ঢাকাSaturday , 17 August 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বেপরোয়া নিয়োগ বাণিজ্য

Link Copied!

স্বেচ্ছাচারিতা, বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য, অবৈধ নিয়োগ এবং লাগামহীন দৌরাত্ম্যে দেশের স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার চাকুরি প্রত্যাশীরাও নানাভাবে বঞ্চিত হয়েছেন। একজন ব্যক্তির ইশারায় চলেছে অধিদপ্তরটি। আবার তার বাসার চাকর বাকরদের কথাও চাকুরি হতো। তিনি আর কেউ নন। সদ্য বিদায়ী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা সরকারের আস্থাভাজন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আনিসুল হক আইনমন্ত্রী হয়েও আইন মন্ত্রনালয়কে নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিনত করেছিলেন। অন্যায় আদেশই ছিল আইন। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাসিন্দা হওয়ার কারণে তার এলাকার শতশত লোককে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলার সাব রেজিস্ট্রি অফিস এবং জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ আদায় করা হয়েছে। সিনিয়র নকল নবীসদের বঞ্চিত করে রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়াল উপেক্ষা করে কেরানী পদে নিয়োগ দিয়েছে আইজিআর (নিবন্ধন অধিদপ্তর) অফিস। নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরির্দশক আইনমন্ত্রীর আদেশ পালন করেছেন বলে তারা পার পেতে চান।সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বেশ কয়েকজন বিশ্বস্ত ক্যাশয়ারের মাধ্যমে সারা দেশের সাব রেজিস্ট্রারদের বদলী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন।অভিযোগ রয়েছে, লোভনীয় স্থানে একজন সাব রেজিস্ট্রারের পোস্টিংয়ে কোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নেওয়া হতো। তার নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাব রেজিস্ট্রারদের আস্ফালন এবং ক্ষমতার দাপটে কেঁপে উঠতো গোটা নিবন্ধন অধিদপ্তর। আবার সাবেক আইনমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বাবুর দাপটে সাব রেজিস্ট্রার এবং জেলা রেজিস্ট্রারসহ আদালতের বিচারকগণও থাকতেন তটস্থ। সূত্র জানায়, একজন নকল নবীস দীর্ঘ চাকুরি জীবনে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে ২০/২৫ বছর পর কেরানি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্ত সেই স্বপ্নও চুরমার করে দিয়েছেন দাপুটে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। স্বল্প প্র্রচারিত একটি দৈনিক পত্রিকায় নিয়ােগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কোন রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই কেরানী পদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৪ জনকে চাকুরি দিয়ে ঢাকা জেলার রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স পদায়ন করেন। যা সম্পূর্ণভাবে বিধিবহির্ভূত। এ নিয়ে সেই সময় দৈনিক পাঞ্জেরীতে একাধিকবার তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হলেও আইন মন্ত্রনালয়ের টনক নড়েনি। আবার নিবন্ধন অধিদপ্তরের কর্মচারিকে সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানির পদেও বসিয়ে দেওয়া হতো।
জোর যার মুল্লুক তার 
আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে যা মন চায় তাই করতেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। অবৈধভাবে কেরানি পদে নিয়োগ প্রাপ্তরা হলেন-বাড্ডা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানি রাসেল মিয়া, পল্লবী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানি সামিউল হক, কেরানীগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানি জয়নাল, শ্যামপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানি ইমতিয়াজ আলম রিমন। সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানি পদটি অত্যন্ত লোভনীয়। বেতন ১৫ হাজার টাকা হলেও মাসে কয়েক লাখ টাকা অবৈধভাবে উপার্জনের মেশিন ওই চেয়ারটি। এর মধ্যে পল্লবী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানি সামিউল হক সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাসায় কর্মরত ব্যক্তিগত (পিএ) কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বাবুর আপন ছোট ভাই। অন্যদিকে কেরানিগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানি জয়নাল আবেদীন তার চাচাতো ভাই। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কয়েকশ লোককে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মচারি হিসেবে নিয়োগ দিতে বাধ্য বাধ্য করা হয়েছে। যার কারণে জেলা কোটায় অনেকেই ন্যায্য অধিকার থেকে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত হয়েছেন। ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় কর্মরত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর শাহিন বাড্ডা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানি রাসেল মিয়ার আত্মীয়। রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের উমেদার সাজ্জাদ হোসেন এবং পিয়ন মোবারক হোসেনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এভাবে শতশত কর্মচারিকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্দেশে। ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের পিয়ন আমিনকেও বয়স টেম্পারিং করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছ। সূত্র জানায়, পিয়ন আমিন আনিসুল হকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বাবুর খালু। পিয়ন আমিনকে ঢাকা জেলার সাবেক জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার আনিসুল হককে খুশি করতে অবৈধভাবে খিলগাঁও সাব রেজিস্ট্রি অফিসে পোস্টিং দিয়েছেন। এছাড়া সাবেক আইনমন্ত্রীর বাসার আরেকজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএ) শরীফুল ইসলাম সোহাগ তার পঞ্চার্ধ্বো বয়স্ক ভাই পাশাকে সার্টিফিকেট জালিয়াতির মাধ্যমে বাড্ডা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে পিয়নের চাকুরি দিয়েছেন। নরসিংদী জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর শরীফুল ইসলামকে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বাবু চাকুরিতে নিয়োগ দিয়েছেন। শরীফুল ইসলাম পল্লবী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানি সামিউল হকের স্ত্রীর বড় ভাই। ঢাকা জেলাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় লোভনীয় সাব রেজিস্ট্রি অফিসের পোস্টিং আলাউদ্দিন বাবু, শরীফুল ইসলাম সোহাগ, গাজীপুরের জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার ও তৌফিকা করিমের মাধ্যমেই নির্ধারন করা হতো। হাতিয়া নেওয়া হতো কোটি কোটি টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, পল্লবী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কেরানী সামিউল হক তার গ্রামের বাড়িতে বিপুল পরিমাণে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। এছাড়া রাজধানীতে রয়েছে তার কয়েক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ। ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সর প্রতিটি সাব রেজিস্ট্রি অফিসে অবৈধভাবে কর্মচারি নিয়োগের রেকর্ড এটাই প্রথম। যা আইনের চোখে চরম শাস্তিযোগ্য অপরাধ। (এ ব্যাপারে দৈনিক পাঞ্জেরীর অনুসন্ধান চলছে বিস্তারিত পড়ুন আগামী সংখ্যায়)
সাবিকুন নামা
ঢাকা জেলার সাবেক জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সকল অবৈধ আদেশ নির্দেশ পালনে ব্যস্ত থাকতেন। যে কারণে তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক জাতীয় দৈনিকে নানা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তথ্য বহুল সংবাদ প্রকাশিত হলেও আনিসুল হকের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের কারণে তার টিকিটি কেউ স্পর্শ করতে পারেননি। সাবিকুন নাহার সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আরেক বান্ধবী তৌফিকা করিমের সঙ্গে মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সাবিকুন নাহারের দাপটে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে কর্মরত সাবেক আইনমন্ত্রীর লোকজন ব্যতিত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা থাকতেন আতঙ্কে। আনিসুল হকের আস্থাভাজনরা শত অপরাধ করেও পার পেয়ে যেতেন। সাবিকুন নাহার ব্যক্তি জীবনে একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে নিবন্ধন অধিদপ্তরে সকলের কাছে পরিচিত হলেও তিনি নিজেকে সৎ কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করেন। তার আমলনামা পর্যালোচনা করলে স্পষ্টই প্রতীয়মান হবে তিনি আপদমস্তক একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। দুর্নীতির নানা অভিযোগ থাকার পরেও দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের কাছ থেকে সততার সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। সাবিকুন নাহার জেলা রেজিস্ট্রিার হিসেবে নারায়নগঞ্জ, ঢাকা এবং গাজীপুরে ১০ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন। শুধুমাত্র সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক স্থাপন করেই সাবিকুন নাহার তার আখের গোছাতে সক্ষম হয়েছেন। গত ৫ আগস্ট স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের পর গাজীপুরের জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার বোল পাল্টিয়ে ফেলেছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা
নিবন্ধন অধিদপ্তরের মাধ্যমে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের অন্যায় আদেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শতশত মানুষকে যোগ্যতা ছাড়াই ঢালাওভাবে সারাদেশে সাব রেজিস্ট্রি অফিস এবং জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে নিয়োগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তদন্তে সচেতনমহল দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।