গতকাল “ খুলনায় এখনও ঝুলছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল ” শিরোনামে বহুল প্রচারিত “ দৈনিক পাঞ্জেরী ” তে নিউজ করার পর তা নিয়ে খুলনাসহ দেশজুরে চলছে ব্যাপক তোলপার। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং গল্লামারী মোড়ের নিকটে অবস্থিত লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ। সম্প্রতি জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানেও খুলনায় জোরালো ভুমিকা রেখেছে লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ। গণঅভ্যুত্থানে খুলনা একদিন আগে স্বাধীন হয়। অর্থাৎ ৪ আগস্ট খুলনা স্বাধীন হয়। জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে খুলনা ১ মাস ছিলো উত্তপ্ত । প্রায় প্রতিদিনিই পুলিশের সাথে খুলনায় চলে ছা্ত্র জনতার গোলাগুলি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গল্লামারী, জিরোপয়েন্ট, অথবা শিববাড়ীর দিকে মিছিল বের হতো। ২ আগস্ট গল্লামারী লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের সামনে চলে পুলিশের সাথে ছা্ত্র জনতার ভয়াবহ গোলাগুলি। ঐ দিন অসংখ্য ছাত্র জনতা গুলিবিদ্ধ হয়। অনেক ছা্ত্র জনতার শরীর ঝাঁঝরা হয়ে যায় পুলিশের ছোরা গুলিতে। চারিদিকে টিয়ার সেলের ধোয়ায় পুরো এলাকা হয়ে যায় অন্ধকার। লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ও ছাত্র জনতা স্কুলের সামনে থেকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় গণঅভ্যূত্থানের পর সব যায়গা থেকে আওয়ামী লীগের দোসররা পালালেও লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এখনো কেউ পালায়নি। এখনও খুঁটি গেড়ে নির্ভয়ে বসে আছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসররা। লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের সামনে বানানো বাকঁশালের নায়ক শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও কেউ সরায়নি। দৈনিক পাঞ্জেরীতে নিউজ করার পর দিনভর শহর জুরে চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। দৈনিক পাঞ্জেরীতে নিউজ দেখে গতকাল দুপুরে লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজে গিয়ে হাজির হয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনার প্রতিনিধিরা। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, খুলনার অন্যতম প্রতিনিধি মহরম হাসান মাহিম, তার ফেসবুকে পোস্ট করেন, গণঅভ্যুত্থানের ৩ মাস পরে এসেও বাকশাল নেতা ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার বানিজ্যের প্রধান হাতিয়ারের স্মৃতি ধরে রাখার প্রচেষ্টা যেন থামছেই না। সংস্কারের অংশীদার হিসেবে ছুঁটে গিয়েছিলাম লায়ন্স স্কুল এণ্ড কলেজে। শিক্ষ্যা প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এ যেন কেঁচো খুঁড়তেই সাপ বেরিয়ে আসলো। স্পষ্টত দৃশ্যমান; ( বিল ভাউচার জালিয়াতি, টাকা আত্নসাৎ, প্রতিষ্ঠানের ভবন বিক্রিসহ নানাবিধি অভিযোগ এসেছে) গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তারা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারাসহ সদ্য নিযুক্ত হওয়া প্রধান অধ্যক্ষ খুব দ্রুত এ গুলো বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা নিবেন। ঘটনাসমূহে আমরা খোঁজ খবর রাখছি। আওয়ামী দোসরদের এ শহরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠার সুযোগ নেই। এ শহর এ প্রতিষ্ঠানের রন্দ্রে রন্দ্রে পরতে পরতে সমস্যা। যা সংস্কার করা অত্যান্ত জরুরি। তা নাহলে প্রতি বিপ্লব ঠেকানো অসম্ভব হয়ে যাবে। আমাদের দেশের ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং দেশসংস্কারের কাজে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করা আবাশ্যক। আমরা গিয়েছিলাম শেখ মুজিবারের ছবি অপসারণ করার জন্য সেখানে অবশ্যই আগামীকালকের ভিতর কালোকাপড় দিবেন এবং আগামী এক সপ্তাহের ভিতর স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করবেন বলে আশ্বস্থ করেছেন। লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক বাদশা খান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, শিক্ষক মনিরুজ্জামান পলিটিক্যাল সাইন্স, অংক শিক্ষক শেখ ফিরোজ আহম্মেদ, রফিকুল ইসলাম (সবুজ) ইংরেজী এরা আমাকে স্কুলে ঢুকতে দেয়না। এই ৩ জনই লিড দিচ্ছে। আমার রুম ওরা তালা মেরে রেখেছে। আমি কিভাবে কি করবো বলেন। আমি এখনো ”লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের” প্রধান শিক্ষক অথচ আমি কলেজে ঢুকতে পারিনা। আমার রুমটাও ওরা তালা মেরে রেখেছে। মুলতঃ ওরাই আওয়ামী লীগের দোসর। তিনি আরো বলেন, আমি ৫ আগস্টের পর মুগ্ধ ও আবু সাইদের ছবির প্যানা দিয়ে ম্যুরালটি ঢেকে দিয়েছিলাম। ওরাই আমাকে কালারিং করার জন্য ঐ প্যানাটা খুলে ফেলায়। এখন স্থায়ীভাবে ম্যুরালটি ভাংগার জন্য আমাকে তো স্কুলে যেতে হবে। আমি স্কুলে যেতে না পারলে কিভাবে কি করবো বলেন। ওরাতো টিচার ওরাতো ওখানে স্থায়ীভাবে কিছু করতে পারবেনা। আমাকে ওখানে যেয়ে ঐ ম্যুরালটি স্থায়ীভাবে মোছা বা সরানোর ব্যাবস্থা করতে হবে।

