ঢাকাThursday , 5 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কী খাচ্ছি, আইসক্রিম না বিষ?

Link Copied!

একটি কারখানায় কাঁচা ডালডা, পামঅয়েল আর সস্তা কোকো পাউডারে তৈরি হচ্ছে চকবার কুলফি আইসক্রিম

একটি কারখানায় কাঁচা ডালডা, পামঅয়েল আর সস্তা কোকো পাউডারে তৈরি হচ্ছে চকবার কুলফি আইসক্রিম

যশোর প্রতিনিধি : যশোরের ২০টি কারাখানায় নিম্নমানের ও ক্ষতিকর রং-উপকরণ মিশিয়ে আইসক্রিম তৈরির নামে সস্তা দামের ‘বিষ’ তৈরি শুরু হয়েছে। শীত মওসুম চলে যাওয়ায় শিশু ও স্কুল শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে ক্ষতিকর আইসবার তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছে।
বিষয়টি স্বীকার করেছেন খোদ জেলা আইস ও আইসবার প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস। আর জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর আইসক্রিমে ক্ষতিকর দ্রব্যাদি মিশ্রণের অভিযোগ পেয়েছেন উল্লেখ করে শিগগিরই এটি বন্ধে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা দেছে, যশোরের নিউ ইগলু আইসবার, নিউ পোলার আইসবার, হিম সুপার আইসবার, সাগর আইসবার, রুচি আইসবার, বনফুল আইসবার, মুক্তা আইসবার, তপু আইসবার, চাইল্ড আইসবার, অপু আইসবার ও নিউ ফুজি আইসবার ফ্যাক্টরির অধিকাংশই নিম্নমানের সস্তা আইসক্রিম তৈরি শুরু করেছে। এই কারখানাগুলোতে এক টাকা মূল্যের গাজর, পেপসি, লাল-সবুজ, ২/৩ টাকা দামের কুলফি, ৪/৫ টাকার চকবার কুলফি ও ১০/১২ টাকা দামের চকবার আইসক্রিম তৈরি হয়। সস্তা দামের এই আসক্রিম তৈরিতে নিম্নমানের ফুড কালার ও অত্যন্ত ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার কার হচ্ছে।
সূত্র জানায়, সাধারণত আইসক্রিম তৈরিতে দুধ, চিনি, ঘনচিনি, কর্ন ফ্লাওয়ার, স্টাবিলাইজার, ফ্লেভার, ফুড কালার ও পানি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ১/২টাকা দামের আইসক্রিমে যে ফুড কালার ব্যবহার করা হয়-তা খাদ্য বা আইসক্রিমে ব্যবহারের অনুমোদন আছে কিনা জানেন না কেউ। ভারত ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা এই ফুড কালারের কৌটায় বিএসটিআইয়ের এ ধরণের কোনো নির্দেশনাও নেই।
শহরের গো-হাটা রোডের ৫টি দোকানে এই ফুড কালার বিক্রি হয়। সেখান থেকেই ফ্যাক্টরি মালিকরা এটি সংগ্রহ করেন। আর চার থেকে ১০/১২ টাকা দামের চকবার আইসক্রিমের চকলেটি আবরণ তৈরি হচ্ছে কাঁচা পামঅয়েল, ডালডা ও নিম্নমানের কোকো পাউডার দিয়ে। এই উপকরণের ঘন সংমিশ্রণ তৈরি করে তাতে আইসক্রিম ডুবিয়ে বানানো হচ্ছে চকবার আইসক্রিম। কিন্তু তিন উপকরণই অত্যন্ত ক্ষতিকর।
সূত্র মতে, ভালোমানের চকবার আইসক্রিম তৈরিতে মিমি চকলেট ব্যবহার করতে হয়। এতে একটি চকবারের খরচ পড়বে অন্তত ১০টাকা, আর চকবার কুলফির অন্তত ৩ টাকা। কিন্তু তা না করে ক্ষতিকর ওই উপকরণ ব্যবহার করে ফ্যাক্টরি মালিকরা এই খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনেন। আর নিম্নমানের এই আইসক্রিমগুলোর অধিকাংশই তৈরি হয় রাতের আঁধারে। অনেকে সকাল হওয়ার আগেই তা ফ্যাক্টরির বাইরে বের করে দেন। যাতে কোনো ধরণের অভিযান হলেও তারা ধরা না পড়েন।
এ ব্যাপারে কথা হয় বৃহত্তর যশোর জেলা আইস ও আইসবার প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাসের সাথে। তিনি অধিকাংশ ফ্যাক্টরি মালিকই নিম্নমানের উপকরণ ও ফুড কালার ব্যবহার করে বলে স্বীকার করেন। কিন্তু জানতে চাইলে বা নিষেধ করলে ব্যবহারের কথা সবসময় অস্বীকার করে আসছে মালিকরা। যখন ভ্রাম্যমাণ আদালত বা ভেজালবিরোধী অভিযান চলে তখন কিছুদিন চুপচাপ থাকে। তারপর আবার যা তাই। তাই ফুড কালার যেসব দোকানো বিক্রি হয়, সেখান থেকেই তিনি বন্ধ করার দাবি জানান। তবে মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস নিজের প্রতিষ্ঠান হিম সুপার আইসবার ফ্যাক্টরিতে ফুড কালার বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেন।
একই দাবি করেন, নিউ পোলার আইসবারের মালিক মাছুম মিল্লাত কচি। তিনি জানান, কেউ কেউ ওইসব উপকরণ বা ফুড কালার ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু তিনি করেন না।
আর সাগর আইসবারের ম্যানেজার রাজু আহমেদ জানান, রঙিন আইসক্রিমে শিশুরা আকৃষ্ট হয় বলে অধিকাংশ মালিক এরকম তৈরি করেন। রাজু দাবি করেন, রঙিন আইসক্রিম তৈরি না করায় তার এখন ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। তিনি কয়েকজন মালিককে অনুরোধও জানিয়েছিলেন এগুলো বন্ধ করতে। কিন্তু কেউ কারও কথা শোনে না। রাজু নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করেন না দাবি করে সকলকে তা বন্ধেরও আহ্বান জানান। তিনি শুধু ফ্যাক্টরি নয়, সরবরাহ গাড়িগুলোতেও তল্লাশির জন্যও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
কাজী ফার্মসের বেলিসিমো ও জানজি আইসক্রিমের যশোর জেলার পরিবেশক আনন্দ দাস জানান, সস্তা দামের এই আইসক্রিমগুলো অত্যন্ত ক্ষতিকর উপকরণে তৈরি হয়ে থাকে। তাদের আইসক্রিম যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ করে উৎপাদিত হয় বলে দামও তুলনামূলক বেশি।

একটি কারাখানায় তৈরি হচ্ছে সস্তাদামের আইসক্রিম

একটি কারাখানায় তৈরি হচ্ছে সস্তাদামের আইসক্রিম

এ প্রসঙ্গে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান জাহিদ জানান, নিম্নমানের এই সস্তা আইসক্রিম আসলে নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে কাঁচা পামঅয়েল, ডালডা খুবই ক্ষতিকর। আর ফুড কালার ও কোকো পাউডারসহ রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহারের মাত্রা ও নির্দেশনা আছে। কিন্তু এগুলো মানা হয় না। ফলে সবমিলিয়ে এই খাবারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসিডিটি, ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া হতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হিসেবে আলসার এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে।
জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর জানান, সস্তাদামের এই আইসক্রিমে ক্ষতিকর দ্রব্যাদি মিশ্রনের অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। খুব শিগগির এটি বন্ধে অভিযান চালানো হবে। স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাবারের সাথে কোনো ধরণের আপোষ করা হবে না।