গত ১৫ সেপ্টেম্বর গভীর স্থল নিম্নচাপের ফলে অব্যাহত ভারী বর্ষণ এবং পূর্ণিমার প্রভাবে সাতক্ষীরার সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের বিনেরপোতা মহাশ্মশান সংলগ্ন বেতনা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বাপাউবোর পোল্ডার নং ৬-৮ এর দুটি পয়েন্ট দিয়ে পানি ওভারট্রপিং করা শুরু হয়। স্থানীয়রা জানান, সময় প্রবল বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া অব্যাহত ছিল।এরই মধ্যে পাউবো জরুরী ভিত্তিতে সিনথেটিক বস্তা দিয়ে রাত ১১ টা অবধি কাজ করে পানির ওভারট্রপিং বন্ধ করতে সক্ষম হয়। তবে উক্ত রাতেই পুনরায় প্রবল বৃষ্টিপাত ও অত্যাধিক পানির চাপে পুনরায় বাঁধের অপর একটি স্থানে ২৫ মিটার ভেঙ্গে যায়। পরদিন সকালে খুলনা পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবিবুর রহমান ভেঙ্গে যাওয়া স্থানটি পরিদর্শন করেন এবং বাপাউবোর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং জরুরী ভিত্তিতে ভেঙ্গে যাওয়া স্থানটি মেরামতের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে জানা যায়, উক্ত ভাঙ্গা স্থান বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় বল্লী সাতক্ষীরা জেলার বাইরে থেকে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়। এ ছাড়া বিরূপ আবহাওয়ার কারণে প্রয়োজনীয় কারিগরি যন্ত্রপাতি ও শ্রমিক সরবারহের জন্য যথেষ্ট সময় ক্ষেপণ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন কর্তব্যরতরা। ভাঙ্গা স্থানটিতে কোন ধরণের যানবাহন বা ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাধ্যমে কাজ করা বা মালামাল সরবরাহ একেবারেই অসম্ভব ছিল বিধায় পুরো কাজটি শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে করাতে হয়েছে বলে পাউবো সূত্র জানায়। গত ২০ সেপ্টেম্বর কাজটি পুনরায় পরিদর্শনে যান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবিবুর রহমান। এ সময় সাইট পরিদর্শনে আসেন সদ্য সাতক্ষীরা জেলায় যোগদানকৃত জেলা প্রশাসকও। ভেঙ্গে যাওয়া অংশ দ্রুত বন্ধকরণের উদ্যোগ নেয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। দীর্ঘ ৫ দিনের নিরলস পরিশ্রম শেষে ২১ সেপ্টেম্বর বেলা ৩ টায় ভাঙ্গা অংশ সম্পনরূপে বন্ধ করতে সক্ষম হয়। যে কারণে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ হয়েছে। এতে সদর উপজেলার ৮/১০ টি গ্রামের জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সকল ধরণের প্রতিকূলতার মধ্যেও অবশেষে বাঁধটি মেরামত করা গেছে বিধায় সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। পাউবোর খুলনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানান, ভাঙ্গা অংশটি মেরামত সম্পন্ন হওয়ায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ হয়েছে। এখন লোকালয়ের পানি দ্রুতই নেমে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

