স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ক্যাডাররা এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে তার মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা রয়েছেন আত্মগোপনে। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গত ৮ আগষ্ট সরকার গঠন করলে প্রশাসনের বিভিন্ন পদে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। কিন্ত এখনও রদবদলের ছোঁয়া লাগেনি এলজিইডিতে। বরং স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ৮ আগষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তড়িগড়ি করে প্রধান প্রকৌশলীকে দেওয়া অর্পিত ক্ষমতা রহিত করে তথা প্রকৌশলীগণকে বদলি কিংবা পদায়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা রহিত করে চিঠি ইস্যু করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী প্রতিটি নীতিনির্ধারণী বিষয়ক কাজ সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাকে অবহিত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান অসৎ উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে অবহিত না করে এলজিইডির ওপর অর্পিত ক্ষমতা রহিত করেছেন। জানা গেছে, এলজিইডিতে কর্মরত সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামের নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তাদের রক্ষা করতেই এ আদেশ জারি করা হয়েছে। এ আদেশ জারি করতে তিনি সেসব অসৎ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকুচ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এলজিইডির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও তার এপিএস জাহিদ হোসেন মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পে তাদের দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ দিয়েছেন। সৎ যোগ্য ও মেধাবী প্রকৌশলীদের ডিঙিয়ে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রকৌশীলেদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রকল্পগুলোতে। এমনকি টাকার বিনিময়ে ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে নির্বাহী প্রকৌশলী, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দলবাজ কর্মকর্তাদের। তাদের নেতৃত্বে বিগত ১৫ বছর ধরে এলজিইডিতে চলে লুটপাটের মহোৎসব। এক একজন প্রকৌশলী ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন অল্প দিনে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন প্রকৌশলীরা মন্ত্রীকে মাসোয়ারা দিতেন। অর্থাৎ অবৈধ উপায়ে যা কামাতেন তার ভাগ দিতে হতো সরাসরি মন্ত্রীকে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতন হলেও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা এখনও রয়েছেন বহাল তবিয়তে।
জানা যায়, এলজিআরডি মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর তাজুল লুটপাট আর অবৈধ সম্পদ অর্জনের খেলায় মেতে ওঠেন। নানাভাবে টাকা কামিয়ে তিনি দেশে ও বিদেশে এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তাজুলের সম্পদ কী পরিমাণে বেড়েছে তা ২০১৪, ২০১৮ এবং গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণেই কিছুটা আন্দাজ হয়। ১০ বছর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে হলফনামায় দেওয়া তথ্যে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি টাকার কিছু বেশি। আর গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে দেওয়া হলফনামার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাজুলের সেই সম্পদ ১১৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আর মন্ত্রী হওয়ার আগে ২০১৮ সালে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। চার বছরের ব্যবধানে সেই সম্পদ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। এলজিইডির প্রকৌশলীরা জানান তাজুলের সম্পদের বেশিরভাগই কামিয়েছেন এলজিইডি থেকে। এলজিইডির কর্মকর্তাদের দুর্নীতি অনুসন্ধান করছে দৈনিক পাঞ্জেরী। শিগগিরই ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।

