গত জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন দমাতে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নির্বিচারে গুলি, টিয়ারসেল, জলকামান ও রাবার বুলেট অতিমাত্রায় প্রয়োগ করে। ফলে দেশে ভয়াবহ পরিস্তিতির সৃষ্টি হয়। যা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ইতোমধ্যে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয় বাংলাদেশ। হাসিনা সরকারের পুলিশী নির্যাতনের কারণে গত ৪ আগস্ট সকাল থেকে গভীর অবধি ছাত্র জনতা রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ দখলে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। যার ফলে ৫ আগস্ট সকাল ১১ টার পরে হাসিনা সরকারের পতন তরান্বিত হয়। এ সময় পুলিশ ও বিজিবি পিছু হটে। তখন সেনাবাহিনী হয়ে ওঠে ছাত্র জনতার পরম বন্ধু। সেনাবাহিনীর সাজোয়া যান এবং সেনা সদস্যদের অভিনন্দন জানায় দেশবাসী। কোথাও কোথাও সেনাবাহিনীকে ফুল দিয়েও বরণ করতে দেখা যায়। তবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৬৪টি জেলার চিত্র কিন্তু অভিন্ন। নীলফামারি জেলাও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। সেনা সদস্যরা ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে নীলফামারীতে সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র জনতাকে শান্ত করতে সক্ষম হন সেনা সদস্যরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মারাত্মক সহিংসতার মধ্যেও নারী এবং শিশুদের উদ্ধার করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে সেনাবাহিনী। নীলফামারিতে সহিংসতা বন্ধে মোতায়নকৃত সেনা সদস্যদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজর জুনায়েদের সাহসী ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ছাত্র জনতা তাকে আপন করে নেন। পুলিশের বেপরোয়া গুলিতে নীলফামারী শহরের নির্যাতিত এবং সুবিধা বঞ্চিত মানুষগুলো যখন তাদের অধিকার ফিরে পেতে আপ্রাণ চেষ্টা চালায়, তখন মেজর জুনায়েদ তার ফোর্স নিয়ে ছাত্র জনতার পাশে দাঁড়ান। নীলফামারীর অত্যন্ত সহজ সরল ছাত্র জনতা মেজর জুনায়েদকে কাছে পেয়ে তাদের দুঃখ ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তখন এই সেনা কর্মকর্তা কঠোরতা ভেঙ্গে অত্যন্ত নমনীয় হয়ে তাদের মাঝে আশা জাগিয়ে তোলেন। রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত সদা হাস্যোজ্জ্বল ও কর্মঠ মেজর জুনায়েদের সাহসী এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে ছাত্র জনতা এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে বলে বোদ্দা মহল মনে করেন।

