নিজস্ব প্রতিবেদক : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরের শ্রমিকদের মাঝে সিলোকোসিস রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত্যু যেন তাদের পিছু ছাড়ছে না। এরই ধরাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আব্দুর রশিদ (৩২) নামে আক্রান্ত আরও এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। আব্দুর রশিদ পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের উফারমারা এলাকার ফজলুল হকের ছেলে।
সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত শ্রমিকদের লাশের মিছিলে আব্দুর রশিদসহ গত ৪ বছরে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পরও রোগীরা রোগমুক্ত হতে পারছেন না। এতে রোগীদের মাঝে মৃত্যু আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহত আব্দুর রশিদের বাবা ফজলুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, একেতো বাবার হাতে ছেলের লাশ, অপর দিকে তার রেখে যাওয়া শিশু সন্তান ইরা মনি (৭), মনিরা (৫) নামে দুই নাতনী। সেইসঙ্গে শেফালি বেগম (২৫) ছেলের বউয়ের সংসারের ঘানি টানতে হচ্ছে।
নিহত আব্দুর রশিদের সহকর্মী শ্রমিক মতিউল ইসলাম বলেন, ‘আব্দুর রশিদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ১৪ জন শ্রমিক সিয়াম অ্যান্টারপ্রাইজের পাথর ক্রাসার মেশিনে কাজ করেছিলাম। এরমধ্যে ১৩ জনই মারা গেছে। এখন আমিই শুধু ওই গ্রুপের একমাত্র সদস্য হিসেবে বেঁচে আছি। আমিও অসুস্থ্য কবে মারা যাই কোনো ঠিক নেই।’
বুড়িমারী স্থলবন্দর শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রশিদ বুড়িমারীতে অবস্থিত সিয়াম অ্যান্টারপ্রাইজ নামের একটি কারখানায় পাথর ক্রাসিংয়ের কাজ করতেন। প্রায় তিন বছর ধরে এ কাজ করে আসছিলেন তিনি। পাথর ক্রাসিংয়ের সময় উড়ন্ত ধুলা নাক-মুখ দিয়ে শরীরে ঢুকে সিলিকোসিস রোগের জন্ম দেয়। আব্দুর রশিদ ছাড়াও প্রায় চার বছরে আরো দেড় শতাধিক শ্রমিক এ রোগে আক্রান্ত হন। ঢাকার বিলস নামের একটি সংগঠন এসব রোগীকে সনাক্ত করে। বাংলাদেশের মধ্যে বুড়িমারী স্থলবন্দরেই প্রথম এ রোগটি সনাক্ত করা হয়। এ পর্যন্ত ৬৭ জন সিলিকোসিস রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যু আতঙ্কে রয়েছেন আরো প্রায় শতাধিক শ্রমিক।

