ঢাকাThursday , 28 November 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আজ ২৯ নভেম্বর ঐতিহাসিক পঞ্চগড় হানাদার মুক্ত দিবস

Link Copied!

আজ ২৯ শে নভেম্বর ঐতিহাসিক পঞ্চগড় মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলার বীর মুক্তিসেনারা ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সহায়তায় পঞ্চগড়কে পাকসেনাদের কবল থেকে দখলমুক্ত করতে সমর্থ হয়। সম্মিলিত আক্রমণে টিকতে না পেরে পালিয়ে যায় পাকসেনারা। অনেক মুক্তিযোদ্ধার তাজা রক্তের বিনিময়ে মুক্ত হয় পঞ্চগড়। পঞ্চগড়ের মাটিতে পাকিস্তানের পতাকা জ্বালিয়ে দিয়ে উড়ানো হয় বাংলাদেশের পতাকা। চারপাশে ধ্বনিত হয় ‘জয় বাংলা’। তাই ২৯ নভেম্বর পঞ্চগড় দখলমুক্ত করার যুদ্ধে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে স্মরণীয় একটি দিন। গত এক দশক ধরে মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা প্রশাসন এই দিনটিকে পঞ্চগড় মুক্ত দিবস হিসেবে উদযাপন করে আসছে। এবারও দিবসটি নানা আয়োজনে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসের শুরু থেকেই কার্যত মুক্তিবাহিনীর চতুর্মূখী আক্রমণের তীব্রতার মুখে পঞ্চগড় শহর থেকে অমরখানা ও তালমার মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পাক বাহিনী। পঞ্চগড় এলাকায় তারা তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে। তবে মুক্তিযোদ্ধারা চাওয়াই সেতু ডিনামাইট চার্জ করে উড়িয়ে দেয়ায় তারা তেঁতুলিয়াতে প্রবেশ করতে পারেনি। পুরো তেঁতুলিয়া ছিলো মুক্তাঞ্চল। নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ পঞ্চগড়ে পাকসেনাদের সংখ্যা ছিলো প্রায় ১ ব্যাটালিয়ন। নভেম্বর মাসের শুরুতেই মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে পঞ্চগড়ে পাক সেনাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাটি অমরখানা ও পরে জগদল ছেড়ে পঞ্চগড়ের দিকে সরে আসে খানসেনারা। ২৮ নভেম্বর রাতে পঞ্চগড় চিনিকল এলাকায় পাকসেনাদের ঘাটি দখল করতে যুদ্ধ শুরু করে মুক্তিবাহিনী। সাথে যোগ দেয় ভারতীয় মিত্র বাহিনী। রাতভর চলে গোলাগুলি। যৌথ বাহিনীর প্রবল আক্রমণে ভোরের দিকে চিনিকল ঘাটি ছেড়ে খান সেনারা ময়দানদিঘী ও ঠাকুরগাঁয়ের দিকে পালিয়ে যায়। পরদিন ভোরের আলো ফুটতেই জয় বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত হয় চারপাশ। তবে তখনো বাংকারগুলো আগুণ জ¦লছিল। এদিকে মুক্তিযোদ্ধারা লক্ষ্য করলেন সুগারমিল চত্বরে পাকিস্তানি পতাকা উড়ছে। তরুণ বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুণ অর রশিদ এই দৃশ্য সহ্য করতে না পেড়ে পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে জ¦ালিয়ে দেন। পরে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করতে গেলে আহত এক খানসেনার গুলির আঘাতে শহীন হন বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুণ অর রশিদ রবি। বিজয়ের আনন্দ মুহুর্তেই মিলিয়ে যায়। পঞ্চগড় মুক্ত করার যুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অন্তত ২৫০ জন হতাহত হয়। পাকসেনাদের মধ্যে ২০০ জন হতাহত হয় এবং ২৭ জনকে জীবিত আটক করা হয়। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবেত আলী বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ঐতিহাসিক পঞ্চগড় মুক্ত দিবস পালিত হবে ২৯ নভেম্বর। দিবসটি উপলক্ষে আমরা আলোচনাসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।