ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। এর ফলে মোংলা বন্দরকে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মোংলা বন্দর থেকে ৪৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে রেমাল ।শনিবার (২৫ মে) সন্ধ্যা নাগাদ এটি ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এ রূপ নেবে এমনটাই ধারণা করছেন আবহাওয়া অফিস। সেই ‘রেমাল’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানবে। এর ফলে সাগর প্রচন্ড উত্তাল রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রোমেল মোকাবেলায় মোংলায় ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্র সহ ১৬’শ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রেখেছে উপজেলা প্রশাসন । এছাড়া মোংলা উপজেলা প্রশাসন, মোংলা পৌর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক পৃথক ৩ টি কন্ট্রোল রুম খুলেছে। এমনকি বাগেরহাট জেলা প্রশাসনও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহন করেছে । জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্র সহ ৩ হাজার ৫০৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় খাবারেরও মজুদ রয়েছে। মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না সাংবাদিকদের অবহিত করে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত বাড়ার সাথে সাথেই আমাদের কার্য্যক্রমের গতিও বাড়ানো হবে । জেলা প্রশাসক মোহাঃ খালিদ হোসেন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
বন্দরে নোঙর করা ছোট বড় বাণিজ্যিক জাহাজকে সতর্ক করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছেন, গভীর নিম্নচাপটি যদি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় তবে তারা যেন নিরাপদে থাকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে।
এর মধ্যে দুপুরে পশুর নদী এবং সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার নদী ও সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার ট্রলার, বিভিন্ন নৌযান সমূহকে ঘূর্ণিঝড় আসার আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকেও মাইকিং করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মুনতাসির ইবনে মহসীন জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হওয়ার আশঙ্কার বিষয়টি সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কোস্টগার্ড মোংলা পশ্চিম জোন।
মোংলা আবাহওয়া অফিসের ইনচার্জ হারুন অর রশিদ জানায়, রোমেলের বর্তমান যেই অবস্থান দেখাচ্ছে তাতে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ওপর দিয়েই অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুন্দরবন এলাকা এবং বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা জেলায় রেমাল এর আঘাত হানার সম্ভবনা বেশি রয়েছে।

