ঢাকাSaturday , 31 August 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বৈধ অস্ত্র ৫০ হাজার, থানা থেকে লুটের অস্ত্র এখন বাইরে

অনলাইন ডেস্ক
August 31, 2024 3:44 pm
Link Copied!

গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়িতে হামলার সময় লুট হওয়া বেশির ভাগ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়নি। আন্দোলনের সময় সারাদেশেই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অস্ত্রবাজি করা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী চিহ্নিত হয়নি; উদ্ধারও হয়নি সেসব অস্ত্রশস্ত্র। আবার ২০০৯ সাল থেকে গত ১৫ বছর রাজনৈতিক বিবেচনায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে দেওয়া অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। তাদের মধ্যে অনেকেই অতীতে অস্ত্রবাজি করে হয়েছেন বিতর্কিত। বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি ‘লাগামহীন’ থাকায় বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগ্নেয়াস্ত্র বেশি দিন বেহাত থাকলে তা সন্ত্রাসী, বিচ্ছিন্নতাবাদী, উগ্র গোষ্ঠী, সুযোগসন্ধানীসহ অপরাধ জগতে চলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়াসহ জনজীবনের নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
এমন পরিস্থিতিতে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বেসামরিক জনগণকে দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (গণমাধ্যম) ইনামুল হক সাগর বলেছেন, ‘৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অস্ত্র-গুলি জমা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবশ্যই অস্ত্র উদ্ধারেও চালানো হবে অভিযান।’
পুলিশের ভাষ্যে, বর্তমানে দেশে বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা ৫০ হাজার ৩১০। এর মধ্যে ব্যক্তির হাতে ৪৫ হাজার ২২৬; প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫ হাজার ৮৪টি। ব্যক্তিগত অস্ত্রের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর কাছে ৭ হাজার ৫৪৯ ও বিএনপির হাতে রয়েছে ২ হাজার ৫৮৭টি। জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীর কাছে এমন অস্ত্র ৭৯টি। অনেক বিতর্কিত রাজনীতিকের হাতেও বৈধের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র রয়েছে।
পিস্তল, রিভলবার, একনলা ও দোনলা বন্দুক, শটগান, রাইফেলসহ সবচেয়ে বেশি অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১১ হাজার ৮৯৮টি। এর পর রাজশাহীতে ৮ হাজার ৩২১, খুলনায় ৭ হাজার ৪৭৯, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৫১২, সিলেটে ৪ হাজার ৭৫৭, রংপুরে ৩ হাজার ৫৯৭, বরিশালে ২ হাজার ৬৮২ ও ময়মনসিংহে দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ১১৮টি।
এসব অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে তিনটি চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। প্রথমত, সম্প্রতি বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বেহাত অস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত হলে জনজীবনের নিরাপত্তায় তা হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালানো আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেকেই চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের অস্ত্রও উদ্ধার করা যায়নি। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে আন্দোলন ঘিরে ‘বিপর্যস্ত’ পুলিশের পক্ষে অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় আনা দুরূহ। থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট অস্ত্র-গোলাবারুদের সঠিক হিসাব দিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা বিভিন্ন ইউনিট থেকে হিসাব মেলাচ্ছে। তবে জানিয়েছে, গত ২৯ আগস্ট পর্যন্ত লুট হওয়া বিভিন্ন ধরনের ৩ হাজার ৪টি অস্ত্র ও ২৫ হাজার ৯৭৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে।