ঢাকাSaturday , 17 August 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুই সিটিতে অস্থিরতা, পলাতক দুই মেয়র, আত্মগোপনে কাউন্সিলররা নাগরিক সেবা ব্যাহত

Link Copied!

শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালানোর পর সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অবহেলিত-নির্যাতিতরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। অন্যান্য অফিসের মতো সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের মুখে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশিকুর রহমান চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। এই সিটির সচিব (যুগ্মসচিব) আকরামুজ্জামানের অপসারণ দাবি করেছেন তারা। তিনি ট্রেনিংয়ে থাকার কারণে কিছুদিন ধরে অফিস করছেন না। বিক্ষুব্ধরা দুই সিটির মেয়রের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মেয়রদের পদত্যাগও দাবি করেছেন। যদিও ঢাকা দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস সরকার পতনের আগেই গত ৩রা আগস্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়েন। ওইদিন তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। এ সময় আলাদা আরেকটি ফ্লাইটে তার পরিবারের সদস্যরা লন্ডনে যান।
তবে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বিদেশে যেতে পারেননি। তিনি দেশেই আছেন বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। তিনি মোবাইল ফোনে করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও নগর ভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে। মেয়র ছাড়াও দুই সিটির প্রায় শতাধিক কাউন্সিলর আত্মগোপনে রয়েছেন। করপোরেশনের অফিসগুলোতে কর্মকর্তাদের কাজে মনোযোগ নাই। সভা-বৈঠক খোশগল্প করে সময় পার করছেন। এতেকরে দুই সিটির বাসিন্দারা নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিভাবক শূন্য ঢাকার দুই সিটিতে নাগরিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বাড়ছে ভোগান্তি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ডিএসসিসি ও ডিএনসিসিতে সাধারণ কাউন্সিলর পদ রয়েছে ১২৯টি। এর মধ্যে ১১৮ জন কাউন্সিলর আত্মগোপনে। ডিএসসিসিতে সাধারণ কাউন্সিলর পদ ৭৫টি, ডিএনসিসিতে ৫৪টি। এই পদগুলোর মধ্যে ডিএসসিসিতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর ৬৭ জন, ডিএনসিসিতে ৫১ জন। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর অধিকাংশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের দাপ্তরিক কার্যালয়ে হামলা, বাসাবাড়ি ভাঙচুর, বাসা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। ৫ই আগস্ট থেকে কাউন্সিলর কার্যালয়গুলোতে তালা ঝুলছে। শতাধিক কাউন্সিলর আত্মগোপনে থাকায় জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ বিতরণসহ অন্য সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে সক্রিয় রয়েছেন বিএনপি ও অন্য দল সমর্থিত কাউন্সিলররা। খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, যেকোনো ক্রয়, নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, বোর্ডসভা ও দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন কাজের অনুমোদন, কাজের বিল, নিরাপত্তা জামানত, আর্থিক ও প্রশাসনিক কাজের অনুমোদনসহ সব বিষয়েই মেয়রদের স্বাক্ষর দরকার হয়। এখন তারা না আসায় সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, নির্বাচনী বছর হওয়ায় এবার দুই সিটির মেয়র অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি উন্নয়নকাজ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ সবের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশি মনোযোগ ছিল। দক্ষিণ সিটির প্রকৌশল বিভাগ সূত্র বলছে, বিভিন্ন এলাকায় সংস্থাটির প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাজ চলমান। কিন্তু গত মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরুর পর থেকেই এসব কাজ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আরও ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। মেয়র না আসায় এসব কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারলে আগামী বছর ঢাকায় আবার জলাবদ্ধতার ভোগান্তি হবে। উত্তর সিটির সূত্র বলছে, সংস্থাটিতে বর্তমানে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এসব কাজ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মেয়র না আসায় উন্নয়ন কাজের জন্য প্রক্রিয়াধীন দরপত্রগুলোর অনুমোদন নেয়া যাচ্ছে না। কাজের চলতি বিলগুলো পরিশোধ করা যাচ্ছে না। আবার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল, সেসব বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, মেয়র তাপস দেশ ছাড়ার আগে কাউকে কিছু জানাননি। বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারে কোনো চিঠিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়নি। অথচ ওইদিন তিনি পরিবার নিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করে দেশ ছাড়েন। পরে মেয়র তাপস বিমানের ভেতর দাঁড়িয়ে আছেন, এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার দু’দিন পরেই দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। তিনি দেশত্যাগের পরপরই উত্তরের মেয়র ও দুই সিটির আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলররা আত্মগোপনে যান। ওইদিনের পর থেকে আর কেউ প্রকাশ্যে আসেননি। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। সূত্র বলছে, ঢাকার দুই মেয়রের দায়িত্ব পালনের শেষ অর্থবছর চলছে এখন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে সিটি নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই মেয়র কার্যালয়ে ফিরবেন কি না, তা স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারছেন না।
তারা দায়িত্বে না ফিরলে প্রশাসন কীভাবে চলবে, তা জানতে দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ডিএসসিসি’র ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের (ডেমরার ডগাইর ও বামৈল) কাউন্সিলর আব্দুল মতিন সাউদ বলেন, মেয়র তাপস দেশ ছাড়ার পর আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলররাও আত্মগোপনে চলে গেছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ঠিকমতো অফিস করছেন না। ফলে দক্ষিণ সিটি এখন কার্যত অচল। জাপার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ডিএনসিসি’র ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের (মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকা) কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম সেন্টু বলেন, আমার ওয়ার্ডে জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ বিতরণসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে। আমার কাজে কেউ কোনো বাধা দেয়নি।