বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের সময় গুলি বিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হয়েছেন কলেজ শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান (১৭)। গত ৫ আগস্ট আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছোড়া রাবার বুলেট তার শরীরের বিভিন্ন অংশে বিদ্ধ হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ যা তার দরিদ্র অসহায় বৃদ্ধ রিকশাচালক পিতা কোনোভাবেই জোগাড় করতে পারছেন না। হাফিজুরের পিতা এক সহজ সরল বৃদ্ধ রিকশাচালক। সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে সাহায্যের আশায় বিভিন্ন স্থানে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তবে কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি তার পাশে দাঁড়ায়নি। অবশেষে নিরূপায় হয়ে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে সাহায্যের আবেদন করেন ২১ নভেম্বর তারিখে। জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন জানিয়ে হাফিজুরের পিতা বলেন, আমার সন্তানের জীবন বাঁচানোর জন্য যা যা করার প্রয়োজন, আমি সব করতে রাজি। কিন্তু অর্থের অভাবে আমি অসহায়। আপনাদের সাহায্যই এখন আমার শেষ ভরসা। জেলা প্রশাসকের কাছে থেকে এখনও এই অসহায় পিতা কোন সাহায্যের আশ্বাস পায়নি। তবু ও আশায় বুক বেঁধে রেখেছেন বৃদ্ধ রিক্সা চালক পিতা। গুলি শরীরের বিভিন্ন অংশে থাকায় ব্যথায় কোন কাজ করতে পারছে না। সবচেয়ে বেশি অসুবিধা হয় রাতে ঘুমানোর সময়। তখনই গুলি বিদ্ধ জায়গা গুলো বেশি ব্যথা অনুভুত হয়। বৃদ্ধ রিক্সা চালক বাবার আশা জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিবেন। এদিকে হাফিজুরের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও দাতব্য সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে গরীব বৃদ্ধ রিক্সা চালক বাবা অনুরোধ করে বেড়াচ্ছেন। তার স্বাভাবিক জীবন ফেরাতে দ্রুত সহযোগিতা ও অপারেশন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

