বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন। বুধবার সন্ধ্যা ৭ টায় হাসপাতাল থেকে রওনা করে রাত ৮ টা ২২মিনিট গুলশান নিজ বাস ভবন ফিরোজায় পৌছেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটি সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন ‘মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে ১২দিন পর গুলশানের বাসায় ফিরেছেন ম্যাডাম।’ বাসায় চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবেন তিনি। উন্নত চিকিতসার জন্য উনাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হবে। সন্ধ্যা ৭ টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে থেকে পাজারো জীপে চড়ে রওনা হন বিএনপি চেয়ারপারসন। সড়কের দুই ধারে হাজার হাজার নেতা-কর্মীরা করতালি ও শ্লোগান দিয়ে তাদের নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানায়। যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা খালেদা জিয়ার গাড়িকে কর্ডন করে গুলশানের বাসায় নিয়ে আসে। এর আগে ৯ জুলাই ভোর ৪ টা ২০ মিনিট বাসা থেকে হাসপাতাল নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন ওই সময় জানান, হঠাৎ শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করায় গভীর রাতেই তাঁকে গুলশানের বাসা থেকে জরুরিভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর শরীরে রক্তের প্রয়োজন।এর আগে সবশেষ গত ২২ জুন রাতে হঠাৎ অসুস্থ হলে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৩ জুন তাঁর হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ১১ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ২ জুলাই তিনি বাসায় ফেরেন। বাসায় ফেরার ৫ দিনের মধ্যে আবারো খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় সাজা পেয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দী হন। দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারাগারে ছিলেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এক নির্বাহী আদেশে তাঁর সাজা ২০২০ সালের ২৫ মার্চ স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয়। তখন থেকে ছয় মাস পরপর মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে আসছিল সরকার। তবে ক্ষমতার পালাবদলের পর অন্তর্বর্তী সরকার সব মামলা থেকে ৬ আগস্ট বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অব্যাহতি দিয়েছে। ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থরাইটিস, হৃদ্রোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। তাঁর মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিএনপির নেতারা।

