ঢাকাThursday , 5 December 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মণিরামপুরে ৩৭ জন শিক্ষার্থীর খেসারত

Link Copied!

বার্ষিক পরিক্ষায় নবম শ্রেণির ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়ার খেসারত দিতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শাখার শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়ায় প্রতিশোধ হিসেবে ছাত্রীদের বেকায়দায় ফেলতে বার্ষিক পরিক্ষায় বিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্ন করা হয়েছে সিলেবাস এবং পাঠ্যবইয়ের বাইরে থেকে। ফলে ওই শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়। ভূক্তভোগী ৩৭ জন শিক্ষার্থী ওই শিক্ষককের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভৌত বিজ্ঞানের শিক্ষক সাঈদুল ইসলাম ৯ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিষয়ে ক্লাস নেন। ৯ম শ্রেণির ছাত্রী (রোল নং ৩) ফাইরুজ ফাইজা অভিযোগ করেন, নতুন কারিকুলাম বাতিল হবার পর অক্টোবর মাসে তাদের নতুন করে সিলেবাস দেওয়া হয়। কিন্তু বিজ্ঞান শিক্ষক সাঈদুল ইসলামের পাঠদান অধিকাংশ ছাত্রী আয়ত্ব করতে পারেনি। ফলে নবম শ্রেণির ৬০ ছাত্রীর মধ্যে ২৩ জনকে শিক্ষক সাঈদুল ইসলাম বিদ্যালয়ে প্রাইভেট (জনপ্রতি মাসিক এক হাজার) পড়ান। সুমাইয়া আকতার জিম, অরনি জামান, সাদিয়া জামান লিজা, প্রিয়ন্তী, অনন্যা, মিমসহ অধিকাংশ ছাত্রী অভিযোগ করেন, শিক্ষক সাঈদুল ইসলাম তার কাছে প্রাইভেট পড়ার তাগিদ দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সপ্তাহে ৩ দিন করে মাসিক ১ হাজার টাকায় প্রাইভেট পড়তে তারা অস্বীকৃতি জানায়। ফলে শিক্ষক সাঈদুল ইসলাম ওই ছাত্রীদের তিরষ্কার করাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করেন। ফাইরুজ ফাইজা, সুমাইয়া আকতার জিমসহ অধিকাংশ ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষক সাঈদুল ইসলাম তাদেরকে হুমকি দিয়ে বলেন, পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন করব তা দেখে উত্তর দেওয়া তো দুরের কথা, প্রশ্ন দেখে তোমরা চোখে সরিষার ফুল দেখবে। ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান পরীক্ষার কক্ষে প্রশ্ন পেয়ে ঠিকই চোখে সরিষারফুল দেখে শিক্ষার্থীরা। তারা জানায়, সিলেবাসের বাইরে এমনকি পাঠ্যবইয়ের বাইরে থেকে সব উল্টাপাল্টা প্রশ্ন দেওয়া হয়। যে কারনে প্রাইভেট না পড়া ছাত্রীরা অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে ৩৭ শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রথমে প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক মহিতোষ কুমার দে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বিজ্ঞান শিক্ষক সাঈদুল ইসলাম জানান, তিনি মাত্র ২ মাসে ২০ জন ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়িয়েছেন। তবে কোন ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেননি। এ দিকে প্রধান শিক্ষক ওই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় বাধ্য হয়েই ছাত্রীরা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর গত সোমবার লিখিত অভিযোগ করেন। নির্বাহী অফিসার বিষয়টি নিয়ে বুধবার সকালে তার কার্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে নিয়ে বৈঠকে বসেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না জানান, বৈঠকে বিষয়টির সুরাহা হয়েছে। তিনি জানান, আগামিতে শিক্ষক সাঈদুল ইসলামকে নতুন ১০ম শ্রেণির পাঠদানে বিরত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক মহিতোষ কুমার দে জানান, ইতিমধ্যে শিক্ষক সাঈদুল ইসলামকে ১০ম শ্রেণির পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে।