খুলনা মহানগরীর গল্লামারী লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজে এখনো ঝুঁলছে বাকশালের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। এ কেমন কথা। দেখে মনে হয় আওয়ামী লীগ এখনো বুঝি ক্ষমতায়। ময়লাপোতা থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় যেতে গল্লামারী মোড় এলাকায় লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের ওয়ালে ঝুলছে শেখ হাসিনার পিতা বাকশালের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। গণঅভ্যূত্থানের পর সব যায়গা থেকে আওয়ামী লীগের দোসররা পালালেও লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এখনো কেউ পালায়নি। এখনও খুঁটি গেড়ে নির্ভয়ে বসে আছে আওয়ামী লীগের দোসররা। যার প্রমাণ গণঅভ্যূত্থানের ৩ মাস পরও লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের মেইন গেটের সামনে বাকশালের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। প্রশ্ন থেকে যায়, এখনও ম্যুরালটি কেউ মুছে দেয়নি কেন? যা খুবই দুঃখজনক। খুলনা বাসীর জন্য লজ্জাজনক। অনুসন্ধানে জানা গেছে , লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের সামনে বসানো বাকশালের নায়কের ম্যুরালটি বানিয়েছিলেন স্কুলের সাবেক সভাপতি ও ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু । এছারাও এ কাজে জড়িত ছিলেন লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোঃ বাদশা খান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক গাউস শিকদার। এ ম্যুরালটি বানাতে মোট ৯ লাখ ৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানা যায়। যা লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের দাতা সদস্যদের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে নেওয়া হয়েছ। এ ম্যুরালটি নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে বিস্তর। এ ম্যুরালটি বানাতে লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক সভাপতি ও ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু ব্যাপক চাঁদাবাজি করেছে খুলনা নগরীতে। তখন কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনি। তবে এখন সবাই মুখ খুলছে। আরেকটি সুত্র জানায় , এ ম্যুরালটি বানাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে জোর করে টাকা নিয়েছে। না দিলে তাদের স্কুলে ঢুকতে দেবে না। এমন কি মারার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ম্যুরালটি বানানোর জন্য চাঁদা দিয়েছে। লায়ন্স স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের চাঁদা দিতে হয়েছে। শুধু তাই নয় স্কুলের শিক্ষকদেরও চাঁদা দিতে হয়েছে। চাঁদা না দিলে তাদের চাকরী থাকবে না বলে স্কুল সভাপতি ও কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোঃ বাদশা খান প্রথমে অসিকার করলেও পরে দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সব জানে স্কুলের সাবেক সভাপতি ও ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু। এ ম্যূরালটি বানাতে মোট ৯ লাখ ৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলেও তিনি জানান। বেশির ভাগ টাকা স্কুলের দাতা সদস্যদের কাছ থেকে টিপু নিয়েছেন বলে তিনি জানান। আমি ৫ হাজার ২০০ টাকা খরচ করে প্যানা করে ঐ ছবির উপরে মুগ্ধের ছবি লাগিয়ে দিয়েছিলাম। আমাকে কালারিং করার জন্য স্কুলের দুই-তিন জন টিচার ঐ প্যানাটা খুলে ফেলান। আমি ঐ ধরনের মানুষিকতার লোক না। আমার জীবনে আমি পাঁচ পয়সা খাই নাই। ফুল বাগান ও ম্যুরালটি বানাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদা কালেকশন করে ৯ লাখ ৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এই টাকা কিন্তু আমাদের স্কুলের না। তার মধ্যে দাতা সদস্যদের লাখ টাকা আছে। সেই টাকাটা স্কুল সভাপতি আলী আকবর টিপু সরাসরি নিছে। উনি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। এটা রেজুলেশন করা। কমিটি দিয়ে পাশ করায়ে আমার হাতে দিয়ে দিয়েছে খরচ গুলো। ২ লাখ ৭৩ হাজার উনি বিভিন্ন জায়গা থেকে নিছে। জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসক থেকে টাকা নিছে। সেই সময় বলেন আমার কি করার ছিল। ম্যুরালটি বানাতে স্কুল সভাপতি ও কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু স্কুলের ফান্ডের থেকে কোন টাকা নেয়নি বলে প্রধান শিক্ষক জানান। আমি সুযোগ পাইলে প্রথমেই ঐ ছবিটা সরাবো। ৫ আগস্ট ২৪ এর পর আমি স্কুলে যেতে পারি না। আমিই মুগ্ধর প্যানা দিয়ে মুজিবের ছবিটা ঢেকে দিয়েছিলাম। তবে স্কুলের দুই-তিন জন টিচার আছে যারা আমাকে দোষী বানানোর জন্য ঐ প্যানাটা খুলে ফেলায়। খুলনার ঐতিহ্যবাহী লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের মেইন গেটের সামনে বাকশালের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যূরালটি মুছে ফেলানোর জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সচেতন খুলনাবাসী।

