বাগেরহাটে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে আপন বড় ভাই ও তার পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে সম্পত্তি দখল, স্বর্ণালংকার লুট ও জোরপূর্বক অর্ধ কোটি টাকার গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ঘনশ্যামপুর গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম বাচ্চু তার স্বর্ণালংকার ও গাছ বিক্রয়ের অর্থ ফেরত পেতে ফকিরহাট মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। জাহিদুল ইসলাম বাচ্চু ঘনশ্যামপুর গ্রামের মৃত্যু সাখাওয়াত আলী ফকিরের ছেলে। ভুক্তভোগী তার অভিযোগে জানান, বড় ভাই মইনুল ইসলাম ফকির ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হওয়ায় নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠিয়েছিলেন। আদালত থেকে সেই মামলায় খালাসও পান। কারাগারে থাকাকালীন সময়ে ভাই ও ভগ্নিপতি মিলে ঘরের মধ্যে থাকা আলমারি ভেঙে ২০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ২১ লক্ষ টাকার গাছ বিক্রি করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন। পিতার মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করেন। ভগ্নিপতি হারুন শেখ তার গোয়াল ঘর থেকে ৩টি গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় জেলা সদরেরঘাট নামক স্থানে নাইট গার্ডের লোকজন উদ্ধার করে তাকে ফেরত দেন। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি বিগত সময়ে। স্থানীয় শুভদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল বিরোধীয় সম্পত্তি, স্বর্ণালংকার ও টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে সমাঝতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ঘটনার বিষয়ে তিনি জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। যুবলীগ নেতা হওয়ার কারণে প্রভাব বিস্তার করে তাকে হয়রানি করেন। মোবাইল বন্ধ থাকায় যুবলীগ নেতা মইনুল ইসলাম ফকির এর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এ বিষয়ে পার্শ্ববর্তী মিজানুর রহমান মন্টু নামক জনৈক ব্যক্তি জানান, মনিরুল ইসলাম ফকির ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হওয়ায় তিনি তার আপন ভাইকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করেছে। নিজের প্রভাব খাটিয়ে বাড়ি থেকে স্বর্ণ ও নগদ অর্থ নিয়ে গেছেন। গরু লুট ও গাছ বিক্রি করে দিয়েছেন। এ বিষয় সমাধানের জন্য উভয়পক্ষ থানা ও ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার সালিশে বসলেও কোন মীমাংসা হয়নি। ঘটনার বিষয় স্থানীয় (সাবেক) ইউপি সদস্য হেমায়েত গাজী জানান, পিতার সম্পত্তি দখল ও আত্মসাতের জন্য জাহিদুল ইসলাম বাচ্চুকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি কারাগারে থাকাকালীন বাড়িতে অবৈধ প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। বাড়ির গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও মনিরুল ইসলাম ফকির প্রভাবশালী হওয়ায় কোন সুরাহ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

