
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : অবৈধভাবে পাহাড় কাটার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বন কর্মচারিকে মাত্র দু’দিনের মাথায় বরখাস্ত আদেশ বাতিল করলেন ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তা। বন কর্মচারিদের অবৈধভাবে পাহাড় কাটায় উৎসাহী করা এই কর্মকর্তা হলেন চট্টগ্রামের বন সংরক্ষক দেওয়ান জাফরুল হাসান। বন অধিদপ্তরে বদলি আদেশপ্রাপ্তির পরপরই মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে করা বন সংরক্ষকের এহেন অবৈধ আদেশকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ভারসাম্য হারাতে বসেছে চট্টগ্রাম বন সার্কেলে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের মিরসরাই উপজেলাধীন মহামায়া এলাকায় দায়িত্বে নিয়োজিত রেঞ্জ অফিসার মুক্তারুজ্জামান তার অধীনস্থ জোবারগঞ্জ বিট অফিসার জাহাঙ্গীর আলমকে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার নির্দেশ দেন। এ সময় ড্রেজার দিয়ে পাহাড় কাটার সময় অল্পের জন্য বেশ কয়েকটি প্রাণ রক্ষা পায়। জানা যায়, মিরসরাই উপজেলার পূর্ব দূর্গাপুর এলাকার মহামায়া প্রকল্পের সম্মুখ স্থানে একটি উঁচু পাহাড় বন বিভাগ নিজে কেটে সেই মাটি দিয়ে পার্কিং এলাকা তৈরি করছিল। অথচ এই পার্কিং ও বাউন্ডারি নির্মাণের জন্য বাইরের থেকে মাটি কিনে ভরাট করার জন্যও সরকারি বরাদ্দ ছিল। এই বরাদ্দের টাকা রেঞ্জ অফিসার ও বিট অফিসার সমন্বয়ে আত্মসাৎ করার অভিপ্রায়ে পাশ্ববর্তী পাহাড় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে কেটে মাটি এনে পার্কিং এলাকা ভরাট করছিল। মহামায়া গেইট সংলগ্ন পাহাড়টি ড্রেজার দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে কয়েক দিন ধরে কাটার পর স্থানীয়দের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত করে বিট অফিসারকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্তসহ ঘটনা তদন্তের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেন। কিন্তু বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কর্তৃক বিট অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করলেও মাত্র দু’দিনের মাথায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বদলী আদেশপ্রাপ্ত বন সংরক্ষক মোটা অঙ্কের বিনিময়ে উক্ত সাসপেনশন আদেশের কার্যক্রম বাতিল করে দোষী বিট অফিসারকে পুনরায় সেখাইে বহাল তবিয়তে থাকার নির্দেশ দেন। এহেন অবৈধ নির্দেশটি সমগ্র চট্টগ্রাম বনাঞ্চলের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বন সংরক্ষক দেওয়ান জাফরুল হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

