ঢাকাTuesday , 20 August 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুখ্য নায়ক শেখ হাসিনার সাবেক এপিএস সাইফুজ্জামান শিখর:
বহুমূখী মানবকল্যাণ সংস্থা এনজিও ব্যানারে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ৩০ কোটি টাকা লোপাট!

Link Copied!

দুঃস্থ, বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্তা ও হতদরিদ্র জনগোষ্টীকে কর্মসংস্থানমূলক কাজের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্পের জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রায় ৪০ কোটি টাকার এই প্রজেক্টটি বাস্তবায়নের কাজ পায় বহুমূখী মানবকল্যাণ সংস্থা নামে একটি এনজিও। ২ বছরের এই প্রকল্পে ৮ কোটি টাকার অর্থায়ন করার কথা বহুমূখী মানবকল্যাণ সংস্থার। অসহায় দরিদ্র গরীব,বিধবা স্বামী পরিত্যাক্তাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের আড়ালে ৩০ কোটি টাকা লোপাট করেছে বহুমুখী মানব কল্যাণ সংস্থা নামে এই এনজিও। শুরুর দিকে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকায় এই প্রজেক্ট শেষ করার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবে দুই বছরে মোট খরচ দেড় থেকে দুই কোটি টাকা। এমনটাই দাবি, প্রকল্পের সাথে সরাসরি জড়িত একজনের।
অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের নামে এই প্রজেক্টে থেকে নেয়া হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি টাকা। এই ২৮ কোটি টাকার বড় অংশই ভাগবাটোয়ারা করে নেয়া হয়েছে। অফিস ভবণ এবং প্রশিক্ষণ ভবণ ভাড়া বাবদ দেখানো হয়েছে ৮৬ লাখ টাকা। কম্পিউটার, আনুষঙ্গিক ক্রয় বাবদ ১ কোটি ২৫ লাখ এবং আসবাপত্রবাদ ২৪ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। এগুলোর সবই কাগজে কলমে। মন্ত্রণালয়ের অডিট থেকে বাঁচতে কিছু জিনিসপত্র আইওয়াশ হিসেবে কেনা হয়েছে। ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের জন্য ২৪ টি গাড়ির ভাড়া ২৪ লাখ টাকা ধরা হলেও পুরাতন রেন্টে কারের লক্করঝক্কর গাড়ি ভাড়া করে আনা হয় ফটোসেশনের জন্য। এই এনজিওটির মালিক ধান্দাবাজ সাংবাদিক আহমেদ পিপুল এবং মাগুরার সাবেক এমপি সাইফুজ্জামান শিখর। ছাত্রদল ক্যাডার পিপুল সাইফুজ্জামান শিখরের একাধিক ব্যবসায় রয়েছে। ততকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামানকে কয়েক কোটি টাকা দেয়ার বিনিময়ে এই কাজটি পায় শিখর-পিপুলের এনজিও। এই ধরণের প্রকল্পে কাজ পেতে অন্তত ১০ বছরের পুরাতন এনজিও দরকার পড়ে। তাই বহুমুখী মানবকল্যাণ সংস্থা নামে একটি এনজিও কিনে নেন তারা।
সাইজ্জামান শিখরের নির্বাচনী এলাকা মাগুরা, পিপুলের এলাকা চুয়াডাঙ্গা কুষ্টিয়াসহ আশেপাশের অসহায় দুঃস্থ স্বামী পরিত্যাক্তাদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং ড্রাইভিং কাম মেকানিক্সসের ট্রেনিং দেয়া হয়। যে ট্রেনিংয়ের পুরোটাই সাজানো, লোক দেখানো, সরকারের অর্থ লোপাটের চিত্রনাট্য।
ছবিতে যাদের দেখছেন, তাদেরকে কি অসহায় দুঃস্থ,বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্তা বলে মনে হচ্ছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ৩০ কোটি টাকা হালাল করতে বিভিন্ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরকে নামমাত্র সম্মানীর ভিত্তিতে ভাড়া করা হয়। বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের সাথে চুক্তি করে তাদের ছাত্র ছাত্রীদের বানানো হয়েছে অসহায়।
৩০ কোটি টাকার এই প্রজেক্ট থেকে অর্থ আত্মসাতে জড়িত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আব্দুস সালাম! তিনি এই প্রজেক্টের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এই আব্দুস সালামকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বানাতে তদবির করেছিলেন পিপুল-শিখররা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে আহমেদ পিপুল, কোষাধ্যক্ষ-ডাক্তার সাইফুল্লাহ রাসেল, সদস্য হিসেবে ছিলেন সাইফুজ্জামান শিখর এবং সাবেক যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আনারুল ইসলাম আনোয়ার এবং বর্নমালার সিইও হিসেবে আমেরিকার ছাত্রলীগ নেতা জাহিদ। এই প্রজেক্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন মিটিংয়েও এই সকল ব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিলো। নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে প্রীতিম্যাচ উদযাপনের মত এই প্রজেক্টে ৫ জেলার সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন আহমেদ পিপুলের ভাই বিপুল। প্রতি মাসে ৬০ হাজার করে বেতন নিয়েছেন তিনি। কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য স্থানীয় জামাত নেতা এই বিপুলকে দিয়ে একটি কোম্পানি খুলে সেই কোম্পানির নামে বিল করে পুরাতন এবং কিছু নতুন কম্পিউটার কেনা হয়। সাইফুজ্জামান শিখরের মাগুরার বাড়ির মার্কেটের উপর তলায় করা হয় মাগুরা জেলার অফিস। শিখরের পরিবারের লোকজনও এই প্রজেক্টে জড়িত ছিলো।
অসহায় দুঃস্থ নারী পুরুষদের আর্থ সামাজিক উন্নয়েনর লক্ষ্যে করা এই প্রজেক্টের একজন অন্যতম সদস্য ছিলেন তানভির অপু। শুরু থেকেই প্রজেক্টের নামে অর্থ লোপাটের বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রশ্ন করলে এক পর্যায়ে এই প্রজেক্ট থেকে সরিয়ে দেয়া হয় তানভিরকে। অথচ প্রজেক্ট প্ল্যানিং, ফিল্ড ওয়ার্কসহ সব ইস্যুতে উপস্থিত ছিলেন অপু। এই প্রজেক্টে থেকে তিনি একটি টাকাও পাননি।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই প্রজেক্টের অর্থ লেনদেন হয় ন্যাশনাল ব্যাংকের কলাবাগান শাখায়। প্রথম ধাপে ১০ কোটি টাকা পাওয়ার পর ২ কোটি টাকা দিয়ে বাংলা মোটরে আলিসান ফ্ল্যাট কেনেন পিপুল। কয়েক কোটি টাকা দিয়ে তার ধান্দাবাজির প্রতিষ্ঠান বর্নমালা মাল্টিমিডিয়ার রাজকীয় অফিস নেন। করাপশন ইন মিডিয়া জেনেছে, এই প্রজেক্ট থেকে ততকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রীকে ৫ থেকে ৮ কোটি, সাইফুজ্জামন শিখরকে ১০ কোটি, ইডিকে গাড়ি কিনে দেয়ার কথা ছিলো। বাকি টাকার ভাগ বাটোয়ারা করার কথা ছিলো বাকিদের মাঝে। তবে শেষ পর্যন্ত কে কত পেয়েছেন তা জানা সম্ভব হয়নি। আরো জানা গেছে, সাংবাদিকতাকে ঢাল বানিয়ে শত কোটি টাকার মালিক আহমেদ পিপুল মাগুরার সাবেক এমপি সাইফুজ্জামান শিখরের বিজনেস পার্টনার। একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের। কথিত আছে, মাগুরার সাবেক এমপির তদবিরে বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে বড় বড় কাজ পেয়ে যান পিপুল। এই বির্তকিত সাংবাদিকের গডফাদার হিসেবেও বহুবার নাম এসেছে সাইফুজ্জামান শিখরের। বর্নমালা মাল্টিমিডিয়া নামে আহমেদ পিপুলের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ পেয়েছে। নিজেরাই অর্থ দিয়ে প্রকল্প তৈরি করে পিপুল চক্র। বিভিন্ন প্রজেক্টের ইডিদের আগে থেকেই টাকার বিনিময়ে হাত করে। সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের এক অভিযোগে দেখা যায়, আহমেদ পিপুলের বর্ণমালা মাল্টিমিডিয়াকে কাজ দিতে স্বজনপ্রীতি এবং অন্যায়ের আশ্রয় নিয়েছে খোদ সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর। বর্ণমালাকে কাজ দিতে অন্যদের দরপত্র বাতিলসহ নানা ছলচাতুরির মাধ্যমে এককভাবে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দেয়া হচ্ছে বর্ণমালা মাল্টিমিডিয়া এবং শিখর-পিপুলের মালিকানাধীন এনজিওকে।
সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরে আওয়ামী পন্থী ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দিয়ে অজ্ঞাত কারণে বড় কাজগুলো পায় এই বর্ণমালা টেলিকমিউনিকেশনস। সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য এবং জনস্বার্থে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে। সবাই জানে অথচ; দেখার কেউ নেই। কারণ পিপুলদের মাথার ছাতি হিসাবে আছেন মহাপ্রতাপশালী মাগুরার সাবেক এমপি সাইফুজ্জামান শিখরের মত গডফাদার।