আগাম আলু চাষে খ্যাত উত্তরের জেলা নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ, ডোমার, জলঢাকা ও সদরের বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে সবুজে সমারোহ। চাষ হচ্ছে সেভেন ও বগুড়ার রোমানা জাতের আলু। পড়েছে আলু উত্তোলনের ধুম। তবে লাভের আশায় অনেক চাষী সময়ের আগে ভাগেই উত্তোলন করছেন আলু। একারণে ক্ষাণিকটা ফলন কম হলেও বাজারে দাম চড়া। প্রতি কেজি নতুন আলু জমিতে বিক্রি হচ্ছে ৮০থেকে ১০০ টাকা। কৃষকরা বলছেন, এবছর বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বেশী থাকায় বিঘা খরচ গুনতে হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ পুষিয়ে নিতে ভালো দামের আশায় আছেন তারা। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭হাজার ৮’শ হেক্টর জমি। যা ছাড়িয়ে ৪৫ হেক্টর জমি বেশী আবাদ হয়েছে। ১৯ নভেম্বর থেকেই সীমিত পরিসরে আলু উত্তোলন শুরু করা হয়েছে। তবে দু’চারদিনের মধ্যেই পুরোদমে আলু উত্তোলন হবে বলে দাবী সংশ্লিষ্টদের। জলঢাকা উপজেলার কাঠালী ইউনিয়নের দক্ষিণ দেশীবাই এলাকার কৃষক জাবেদ আলী বলেন, এবছর শুরু থেকে আলুর বীজের দাম অনেক বেশী। এছাড়াও সার ও কীটনাশকে দাম বেড়ে হয়েছে দ্বিগুন। ফলে আলু আবাদে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। আর আগাম আলুতে উৎপাদন কম। এ কারণে আলুর দাম একটু চড়া। কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, আগাম আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। বর্তমানে রোমানা জাতের আলুর দাম একটু বেশী। বাজারে সেভেন আলু শুরুর দিকে বিক্রি করা হয়েছে ১১০ থেকে ১৭০ টাকা। এখন এই আলু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তবে এই আলুর দাম আস্তে আস্তে কমে যাবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর উৎপাদন খরচ বেশী। তাই অধিক লাভের আশায় পরিপুরক হওয়ার আগেই অনেকেই আলু তুলছেন। এতে ক্ষানিকটা উৎপাদন কম হলেও বেশী দামে বিক্রি করে পুষিয়ে নিচ্ছেন তারা। তবে ৬০ থেকে ৬২ দিন সময় নিয়ে আলু উত্তোলন করলে বাড়বে উৎপাদন, কমবে দাম।

