এক দিনের বেতনের অর্থ দিয়ে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকেরা। একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নতুন জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের সমস্যার সমাধান ও গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রধান শিক্ষকদের গেজেট সংশোধনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টার প্রতি দাবি জানানো হয়। রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মওলানা আকরাম খাঁ হলে বৈষম্যবিরোধী জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষক সমন্বয়ক পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস. এম আব্দুল গফুরের সভাপতিত্ব করেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ছাত্রজনতার ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে ভারত বিভিন্ন নদীর বাঁধ খুলে দিয়েছে। এতে দেশের প্রায় ১০টি জেলার লাখ লাখ মানুষ, গবাদিপশু, ফসলি জমি ধ্বংস করে এদেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার যে চক্রান্ত করছে তা ঘৃণার সঙ্গে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।
এস. এম আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমাদের জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক সব শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের একদিনের বেতনের অর্থ বন্যাদুর্গতদের সাহায্য দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মহোদয়কে বেতন হতে কেটে নেওয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি। একই সঙ্গে আমাদের সকল প্রাথমিক শিক্ষক পরিবারকে এই বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করছি।’
আব্দুল গফুর আরও বলেন, ‘আন্দোলন নয়, আমরা সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষকদের সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা জানান, সরকার কর্তৃক উচ্চ আদালতে আপিলকৃত ৭৩ / ২৩ মামলা প্রত্যাহার করে গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রধান শিক্ষকদের গেজেট সংশোধন করতে হবে। সব শিক্ষকদের টাইমস্কেল সমস্যা দ্রুত নিরসন ও গেজেট অনুসারে ৫০ শতাংশ চাকরিকাল গণনা করে সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষক সমন্বয়ক পরিষদের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক বাবু মৃগেন্দ্র মোহন সাহা, মো. মতাহারুল ইসলাম, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, মো. আহসান হাবীব, কে. এম মনির হোসেন, মাওলানা মো. মোতালেব হোসেন, খন্দকার হুমায়ুন কবির, মো. সামসুল আলম, মো. আব্বাস (হাসান মাহমুদ), মো. দেলওয়ার হোসেন, মো. জয়নাল আবেদীন, মো. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

