ঢাকাWednesday , 20 November 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত শিশুরা রংপুর শিশু হাসপাতালের বর্ণিল অবকাঠামো এখন ভুতুরে বাড়ি

রংপুর ব্যুরো
November 20, 2024 9:51 pm
Link Copied!

রংপুরে বৈষম্যের আর এক নির্মম চিত্র রংপুর শিশু হাসপাতাল। নির্মাণ কাজ শেষে ভবন হস্তান্তরের সাড়ে ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বহুল কাঙ্খিত এবং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ১০০ শয্যার বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গ শিশু স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় এখন অনিশ্চিয়তার প্রহর গুনছে। স্বাস্থ্য সেবা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত রয়েছে রংপুর অঞ্চলের শিশুরা। দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত থাকায় হাসপাতালটিতে বর্ণিল অবকাঠামোগুলো এখন ভুতুড়ে বাড়ির পরিবেশ বিরাজ করছে। এর অন্যান্য সামগ্রীও ক্রমান্বয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, রংপুর শিশু হাসপাতালের কাক্সিক্ষত শিশুস্বাস্থ্য সেবা আলোর মুখ দেখবে কবে? ইতিমধ্যে হাসপাতালটি নির্মাণের সাড়ে ৫ বছর পেরিয়ে গেছে আবার উদ্বোধনের দেড় বছর অতিবাহিত হয়েছে। তারপরেও রংপুরে শিশু হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা থেকে এই অঞ্চলের শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে ।
সরেজমিন হাসপাতাল চত্বরে ঘুরে দেখা গেছে, বর্ণিল সাজে সজ্জিত রংপুর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল ভবনে যেন নির্জন এক ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে এখানে সীমিত সেবায় বর্তমানে কেবল বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। এ জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন আবাসিক চিকিৎসক, ৪ জন নার্স এবং নিরাপত্তা প্রহরীরা কর্মহীন অলস সময় পার করছেন। এই চত্বরে শিশুদের জন্য নির্মিত বিভিন্ন খেলার জমকালো রাইডগুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় এর অবকাঠামোসহ অন্যান্য সামগ্রী ধুলায় মলিন অবস্থায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জানা যায়, প্রায় ২ কোটির অধিক জন অধ্যুষিত রংপুর বিভাগের শিশুদের বিশেষায়িত স্বাস্থ্য সেবার লক্ষ্যে রংপুর মহানগরীর প্রাণ কেন্দ্রে পুরাতন সদর হাসপাতাল চত্বরের প্রায় ১ দশমিক ৭৮ একর জমির উপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সাড়ে ৫ বছর আগে রংপুর শিশু হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। সে সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হাসপাতালটির ভবনগুলো হস্তান্তর করেন। এরপর করোনার ডামাডোলে এখানে শিশুদের চিকিৎসা সেবার কার্যক্রমের উদ্যোগ বন্ধ রেখে এটিকে করোনার বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে করোনার প্রাদুর্ভাব অনেক আগেই মুছে গেলেও অজ্ঞাত কারণে শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম আজও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সাবেক ’স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ১০০ শয্যার এই শিশু হাসপাতালটির ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধন করেন। এর দেড় বছরেও হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়নি। এই অঞ্চলের মানুষ আশায় বুক বেঁধে ছিল যে এবারে শিশু হাসতালটির স্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম আলোর মুখ দেখবে। তবে সে আশা এখন অফুরন্ত অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছে। এখন পর্যন্ত এর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংযোগ কিংবা প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করে শিশুদের স্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম শুরু করা হয়নি। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে পুরাতন সদর হাসপাতাল চত্বরের প্রায় ১ দশমিক ৭৮ একর জমির উপর প্রায় সাড়ে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর এই শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর নির্মাণ কাজ ২ বছর সময় বেঁধে দেয়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ সম্পন্ন করেন। ২০২০ সালের ৮ মার্চ হাসপাতাল ভবনটি রংপুর জেলা সিভিল সার্জনের নিকট হস্তান্তর করা হয়। নব নির্মিত এই শিশু হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ৩ তলা বিশিষ্ট মূল হাসপাতাল ভবনের প্রতি তলায় ২০ হাজার ৮৮২ বর্গফুট আয়তনসহ মোট ৬২ হাজার ৮৪৬ বর্গফুট আয়তনের হাসপাতালের প্রথম তলায় জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ডাক্তারদের চেম্বার ও প্যাথলজিক্যাল ল্যবরেটরির ব্যবস্থা রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার, ব্রোন ইউনিট এবং তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ড এবং কেবিনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া এখানে ৬ তলা বিশিষ্ট ডাক্তারদের আবাসিক ভবন এবং স্টাফ ও নার্সদের আবাসিক ভবন, তিন তলা বিশিষ্ট সুপারিনটেনডেন্ট কোয়ার্টার, ২ তলা বিশিষ্ট গ্যারেজ কাম ড্রাইভার কোয়ার্টার, কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম, বিদ্যুৎ সাব ষ্টেশন, পানি ও পয়ঃ নিস্কাশন ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সড়ক তৈরি করা সহ আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। রংপুর শিশু হাসতালটি চালু হলে এখানে রংপুর অঞ্চলের শিশুদের বিনামূল্যে জটিল অপারেশনসহ বিশেষায়িত উন্নত চিকিৎসা সেবার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প অন্তর্ভূক্ত অবকাঠামোগুলো নির্মাণের পর করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে সে সময় এই হাসপাতালটিকে করোনা ডিটেকটিভ হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং শূন্যের কোঠায় নেমে এলেও রহস্যজনকভাবে দীর্ঘ দিনেও শিশু হাসতালের প্রয়োজনীয় জনবল এবং শিশু স্বাস্থ্য সেবার যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়নি। এর ফলে রংপুর অঞ্চলের শিশুদের জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছুটতে হচ্ছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সীমাবদ্ধ পরিসরে বর্তমানে এই অঞ্চলের শিশুদের চিকিৎসা সেবায় প্রয়োজনীয় জনবলসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। এ কারণে এখানে শিশুদের মান সম্মত স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে রংপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার রুহুল আমিন বুলেট এই প্রতিবেদককে জানান, জুলাই মাসে রংপুরে যোগ দেয়ার পর ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চালুসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভন্ন বিষয়ের সমস্যার ব্যাপারে গত ১৭ অক্টোবর/২৪ মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে অভিহিত করা হয়। এর প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী এসবের বাস্তব চালচিত্র সম্বলিত একটি পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে গত ৫ নভেম্বর অধিদফতরে প্রেরণ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় এর অবকাঠামোসহ অন্যান্য সামগ্রী ক্রমান্বয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং জনবল পাওয়া গেলেই এটি চালু করা হবে।