অবশেষে মোংলা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশন (সিএন্ডএফ) ভবন ৯ দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার সমাঝোতা বসেছে নেতৃবৃন্দ। গত সোমবার সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় শিক্ষার্থীদের সাথে মোংলা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের কতিপয় নেতারা বৈঠক করলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এসোসিয়েশনের নেতারা তাদের কাছে ক্ষমা চান এবং শিক্ষার্থীদের কাছে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় চান এডহক কমিটি গঠন করার জন্য। শিক্ষার্থীদের সাথে পরামর্শ করেই তারা মোংলা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের (সিএন্ডএফ) এডহক কমিটি গঠন করবে বলে তারা তাদের আশ্বাস দেয়। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে মোংলা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের (সিএন্ডএফ) ভবনের তালা খোলা হবে এমনটাই জানা গেছে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যূত্থানে শহীদদের ছবি সম্মলিত ব্যানার মোংলা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের সামনে লাগানো হয়। কিন্তু কে বা কারা সে ব্যানার ছিড়ে ফেলে। ছাত্র জনতার আন্দোলনে শাহীদদের ব্যানার ছিড়ে ফেলার কথা জানতে পেরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ গত ৬ নভেম্বর বুধবার দুপুরে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা ১৯৮, এম এ বারী রোডে অবস্থিত মোংলা কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের (সিএন্ডএফ) প্রধান কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এসোসিয়েশনের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ছাত্র জনতার আন্দোলনে শহীদদের ব্যানার ছিড়ে ফেলার জন্য মোংলা কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন লিটনসহ তার ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান শিক্ষার্থীরা এবং ১ সপ্তাহের মধ্যে এসোসিয়েশনের সভাপতি সুলতান হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন লিটনকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের কাছে এসে ক্ষমা চাইতে হবে বলে তারা জানান। একই সাথে আওয়ামী লীগের দোসর মোংলা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশন সদস্যদের সদস্যপদ বাতিলসহ শেখ বাড়ীর দেওয়া কমিটি ভেঙে দেওয়ারও আহ্বান জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনার নেতৃবৃন্দ। অনুসন্ধানে জানা গেছে , গত ৫ আগস্টের পর মোংলা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের (সিএন্ডএফ) সভাপতি সুলতান হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন লিটনসহ কমিটির অধিকাংশ সদস্যদের নামে মামলা থাকায় তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে তাদের একটি প্রতিনিধি দল ছাত্র ও পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছে এবং তারা তাদের ভুলের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে বলেও একটি সূত্র জানায়। অনুসন্ধানে আরেকটি সূত্র জানায়, এই সুযোগে বিতর্কিত কিছু ব্যক্তিদের দিয়ে মোংলা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের (সিএন্ডএফ) নতুন কমিটি গঠনের তোড়জোড় চালাচ্ছে একটি গ্রুপ। দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সিএন্ডএফ’র সদস্যরা। উভয় পক্ষেই আওয়ামী লীগ ও শেখ বাড়ীর দোসরা রয়েছে। উভয় গ্রুপই গোপনে মিটিং করছে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের সাথে। কেউবা ছুটছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে। কেউবা ছুটছে প্রশাসনের কাছে। উভয় পক্ষই টাকা নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। পুরানো কমিটি বহাল রাখার জন্য রাজনৈতিক ও পেশাজীবি সংগঠনগুলোর শরণাপন্ন হচ্ছে একটি দল।
বিএনপির সাবেক খুলনার মেয়র মনিরুজ্জামান মনির সাথে একধিকবার মিটিং করেছে সিএন্ডএফ’র একটি গ্রুপ। জানা গেছে, তারা বহিষ্কৃত খুলনা বিএনপির নেতা ও সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনিকে মোংলা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের (সিএন্ডএফ) নতুন সভাপতি দেখতে চান। এই জন্য যা করার দরকার তারা তাই করবে বলে জানা গেছে। বিএনপিপন্থী মোংলা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের (সিএন্ডএফ ) কিছু সদস্যরাও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মনিরুজ্জামান মনিরকে চান। মোংলা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশন (সিএন্ডএফ) অফিসের কর্মচারী ও জামায়াত নেতা শেখ রিয়াজ উদ্দীন দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, খুলনার মেয়র মনিরুজ্জামান মনি তাদের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে।
তবে ব্যবসায়ীরা জানান ভিন্ন কথা। তারা বলেন, সংগঠনটি এক সময় সাধারণ ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। এ কারণে একটি সুন্দর পরিবেশও ছিলো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বল প্রয়োগ ও পেশীশক্তি দেখাতে থাকে শেখবাড়ী। আর তখনই মোংলা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের (সিএন্ডএফ) অধঃপতন শুরু হয়। বিগত ১৬ বছর ধরে খুলনার শেখ পরিবার নিয়ন্ত্রণ করতো মোংলা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশন (সিএন্ডএফ)। তারা যা বলতেন সিএন্ডএফ এজেন্টরা তাই করতে বাধ্য হতেন। ব্যবসায়ীদের দাবী, শেখ পরিবার মনোনিত ২১ জন কার্যকরী কমিটির ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা অনেক আওয়ামী, ওলামা লীগ ও সুবিধাভোগীরা লুকিয়ে আছে বিধায় পুরো ২১ সদস্যের কোন ব্যক্তিকে এডহক কমিটিতে রাখা হয়নি। ৫ সদস্যের একটি কমিটির ব্যবস্থা করতে হবে যারা ৩ মাসের মধ্যে একটি নতুন নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত ব্যক্তিদের হাতে মোংলা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের (সিএন্ডএফ) দায়িত্ব বুঝিয়ে দিবেন। ৫ সদস্যের এডহক কমিটিতে যেন আওয়ামী এবং ওলামা লীগ সমর্থিত কোন সদস্য যেন স্থান না পায় সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সাধারণ ব্যবসায়ীরা। আবার আওয়ামী লীগকে বাদ দিতে গিয়ে ঘাপটি মেরে থাকা শেখ পরিবারের আস্থাভাজন কোন ব্যক্তি যেন কমিটিতে স্থান না পান।

