ঢাকাWednesday , 20 November 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনায় ফিরতে শুরু করেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সন্ত্রাসীরা

Link Copied!

আওয়ামী লীগকে বারবার ফ্যাসিস্ট বলা পছন্দ করি না’-বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের আমিরের এই কথাটির মতো হয়তো খুলনার পুলিশ ও বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট বলা পছন্দ করে না। তাই আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছে ফ্যাসিস্টের সহযোগীরা। এ কেমন খুলনা ! এ কেমন স্বাধীনতা ! এ কেমন গণঅভ্যুত্থান! এসব প্রশ্ন করাই যেন অবান্তর। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল এই স্বাধীনতা যেন ফ্যাকাশে লাগছে খুলনার পুলিশ, বিএনপি ও জামায়াতের বর্ণচোরা আচরণ দেখে। এ কেমন কথা, সবাই কেমন যেন খেইল হারিয়ে ফেলছে দিনকে দিন। তারা যেন ভুলেই গেছে গত ১৬ বছরের হামলা মামলার কথা। এখনও রাজপথে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ও ১২ জোটের বিরুদ্ধে একাই লড়াই করে যাচ্ছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনার নেতাকর্মীরা। আর সবাই বরাবরের মতো খেলা দেখছে। দায়সারা একটা ভাব সবার মধ্যে। এমন স্বাধীনতা ছাত্ররা হয়তো চায়নি। গণঅভ্যুত্থানের ৪ মাস চলছে। এখনো রক্তের দাগ শুকায়নি খুলনার রাজপথ থেকে। এখনো ঘরে ঘরে কান্না। আজও আহত শিক্ষার্থীরা কাতরাচ্ছে হাসপাতালে। ৫ আগস্টে আহত শিক্ষার্থীরা এখনও মারা যাচ্ছেন। অথচ খুলনায় ফিরতে শুরু করেছে স্বৈরাচার হাসিনার রক্তপিপাসু নেতাকর্মীরা। গত ৫ আগস্টের পর পালিয়ে থাকা খুলনা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বিনা ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের কেসিসি ওয়ার্ড কাউন্সিলরা আবার ফিরতে শুরু করেছে নিজ ঘরে। অনেকে আবার বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ঘরে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা যায়। যা নিয়ে খুলনায় দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। মামলা থাকার পরও তাদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ। কেউ তথ্য দিলেও পুলিশ তাদের তল্লাশি বা গ্রেফতার করছে না। অদৃশ্য শক্তির ইশারায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এখন অনেকটা চাঙ্গা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনায় আ’লীগকে পুনর্জন্ম দেওয়ার জন্য দায়ী জামায়াত ও বিএনপি। জামায়াত নিরবে তাদের সাংগঠনিক ভাবেই সিলেবাস অনুসারে কর্মী বানাচ্ছে। খুলনার প্রায় প্রতিটা ওয়ার্ডে মাসে ১০ থেকে ১৫ জন করে আওয়ামী লীগ কর্মী নিজেদের কর্মী ঘোষণা করছে। পিতা জামায়াত করে তাই তার যুবলীগ ছেলেকে বাঁচানোর জন্য জামায়াত কর্মী ঘোষণা করছে বলেও সূত্র জানায়। খুলনা মহানগরীতে জামায়াতের পাশাপাশি তাদের ছাত্র সংগঠন শিবিরেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দলে দলে যোগ দিচ্ছে বলেও একটি সূত্র জানায়। জামায়াত ও শিবিরের মিছিলের আগে দেখা যায় এখন নতুন মুখ। আ’লীগের প্রতি যাদের দুর্বলতা আছে, আর যাই হোক তাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়! এমনটাই মনে করেন খুলনার সচেতন মহল। এছারা ৫ আগস্টের পর থেকে খুলনার জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পান থেকে চুন খসলে রাস্তা ঘাটে সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে তারা। ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াত নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া দেখালে তাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে শিবিরের নেতাকর্মীরা। এমন কি গায়ে হাত দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। ফেসবুকে কেউ কমেন্ট করলে তাকে দেওয়া হচ্ছে হুমকি। গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বেদকাশী কাঁচারি বাজার জামায়াত কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট দেওয়ায় খুলনার কয়রায় এক স্কুল শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধর ও হেনস্তা করে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা। ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম বিএম হুমায়ুন কবির। তিনি বেদকাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। এলাকায় খোঁজ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তিনি প্রায় ফেসবুকে হাস্যরস মূলক পোস্ট দেন। ২০২৩ সালে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থপাচার নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাদের রোষানলে পড়েন তিনি। শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগকে বারবার ফ্যাসিস্ট বলা পছন্দ করি না’- জামায়াত আমিরের এই কথাটি আমার ভালো লাগেনি। তাই আমি ফেসবুকে পোস্টটি দিয়েছিলাম। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, খুলনা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটি দেওয়া হচ্ছে। এখানে বঞ্চিত হচ্ছে খুলনা বিএনপির ত্যাগি নেতাকর্মীরা। যে ফ্যাসিস্ট খুনি আওয়ামী লীগ বিগত ১৬ বছর ধরে খুলনা বিএনপির নেতাকর্মীদের জেল জুলুম আর হত্যা করেছে সেই দলের দোসরদের দিয়ে খুলনা মহানগরীর প্রায় প্রতিটা ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কয়েকটি ওয়ার্ড ছাড়া বেশিরভাগ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দোসরদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ খুলনা মহানগর বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা। সোনাডাঙ্গা বিএনপি নামে একটি ফেসবুক আইডিতে প্রায় প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে এ বিষয়ে লেখা হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির সদ্য ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীদের ঘনিষ্ঠতার ছবিও পোস্ট করা হচ্ছে। গত ৩ দিন আগে সোনাডাঙ্গা বিএনপি ফেসবুক আইডির পোস্টটি ছিলো ‘খুলনা মহানগর বিএনপির রাজনীতি কলঙ্ক এবং এতো পরিমাণে আওয়ামী লীগের লোক দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে তা ইতিহাস হয়ে থাকবে এই মনা আর তুহিন নাকি বিএনপি তারেক সাহেবের কাছ থেকে পারমিশন নিছে এটা কি সত্যি’। যে ফ্যাসিস্ট খুনি আওয়ামী লীগের লোক ১৬ টা বছর কত জেল জুলুম আর হত্যা করছে মানুষকে ঘুমাতে দেয়নি সেই দলের দোসরদের দিয়ে খুলনা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করে এই মনা আর তুহিনের বিচার কি খুলনার জনগণ পাবে না।’ ৯ নভেম্বর একই আইডিতে পোস্ট-কি সংবাদ আসতে শুরু হলো আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই খুলনাবাসী। কেন আওয়ামী লীগের দোসর দালালদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলো দক্ষিণ বাংলার অভিভাবক রকিবুল ইসলাম বকুল ভাইয়ের কাছে অনুরোধ এগুলো দেখেন, বিএনপি শেষ করে দিবেন, এরা নাকি ৩০ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক ছগিরও লিটন।’ ৪ নভেম্বরের একই আইডিতে পোস্ট- সোনাডাঙ্গা বিএনপি নামে ফেসবুক আইডিতে, প্রিয় দেশ নায়ক তারেক রহমান ও জনতার নেতা বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল ভাইয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করছি অনুগ্রহ করে দলকে বাঁচান। ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার অবৈধ নির্বাচনে খুলনার ৩০নং ওয়ার্ডের ভোট ডাকাতির জেলা প্রশাসকের সহযোগী রায়হান ফরিদের সহচর আওয়ামী লীগের সদস্য সওগাতুল ইসলাম সগির কিভাবে ৩০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলো-এটা জানতে চায় খুলনাবাসী। বকুল ভাইয়ের কাছে বলবো অনুগ্রহ করে আওয়ামী লীগ মুক্ত সমাজ গড়ুন।যোগ্য লোককে যোগ্য স্থানে বসান এটাই জনগণের দাবী। টাকার বিনিময় আওয়ামী লীগ বিএনপিতে পদ পায়। এভাবেই আকুতি করছে খুলনা মহানগরীর পদ বঞ্চিত বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা। খুলনা মহানগরীর পদ বঞ্চিত এক কর্মী তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছে, ‘আমার ভাই তোমার ভাই ১৬ বছর খবর নাই, এখন করে খাই খাই। দল বিপদে পড়লে আবার দেখবেন তারা নাই।’ একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, খুলনায় কোন একটি দলের ছত্রছায়ায় আবার ফিরতে শুরু করেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। তারা মিশে গেছে সেই দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হাটঘাট, মাঠও দখল। তাদের আবার বড় নেতাদের বাসায় নির্বিঘ্নে ঘুমানোর ব্যবস্থাও রয়েছে নিজেকে শক্তিশালী করার জন্য।ইতিমধ্যে সোনাডাঙা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দেখা গিয়েছে খুলনার রাজপথে। যুবলীগের সভাপতি শফিকুর রহমান (পলাশ) ও সাধারণ সম্পাদক শেখ সুজন এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে খুলনার রাজপথ। সাবেক কেসিসির ২৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফকির সাইফুল, ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ডন ২৫ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর আলি আকবর টিপুসহ সকল সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা কাউন্সিলাররা এখন সংঘবদ্ধ হচ্ছে। ১ থেকে ৩১ টি ওয়ার্ডের মধ্যে আওয়ামী লীগ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ড জড়িতরা এখন একটি দলের ছত্র ছাড়ায় গাঁজা ফেনসিডিল হিরোইন ইয়াবাসহ সকল প্রকার নেশা জাতীয় দ্রব্য বিক্রি করে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে বলে জানা যায়। পাশাপাশি চাঁদবাজী চলছে হার হামাশা। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না। খুলনা মহানগরীর অলিতে-গলিতে এখন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের আগের মতোই দেখা যায়। পুলিশের আচরণ সন্দেহজনক, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের নামে একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি মামলা থাকলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। তাই এসব চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে খুলনা শহরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের দেখে মনে হয়না যে কয়দিন আগেই দেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। পুলিশকে কোন অভিযোগ বা তথ্য দিলে তা আমলে নেয় না। তারা মনে করেন এখনো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। শেখ হাসিনা আবার ফিরে আসবেন-এমন মনোভাব প্রকাশ পায় পুলিশ কর্মকর্তাদের আচরণে।গণঅভ্যুত্থান হয়েছে কিন্তু খুলনা পুলিশের মধ্যে কোন পরিবর্তন এখনো আসেনি। আওয়ামী লীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সাথে অনেক পুলিশ কর্মকর্তাদের চা খেতে দেখা গেছে খুলনা শহরে। এক কথায় খুলনায় পুলিশ, বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগ জোট মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে।