৫ আগস্টের আগে বাংলাদেশে যা ঘটছিল ভারত কি তা জানতো?
“অবশ্যই, আমরা জানতাম,” বলেছেন বাংলাদেশে সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী। যিনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের সাবেক বিশেষ সচিব (পাবলিক ডিপ্লোমেসি) পদেও ছিলেন ৷ ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে পিনাক রঞ্জন বলেন, আমরা জানলেও প্রশ্ন হচ্ছে হাসিনা তার পতন হবে সেটা কখনো ধারণা করতে পেরেছিলেন কি-না। আমার অনুমান বলছে তিনি করেননি। পিনাক রঞ্জনের কথায় , আপনি যদি ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকেন, তাহলে আপনি একসময় অনুভব করবেন যে সবকিছু ঠিক আছে। পিনাক রঞ্জন শীর্ষ অফিস ছাড়াও বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ২০০৭-০৯ সালে ঢাকায় হাইকমিশনার ছিলেন যখন বাংলাদেশ ১/১১ পরিবর্তনের সাক্ষী ছিল । এর আগে তিনি ১৯৯৯-২০০২ সালে ঢাকায় ডেপুটি হাইকমিশনার পদেও ছিলেন। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের কূটনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক শুভজিৎ রায়ের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে আন্দোলন বন্ধ হয়ে যেত, আদালত কোটা মাত্র ৭% নামিয়ে এনেছিল । ওই আন্দোলনে তিন শতাধিক মানুষ মারা যায়। এরপর নয় দফা দাবি নিয়ে ফিরে আসেন আন্দোলনকারীরা। তারা মন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার প্রমুখের পদত্যাগ চেয়েছিলেন। কেন তারা এমনটি করেছিলেন তা একটি রহস্য। ঢাকার রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক এবং সামরিক অভিজাতদের মধ্যে একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব পিনাক রঞ্জন বলেছেন, “আমার দৃষ্টিভঙ্গি হলো যে সেখানে অন্যান্য প্রভাব কাজ করেছিল – বেশিরভাগ বিদেশি এবং কিছু অভ্যন্তরীণ। যেহেতু হাসিনা স্পষ্টতই তার মন্ত্রীদের বরখাস্ত করতে রাজি হননি, তাই তারা আন্দোলন চালিয়ে যায়। এইবার অত্যন্ত কার্যকর একটি শক্তি তাদেরকে সমর্থন দেয়। ঢাকায় পদযাত্রা ও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি এতটা রাজনৈতিক হয়ে উঠল কেন? এটাও একটা প্রশ্ন। বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন বলেন, আমি বলবো যে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীই তাকে (হাসিনাকে) এই বলে দেশত্যাগে বাধ্য করেছিল যে, আমরা আপনাকে রক্ষা করতে পারব না। আমরা এই বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালাবো না।

