চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে বেদম নির্যাতন করে সন্তানের চোখের সামনে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ফরিদগঞ্জ থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ ঘরিমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। থানায় মামলা না নেওয়ায় লাশ দাফন না করে বাড়িতে রেখে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার পূর্ববড়ালি গ্রামের ওমান প্রবাসী কাউসার কবির বেপারীর বাড়িতে। স্ত্রী সাবিনা বেগমের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে ফরিদগঞ্জ চতুরা হাসপাতালে নিয়ে যায় স্বামী। পরে লাশ হাসপাতালে রেখে ২ সন্তান নিয়ে পালিয়ে যায় স্বামী। ঘটনার পর ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ নিহত সাবিনা বেগমকে উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। নিহতের পরিবাররা জানায়, ৬ বছর পূর্বে ১০ নং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড চওড়া গোবরা গ্রামে শুক্কুর মিয়া পাটোয়ারীর মেয়ে সাবিনা বেগমকে বিয়ে করে ওমান প্রবাসী কাউসার কবির। বিদেশ থেকে দেশে এসে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে প্রায় সময় মারধর করত। এই ঘটনা স্ত্রী সাবিনা বেগম পরিবারকে জানালে সে ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় দুই সন্তানের সামনে বেদম মারধর করে শ্বাসরুদ্ধের পর হত্যা করে। পরে স্বামী কাউসার কবির শাশুড়ি কোহিনুর বেগম, দেবর রাসেল বেপারী সাবিনা বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে আত্মহত্যা নাটক সাজায়। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্বামী কাউসার কবির তার মা ও ভাইসহ পালিয়ে যায়। নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাওয়া সাবিনা বেগমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ও তার দুটি আঙ্গুল ভাঙ্গা অবস্থায় দেখা যায়। তবে এই হত্যার ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে স্বামী কাউসার কবিরসহ যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে গ্রেফতার করার জোর দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

