হিমালয় থেকে বয়ে আসা ঠান্ডা বাতাসে গত এক সপ্তাহ ধরেই উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীত পড়তে শুরু করেছে। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এটি ছিলো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ তথ্য নিশ্চিত করেন তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক জিতেন্দ্র নাথ রায়। এর আগে গতকাল সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোদের কারণে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শীতের তেমন দুর্ভোগ ছিল না। তবে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় কনকনে শীত। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, সোমবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। দিনে গরম আর রাতে ঠান্ডার বৈরি আবহাওয়ায় বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। বিশেষ করে বয়স্ক আর শিশুরা সর্দি, জ্বর, কাশি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। স্থান সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতালের বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। পঞ্চগড়ের স্থানীয়রা জানান, দিনে ঝলমলে রোদে স্বস্তি মিললেও রাতের শীতে কাবু হতে হচ্ছে। বিকেলের পর শীতের পোশাক পরতে হচ্ছে। দিনের বেলা কিছুটা গরম আর রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ার এই তারতম্যে জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। এদিকে ঠান্ডাজনিত রোগের কারণে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে গড়ে প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১২০০ রোগী জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত নানা রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া প্রতিদিন গড়ে শতাধিক শিশু ও বয়স্ক রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের নার্স নিশিতা রায় বলেন, শীতের কারণে হঠাৎ করেই শিশু রোগীর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। জনবল সংকটের কারণে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মাহবুবুর রহমান বলেন, নানা বয়সী মানুষ সর্দি-কাশি, জ্বর নিয়ে আসেন। হাসপাতালে ভর্তি কম হলেও আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক রোগী। রোগীর সংখ্যা প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে।

