ঢাকাMonday , 25 November 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মাদারীপুুরে প্রথম শহীদ কলেজ শিক্ষার্থী দীপ্ত দে’র মায়ের আকুঁতি

Link Copied!

‘‘আমি একটা অভাগী মা, যে ছেলেকে ধরে রাখতে পারলাম না” আমার ছেলে বলেছে,বাঁচাও বাচাঁও কেউ ওকে উঠলো না-এমন আকুতি করেই ফ্যাল ফ্যাল কেঁদে ফেললেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মাদারীপুরে প্রথম শহীদ মাদারীপুর সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র দিপ্ত দে’র মা মনিকা দে। তিনি আরো বলেন, ওর বাবা ( স্বপন কুমার দে) চাকুরী থেকে অবসর নেওয়ার পর তেকেই স্বপ্ন ছিল সংসারের হাল ধরার জন্য বিদেশে পাড়ি দেবে। সেই বিদেশেতো গেলোই আমাদের মাঝে ছবি হয়ে রইলো। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বিলাপ করতে লাগলো ওরা আমার কলিজাটাকে মেরে ফেললো কেনো ওর হাত-পা ভেংঙ্গে দিতো । দরকার হলে ভিক্ষা করে খেতো কিন্তু ওভাবে পুকুরে ফেলে দিয়ে মারলো কেনো। জানাগেছে, দীপ্ত দে ফ্রিল্যান্সিং মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ করে তোলার চেস্টায় অব্যহত ছিল এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকার একটি কাজও পেয়েছিল । কিন্ত গত ১৮ জুলাই মোবাইলে টাকা ঢুকানোর কথা বলে বাহিরে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে মিছিলে সামিল হন। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মাদারীপুর শহরের ডিসিব্রিজ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় ছাত্রলীগ, পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দিপ্ত দে সহ বহু শিক্ষার্থী প্রাণ বাঁচানোর জন্য শকুনী লেকের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। লেকের ভিতরে ঝাপিয়ে পড়া সকল শিক্ষার্থী সাঁতরিয়ে উঠতে পারলেও পানিতে ডুবে যায় দিপ্ত দে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস কয়েক ঘন্টা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে দুপুর একটার দিকে দীপ্তর মরদেহ উদ্ধার করে। কোটা বাতিলের দাবিতে দীপ্ত মারা যাওয়ার পরে ঐ সময় দিপ্তর পরিবারকে একটি প্রভাবশালী মহল বোলরাম মন্দির সংলগ্ন ভাড়া বাসা ছেড়ে চলে যেতে বললে দিপ্তর পরিবার শহরের চরমদন রায় শহীদ হারুন সড়কে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। সরকারীভাবে এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য পাননি তবে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর পক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা অনুদান পেয়েছেন বলে জানান দীপ্ত দের মা মনিকা দে। ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে যাওয়া দীপ্তের মা’র দু’চোখ বেয়ে পানি পড়লেও চিৎকার করে কাঁদতে পাড়ছে না মা। ছেলের পুরনো স্মৃতি ছবি নিয়ে আকড়ে ধরে শুধুই কাঁদছেন তিনি। ফাঁকা পরে আছে দীপ্তের রুমে খাট বিছানা, কম্পিউটার, বইখাতা। ছেলের রেখে যাওয়া স্মৃতি নিয়েই পড়ে থাকেন দীপ্তের পরিবার, কেউ আসলে আরও ভেঙ্গে পড়েন। মনে করেন ছেলে দিপ্ত মনে হয় দরজায় টোকা দিচ্ছে। ছোট ভাই হেমন্ত দে চলতি বছর এইচএসসি পাশ করেছে। মাদারীপুর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হয় সেখানে সর্বপ্রথম শহীদ হন দীপ্ত। আমরা এই শকুনী লেকপাড়ে তার নামে একটা ভিত্তিস্থাপনা তৈরি করতে চাই এবং যারা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের অতি দ্রুত বিচারের দাবী জানাই। মাদারীপুরে ছাত্র আন্দোলনে প্রথম শহীদ হন দীপ্ত দে। তার নির্মম হত্যার বিচার অতি দ্রুত করার জন্য দাবী জানিয়েছে মাদারীপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র জনতা।