হয়রানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ব্যাপারে সংবাদিকরা সোচ্চার থাকলেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ সম্পর্কে অবগত থাকার পরও এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই সংকট সমাধানে পর্যালোচনা ও দাবি উঠে আসচ্ছে অনেক দিন ধরে। ঠাকুরগাঁওয়ের পরিবহন খাতের এই সংকট সমাধানের জন্য স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার দাবি তুলছেন সাধারণ মানুষ। অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবহন নীতি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য হয়ে উঠেছে। এভাবে রাজনৈতিক নেতাদের দখলদারি এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়বে এবং পরিবহন খাতে নৈরাজ্য বাড়বে।