ঢাকাSunday , 28 April 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মালিকদের অশেষ ক্ষতি : ডিজাইন হাউসগুলোর পোয়াবারো
বালিবাহী নৌযান রেজিষ্ট্রেশনে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নতুন বিধিমালা জারি!

Link Copied!

অনুর্দ্ধ ৪০ ফুট মিটার দৈর্ঘ্যের সকল বালিবাহী নৌযানের নকশা অনুমোদনে নতুন বিধিমালা জারি করেছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। গত ১৪ মার্চ নৌপরিবহন অধিদপ্তরের স্মারক নং ১৮.১৭.০০০০.০১৫.৩৩.০০৩.২১.২৫০ মুলে মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম স্বাক্ষরিত এই বিধিমালা জারি করা হয়।
জারিকৃত বিধিমালায় বলা হয়, এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অভ্যন্তরীণ নৌপথের নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বালিবাহী নৌযানের নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ এবং চলাচল সংক্রান্ত বিষয়ে মত বিনিময় সভার কার্যবিবরণীর ৩ নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক অনুর্দ্ধ ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের সকল বালিবাহী নৌযানের নকশা নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত হবে। এতদউদ্দেশ্যে বালিবাহী নৌযান মালিকগণ নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিম্মোক্ত নকশা ও ডকুমেন্টসসহ নৌপরিবহন অধিদপ্তরে আবেদন করবেন।
প্রতিটি নকশা অনুমোদন ও রেজিষ্ট্রেশনের সরকারী ফি নির্দ্ধারণ করা হয়েছে ৫/৬ হাজার টাকা। এতে করে বালিবাহী নৌযানের মালিকগণ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের এই নতুন বিধিমালার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর ৩০/৩৫ টি ডিজাইন হাউসের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুস নিয়ে এই বিধিমালা জারি করেছে। কেন না, প্রায় ৩/৪ বছর যাবত বড় বড় নৌযানের নকশা অনুমোদন ও রেজিষ্ট্রেশন বন্ধ থাকায় ডিজাইন হাউসগুলো বেকার হয়ে পড়েছিল। তারা অনেকেই কর্মচারি ছাঁটাই করে বেকার সময় পার করছিল। আবার অনেক ডিজাইন হাউস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এমতবস্থায় তারা তাদের প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার স্বার্থে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের অস্থায়ী প্রধান প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করেন। তারা বালিবাহি নৌযানগুলোকে নকশা পাশ ও রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় আনার দাবী জানান। বিনিময়ে মহাপরিচালক ও অস্থায়ী প্রধান প্রকৌশলীকে এককালীন মোটা অংকের টাকা ঘুস প্রদানের অফার দেন। তারা বলেন, এ ধরণের বিধিমালা জারি করলে বিনা রেজিষ্ট্রেশনে কোন বালিবাহী জাহাজ তৈরি ও চলাচল করতে পারবে না। এতে করে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব  আয় করতে পারবে। অন্যদিকে বেকার হতে যাওয়া ডিজাইন হাউসগুলোও বেঁচে যাবে।
ডিজাইন হাউসগুলোর এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর। পরবর্তীতে বালিবাহী নৌযান মালিকদের আপত্তি সত্ত্বেও ডিজাইন হাউসগুলোকে খুশি করার জন্য উপরোক্ত বিধিমালা জারি করা হয়।
এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন বালিবাহী নৌযান মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বালিবাহী জাহাজগুলোর মালিকগন সামান্য পুঁজিতে ব্যবসা করেন। নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর এই বিধিমালা জারি করায় তাদের ওপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘাঁ মারা হয়েছে। নতুন বিধি বা আইন জারির ফলে একটা বালিবাহী নৌযানের নকশা অনুমোদন করতে গেলে ডিজাইন হাউসগুলো ৫০/৬০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নেবে। এরপর আবার রেজিষ্ট্রেশন করতে গেলে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরকে দিতে হবে ২/৩ লক্ষ টাকা। ফলে বালিবাহী নৌযান নির্মাণ ও নকশা অনুমোদনে মালিকগন অনুতসাহিত হয়ে পড়বে। বেড়ে যাবে রেজিষ্ট্রিশনবিহিন বালিবাহী নৌযানের সংখ্যা। সরকারও রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে।
অন্যদিকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের অনুমোদন বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই নৌপরিবহন অধিদপ্তর এমন একটি বিধিমালা জারি করতে পারে না। বালিবাহী নৌযান মালিকরা আরো বলেন, নির্মাণ বিধিমালা ২০০১ অনুসারে নোভাল বা প্রিমটিভ পদ্ধতিতে তৈরি ৪০ মিটারের কম দৈর্ঘ্যের নৌযানের ক্ষেত্রে নিবন্ধনকরণের জন্য নকশা অনুমোদনের প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ আছে। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী সেই বিধিমালা উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত লাভবান হওয়ার স্বার্থে এই বিধিমালা জারি করেছেন। যে কারণে বালিবাহী নৌযান মালিকরা অশেষ ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। তারা অনতিবিলম্বে জারিকৃত এই বিধিমালা বাতিল করে ২০০১ এর বিধিমালা বহাল রাখার দাবী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নৌপথের নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও অবৈধ বালিবাহি নৌযান নিয়ন্ত্রনে এনে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্যই এই বিধিমালা জারি করা হয়েছে।