ঢাকাWednesday , 13 November 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স; ২ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল

Link Copied!

নামেই শুধু ৫০ শয্যার হাসপাতাল। নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল। রোগী থাকলেও নেই চিকিৎসক। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা। এতে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। ২ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে পুরো ৫০ শয্যার এ হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম। বেকার পড়ে রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের যেতে হচ্ছে জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা প্রাইভেট ক্লিনিকে। বেহাল এই হাসপাতালটি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর সভারসহ পার্শ্ববর্তী মাদারগঞ্জ, কাজিপুর, ধনবাড়ি উপজেলার একাংশের মানুষ প্রতিনিয়ত চিকিৎসা নিতে আসে সরিষাবাড়ী হাসপাতালে। গড়ে প্রতিদিন এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে ৩ থেকে ৪ শতাধিক মানুষ। গত ১ বছর ধরে চিকিৎসক সংকট থাকায় প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। ৫০ শয্যার একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৩১ জন চিকিৎসকের সম্বনয়ে চলার কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ২ জন ডাক্তার দিয়ে চলছে ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটি। ২ জন চিকিৎসক দিয়ে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাই বাধ্য হয়েই শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসক সংকট কাটাতে প্লাস্টার করা পা নিয়েই স্টেচারে এসে হুইল চেয়ার বসে ঘুরে ঘুরে প্রতিদিন রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান ও নিয়মিত ডিউটি করছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শারমিন সুলতানা শান্তা। ব্যবহার হয় না চিকিৎসক ও নার্সদের কোয়ার্টার। চিকিৎসক না থাকায় কোয়ার্টার এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটিতে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জুনিয়র কনসালটেন্ট শিশু, এ্যানেসথেসিয়া, গাইনি এন্ড অবস, কার্ডিওলজি, অর্থো সার্জারী, চক্ষু, ইএনিটি, চর্ম ও যৌন, সার্জারি, মেডিসিন, মেডিকেল অফিসার (৩ জন), ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল অফিসার প্যাথলজি, ইনডোর মেডিকেল অফিসার, ডেন্টাল সার্জন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল অফিসার হোমিও দেশজ, মেডিকেল অফিসার ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (৮ জন) চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। সংকট রয়েছে চতুর্থ শ্রেণির র্কমচারীর। সাতজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী জায়গায় আছেন একজন। ফলে সময়মতো পরিষ্কার না হওয়ায় হাসপাতালে দূর্গন্ধময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়। চিকিৎসক সংকট থাকায় যে কোনো রোগী এলেই জরুরি বিভাগ থেকে তাদের স্থানান্তর করা হয় জামালপুর বা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গুরুতর রোগী স্থানান্তর নিয়ে বিপাকে পড়ে যায় দরিদ্র পরিবার গুলো। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা না হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েন অনেক রোগী। জনবল সংকটে এখন বন্ধ রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আর্থিক সহায়তায় মা ও নবজাতকের চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র, জরুরি প্রসূতি সেবা (ইওসি), বিকল হয়ে পড়ে আছে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ২২ লাখ টাকায় কেনা ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন। চিকিৎসা নিতে আসা জয়নব, মরিয়ম, কহিনুর, ইতি, মিতু, লোকমান, রুহুল আমিনসহ একাধিক রোগী আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের কস্টের কথা আমরা কোথায় বলবো ? কার কাছে বলবো ? এর আগেও দুইদিন এসেছি। কিন্তু ডাক্তার দেখাতে পারিনি, বলেছে সকাল সকাল আসতে। আজ সকাল ৯ টায় আসছি ডাক্তার দেখাবো বলে। কিন্ত এখন বেলা ১১ টার বেশি বাজে কোন ডাক্তার এখন পর্যন্ত চেম্বারে আসেনি। কালকে শুনলাম এতোবড় এই হাসপাতালটিতে মাত্র একজন ডাক্তার আছে। এরকম একটি হাসপাতালে একজন ডাক্তার কি করবে ? একজন ডাক্তার একা কয় জায়গায় যাবে ? কোথায় চিকিৎসা দিবে। এ বিষয়ে ডাঃ শারমিন সুলতানা (শান্তা) বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসক ব্যাপক সংকট। মাত্র ২ জন চিকিৎসক দিয়ে ৫০ শয্যা হাসপাতাল চালানো অনেক কঠিন বিষয়। ২৪ ঘন্টা ডিউটি করার পর সিঁড়ি থেকে পড়ে পায়ে আঘাত পেলেও হুইল চেয়ার ও স্টেচারের সহযোগীতা নিয়ে প্রতিনিয়ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি’। আবাসিক মেডিকেল অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, ‘চিকিৎসক ও জনবল সংকটের জন্য হাসপাতাল পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মাত্র ২ জন চিকিৎসককে ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। জেলার অন্য হাসপাতালগুলোর চেয়ে সরিষাবাড়ীতে রোগীর চাপ বেশি। প্রায় ৬ মাস ধরে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের মধ্যেও সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনবল সংকট ও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম চিকিৎসক রয়েছেন’। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, জনবল সংকট ও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম চিকিৎসক রয়েছেন। ইতিমধ্যে আমরা আমাদের জেলা সিভিল সার্জন মহোদয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ও কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি জানিয়ে ডাক্তার সংকট নিরসনের জন্য একাধিকবার আবেদন পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে জামালপুর সিভিল সার্জন ডা. মোঃ ফজলুল হক বলেন, বর্তমানে জামালপুর জেলার সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারের সংকট আছে। তারমধ্যে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেশি চিকিৎসক সংকট। বর্তমানে ২ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। এর মধ্যে একজন শারিরীক অসুস্থতার কারনে ছুটিতে আছেন। আমরা বারবার নতুন করে চিকিৎসকের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) বরাবর আবেদন/চিঠি পাঠিয়েছি। এছাড়াও মোবাইলে বিষয়টি জানানো হয়েছে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে চিকিৎসক সংকট কেটে যাবে।