মাদারীপুরে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বসতবাড়ি সাবেক বিএনপি নেতার দখল থেকে মুক্ত করলেন ডাসার উপজেলা প্রশাসন। তবে ভবনটি জরাজীর্ণ। দ্রুত সংস্কারের দাবি প্রশাসনের।জানা গেছে, রোববার মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলা বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক সোহেল হাওলাদার বসতবাড়ি দখল করে ওই ঘরে ওএমএসের প্রায় এক ট্রাক চাল রাখার অভিযোগ উঠে এবং সোমবার এ সংক্রান্ত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে কালকিনির উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উত্তম কুমার দাশ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবা ইসলামসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি দল প্রখ্যাত কবি ও ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ডাসার উপজেলার মইজপাড়া গ্রামের পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন করেন এবং দখলমুক্ত করেন।
ডাসার ও কালকিনি উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সূত্র জানায়, ডাসার উপজেলার কাজীবাকাই ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়ায় মৌজায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ৭ একর ১৫ শতাংশ পৈতৃক জমি রয়েছে। এসব জমির মধ্যে ২ একর ৯৭ শতাংশ জমি সরকারের খাসজমি হিসেবে রেকর্ড। গত শনিবার দুপুরে লেখকের পৈতৃক ভিটার একটি টিনশেড ঘরের (সুনীল স্মৃতি পাঠাগার) তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন বিএনপি নেতা সোহেল হাওলাদার ও তাঁর লোকজন। পরে তাঁরা লেখকের ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি, বই, আসবাব, ছবিসহ একাধিক ছবি ভাঙচুর করেন। এরপর তাঁরা ওই ঘরে ওএমএসের প্রায় এক ট্রাক চাল রেখে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। এ ছাড়া লেখকের বাড়ির সামনে জেলা প্রশাসক কর্তৃক লাগানো একটি সাইনবোর্ডও ভেঙে সরিয়ে ফেলা হয়।
লেখকের পৈতৃক ভিটা দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় এক ব্যক্তিকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি প্রতিবেদকে বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকেই সোহেল হাওলাদার লোকজন নিয়ে লেখকের জমি তার নিজের বলে দাবি করেন। তিনি আরো জানান, সোহেল হাওলাদারের চাচাতো চাচা রাজ্জাক হাওলাদার যিনি বিগত ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি দেশের বাহিরে অবস্হান করছেন। তাদের নিজেদের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের কারণে রাজ্জাক হাওলাদার ঘটনাটি অপপ্রচার করেছেন বলে জানা যায়। এতে করে ভারত ও বাংলাদেশের যে সুসম্পর্ক রয়েছে তা নষ্ট হতে পারে বলে জানান বিজ্ঞ মহল। অভিযুক্ত সোহেল হাওলাদারকে মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার ছোট ভাই ও কাজী বাকাই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নাছিম হাওলাদার ওয়াসিম জানান, আমার ভাই শনিবার ওএমএসের চাল ট্রাক থেকে সাময়িক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘরের বারান্দায় রেখেছিল এতটুকুই। চাল যেহেতু রাত ১২টায় এসেছে, তাই এখানে রেখেছিল। সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোডাউনে নিয়ে চাল বিতরণ করেছেন। পত্রিকায় যে সংবাদ উঠেছে, তা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট এবং কোন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।
কালকিনির উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উত্তম কুমার দাশ বলেন, আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়িটি দখলমুক্ত করি। এ বাড়িটি সরকারের দেখাশোনার আওতায় আছে। এখানে কোনো ভাঙচুরের আলামত পাইনি। তবে জরাজীর্ণ আছে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতের মাদারীপুর মহকুমার রাজৈরের আমগ্রামের মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি তৎকালীন মাদারীপুর মহকুমার কালকিনির পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে। তিনি ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর কলকাতায় মারা যান।

