ঢাকাSaturday , 7 December 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের ভিড়

Link Copied!

আর কয়েকদিন পরেই শুরু হচ্ছে পৌষ মাস। পৌষের আগমনে সূর্যের তাপ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। সন্ধ্যা নামতে না নামতেই গায়ে জড়াতে হচ্ছে গরম কাপড়। রাত যতই গভীর হচ্ছে ততই কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে উত্তরের জেলা নীলফমারী। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত নীলফামারীসহ রংপুর বিভাগের অন্যান্য জেলায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, সর্দি, কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। বিশেষ করে গ্রামে গঞ্জে বসবাসরত শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এসব রোগে। ক্রমেই রোগির ভীড় বাড়ছে নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিস্ট জেনারেল হাসপাতালে। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে ওই হাসপাতালের তথ্য মতে জানা যায়, ইনডোরের ৯টি ওয়ার্ডে ৩১৯ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবার আউটডোরে শীত জনিত নানা রোগে ৮৬০ জন অসুস্থ্য মানুষ সেবা নিয়ে চলে গেছে। এতে মোট ১১৭৯ জন সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে ইনডোরে পুরুষ ওয়ার্ডে ৭২ জন, মহিলা ওয়ার্ডে ৭৮জন, নবজাতকে ২৯জন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে (শিশু ৩৪ বয়স্ক ২২জন) ৭৬ জন, গাইনীতে ২৭ জন, সার্জারীতে (নারী, পুরুষ) ৫৯ জন, নাক, গলা, কান (ইএনটি) ও চক্ষু ওয়ার্ডে ২৪ জন। বিশেষ করে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও সর্দি জ্বড়ে শিশু রোগীদের প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। নীলফামারী সদরের টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা ৯ মাস বয়সি আয়নের মা লাভলি বেগম জানান, গত দুইদিন ধরে পাতলা পায়খানায় শিশুটি কঠিন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। গ্রামের ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করে কিছুই হয়নি। ফলে গত শনিবার বাদ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে দেই। এসে দেখি আয়নের মতো অনেকেই ডাইরিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। একই কথা বলেন, ওই ওয়ার্ডের দেড় মাস বয়সি মুনতাহা আকতার হিমির মা জান্নাতুন মাওয়া ও ২৩ দিন বয়সি মুনতাছিরের মা মুসতাকিনা বেগম। জায়গা সংকটে অনেকে বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ রিংকু আকতার জানান, দুইদিন আগে এই ওর্য়াডে শিশুসহ অর্ধশতাধিক ডায়রিয়া রোগি ভর্তি ছিল। এখন কিছুটা কমেছে। তিনি বলেন, শীত জনিত রোগের কারণে এসব শিশু ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০ শয্যার ওয়ার্ডে ৩৪ জন রোগির চিকিৎসায় সমস্যায় পড়তে হয়। হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও আগুনে পুড়ে শিশুরা বেশী আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের গরম কাপড়, গরম পানি ও গরম খাবার খাওয়াতে হবে। সমস্যা বেড়ে গেলে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিতে হবে। শীত নিবারনে মায়েদের সচেতন থাকতে হবে। নীলফামারী সৈয়দপুর বিমান বন্দর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ৬ টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ দশমিক শুন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিন্ম ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সেই সাথে বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ ও গতিবেগ ছিল ২-৩ কিলোমিটার। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানায়, আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু রোগীদের প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। জেলার ৬ উপজেলা থেকে আগত রোগীর ভীড়ে সামাল দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুর রহিম বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ মানুষ সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। মাথা ব্যথা, গলা ব্যাথা, হাঁচির মতো লক্ষণ রয়েছে। ডায়রিয়াসহ অ্যাজমা রোগীর প্রচুর ভিড় হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসব রোগে সতর্ক থাকার কোন বিকল্প নেই। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং যাদের অ্যাজমা, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, তাদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। গরম কাপড় পড়তে হবে। শরীরে শক্তি জোগায় এমন খাবার খেতে হবে। আর জটিলতা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’ নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু আল হাজ্জাজ জানিয়েছেন, ‘শীতের কারণে শিশুরা ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসছে। তুলনামূলকভাবে বয়স্ক নারী-পুরুষরা শীতজনিত নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি শিশুদের পর্যাপ্ত শীত বস্ত্র পরানো ও সকাল, সন্ধ্যায় ঘরের বাইরে বের না করার পরামর্শ দিয়েছেন।’