দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাদকের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ভারত বাংলাদেশে উত্তেজনা ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের জেরে প্রশাসনিক তৎপরতা অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান কমে যাওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে রয়েছেন। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনের পর থেকে প্রশাসনের নজরদারিতে বড় ধরনের শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আন্দোলনের নানা দিক সামাল দিতে ব্যস্ত থাকায় মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান কার্যত কমে গেছে। এদিকে মাদক ব্যবসার প্রসার সমাজে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে যুবসমাজ মাদকের ফাঁদে আটকা পড়ছে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা অব্যাহত থাকলে মাদকের বিস্তার রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাছাড়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত থেকে মাদক পাচার কার্যক্রম প্রায় কমে যাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকের বাজারে বিরুপ প্রভাব পড়ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় কড়া নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের ফলে মাদক প্রবাহ অর্ধেক কোঠায় নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুরে এসে জানা যায়, মাদকের চাহিদা থাকলেও সরবরাহের অভাবে দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ফলে মাদক সহজলভ্য নয় এবং এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে ব্যবহারকারীদের ওপর। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এই পরিবর্তনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, মাদকের সহজলভ্যতা না থাকায় তাদের প্রিয়জনরা মাদক থেকে দূরে থাকার সুযোগ পাচ্ছে। এতে অনেকের পরিবারের পরিবেশ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। ঠাকুরগাঁও জেলার স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এই পদক্ষেপকে দীর্ঘ মেয়াদি করতে হলে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা উচিত। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ঠাকুরগাঁওয়ে এইচআইভি ও এইডস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সেবা এবং পরামর্শ কেন্দ্র, সঙ্গী- ১০৭ ঠাকুরগাঁও আউটলেট ব্যাপকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেখানকার কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম রনজু জানান , আমরা মাদক সেবনে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা সেবা ও বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি।। তবে মাদক ব্যবহার কারীরা উচ্চ মূল্যের কারণে মাদক ক্রয় করতে পারছে না ফলে এর সুযোগ নিচ্ছে অসৎ ঔষধ ব্যবসায়ীরা। কাশের সিরাপ, স্লিপিং টেবলেট বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই সাথে এলাকায় চুরি, ছিনতাই আরও বেড়ে গেছে। এদিকে নাগরিকরা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, মাদক ব্যবসার লাগাম টানতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র থেকে জানা যায়, প্রশাসন অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর নিয়ন্ত্রণে অভিযান প্রচেষ্টা আরো তীব্রতর করা হবে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ দীর্ঘ মেয়াদি হলে সমাজকে মাদক মুক্ত করতে সহায়ক হবে।

