ঢাকাSaturday , 21 September 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বগুড়ায় এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানিতে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

Link Copied!

বগুড়ায় সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানী এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানী লিমিটেডে (ইডিসিএল) নতুন করে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় অত্যন্ত গোপনে নতুন করে ৩০ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, এসব নিয়োগের জন্য পত্রিকায় কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, বগুড়া প্ল্যান্টে কর্মরত সিবিএর ২ কেন্দ্রিয় নেতা ও বিএনপি থেকে বহিস্কৃত এক নেতার ভাইয়ের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। জানা গেছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বগুড়া প্ল্যান্টের উপ-ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) মোঃ ফজলুল হক তার নিজের ছেলেকেও ফার্মাসিস্ট পদে চাকরি নিয়ে দেন। এই পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির পদ মর্যাদার। এসব পদে সাধারণত পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার বিধান থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। বিএনপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিকদলের নাম ভাঙ্গিয়ে ইডিসিএল’র বগুড়া প্ল্যান্টে একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ এই নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে জড়িত রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে, এ বিষয়ে বগুড়া জেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন শেখ বাঘা বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে এসব শ্রমিক নেতাকে রাজপথে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন শ্রমিক নেতা সেজে নিয়োগ বাণিজ্য করছেন তারা। আমার জানা মতে নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত সিবিএর নেতারা বিএনপি সমর্থিত শ্রমিক দলের কেউ নন। বিগত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ২শতাধিক কর্মচারীকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকুরিচ্যুত করা হয়। এসব কর্মচারী চাকরি হারিয়ে এখন প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। চাকুরিচ্যুতদের চাকরিতে পুনঃবহাল না করে নতুন করে নিয়োগ দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাকুরিচ্যুত কর্মচারীরা। সূত্র জানায়, বিগত বিএনপি সরকারের আমলে এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড বগুড়া প্ল্যান্টে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়া ২১৩ জন শ্রমিক কর্মচারীকে এক এগারো সরকারের সময় চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর তারা দীর্ঘদিন কখনো বেকার আবার কখনো অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে কোনোমতে দিন পার করছেন। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের পর অন্তর্বর্তীকালিন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে কতিপয় শ্রমিক নেতা নিজেদের ভোল পাল্টিয়ে নতুন করে নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করেন। জানা গেছে, জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের কারো কারো নাম ভাঙ্গিয়ে শ্রমিকদল নেতা দাবিদার এসব নেতা নিয়োগ বাণিজ্যে মেতে উঠছেন। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের জুলাই মাসে ২০ জনের একটি নিয়োগ আদেশ হয়। কিন্তু তাদের যোগদানে বাধা দেন এসেনসিয়াল ড্রাগস এর বগুড়া শাখার সিবিএর ২ নেতা। পরে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ঐ দুই নেতা তাদের যোগদানের সুযোগ দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, এখানে টাকা ছাড়া কারো নিয়োগ হয় না। এসব নিয়োগে হেড অফিস এবং বগুড়া প্ল্যান্টের কর্মকর্তা আর সিবিএ নেতারা জড়িত। এ বিষয়ে স্থানীয় দুই সিবিএ নেতা বেঞ্জির বিল্লাহ ও আবু নছেরের নিকট জানতে চাইলে তারা জানান, নিয়োগ হয় কেন্দ্রীয় অফিস থেকে। আমরা কাজ করি আঞ্চলিক অফিসে। এখানে আমাদের কোনো ক্ষমতা নেই। গত ৫ থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত ৩০ জন কর্মীকে কেন্দ্রিয়ভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সিবিএ নেতা আবু নছের এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। বগুড়া প্ল্যান্টে সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্তদের অফিসে ঢুকতে না দেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের প্রথমে ঢুকতে দেয়া হয়নি, কারণ তাদের গেট পাশ ছিল না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইডিসিএল এর একজন কর্মচারী জানান, বিএনপি থেকে বহিস্কৃত এক নেতার ভাইয়ের নেতৃত্বে এখানে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। এসেনসিয়াল ড্রাগস এর উপ-ব্যবস্থাপক ফজলুল হক ও একজন উর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, জড়িত না থাকলে উপ-ব্যবস্থাপক ফজলুল হকের নিজের ছেলের চাকরি হয় কিভাবে? নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপ-ব্যবস্থাপক ফজলুল হক বলেন, আমি প্রোডাকশন বিভাগে চাকরি করি। নিয়োগ বিষয়টি হেড অফিসের প্রশাসন বিভাগ দেখে। নিজের ছেলের চাকরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ছেলের চাকরি হয়েছে ফার্মেসি বিভাগে। এটার বিষয়টি আলাদা। পরীক্ষার মাধ্যমেই তার চাকরি হয়েছে। পত্রিকায় কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছিল কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, না এটা ইন্টারনালভাবেই হয়েছে। ইডিসিএল এ সাধারণত ইন্টারনালভাবেই নিয়োগ হয়।