নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম সার্কেলের বন সংরক্ষক দেওয়ান জাফরুল হাসান একের পর এক বদলী বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা। সূত্র জানায়, তার চাকরী জীবনের শেষ পোস্টিং চট্টগ্রামের এই লোভনীয় স্থানটি। তিনি উপ-প্রধান বন সংরক্ষকের পদে বন অধিদপ্তরে বদলীর আদেশাধীন থেকেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে যা ইচ্ছে তাই করছেন। এর কারণ হিসেবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, দেওয়ান জাফরুল হাসানের চাকরীর মেয়াদ বেশি দিন না থাকায় অবৈধ উপায়ে অর্থ কামাইয়ের শেষ ভরসাস্থল চট্টগ্রামের বন সংরক্ষকের পদটি। বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময় ট্রুথ কমিশনে দেওয়া জবানবন্দীতে তিনি নিজকে আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ হিসেবে স্বীকার করলেও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে পুনরায় চাকরীতে যোগদান করেন। সূত্র জানায়, ওয়ান ইলেভেনের সময় যে অর্থ তিনি হারিয়েছেন পুনরায় চাকরীতে যোগদান করে তার কয়েক গুণ অর্থ তিনি কামিয়েছেন। বন বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, শুধু চট্টগ্রাম সার্কেলের সিএফ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বদলী বাণিজ্য এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন চেক স্টেশন দিয়ে মোটা অঙ্কের মাসোহারা তিনি পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, চেক স্টেশন এবং লোভনীয় স্থানে বন কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে বন প্রহরীদের গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে পোস্টিং দিতে তিনি সরাসরি পোস্টিংপ্রাপ্তদের সাথে কথা বলে অর্থ নিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, অবৈধ অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে তিনি কোন সাক্ষী রাখেননি। সূত্র আরো জানায়, টাকা ছাড়া কোন পোস্টিং তিনি করেননি। এ ছাড়া অবৈধ কর্মকা-ের সাথে জড়িতদের শাস্তির পরিবর্তে তিনি পুরস্কৃত করেছেন। বিনিময়ে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা। সম্প্রতি পাহাড়া কাটার অভিযোগে একজন কর্মচারির বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তিনি তাকে পুরস্কৃত করেন। এ নিয়ে বন কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সার্কেলের আওতাধীন লোভনীয় স্থান বান্দরবান পাল্পউড বন বিভাগে বন প্রহরীদের মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি পোস্টিং দিয়েছেন।

