ঢাকামঙ্গলবার , ২ এপ্রিল ২০২৪
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. কৃষি ও অন্যান্য
  5. খেলাধুলা
  6. গল্প ও কবিতা
  7. জাতীয়
  8. তথ্যপ্রযুক্তি
  9. দেশজুড়ে
  10. ধর্ম ও জীবন
  11. প্রবাস
  12. বানিজ্য
  13. বিনোদন
  14. বিশেষ প্রতিবেদন
  15. মুক্তমত
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সমবায় লুটে আগষ্টিন দর্জি থেকে ধনকুব

এস এম বদরুল আলম
এপ্রিল ২, ২০২৪ ৬:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অবৈতনিক চেয়ারম্যান পদে আছেন প্রায় ১১ বছর। এই স্বেচ্ছাসেবামূলক অবৈতনিক পদে থাকার জন্যে কোটি টাকা খরচ করে আইনের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রতিবাদি সদস্যদের উপর চালাচ্ছেন অত্যাচারের স্টিমরোলার।কিন্ত কি মধু এখানে? মধুর চাকের সন্ধানে জানাগেল, আগষ্টিন পিউরিফিকেশন গরীব পরিবারের সন্তান,এককালে পাগাড়ে দর্জিগিরি ও জমির দালালি করতেন। দৃশ্যত কোন ব্যবসা বা চাকুরি না থাকা সত্ত্বেও দি মেট্রোপলিটন খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি:(এমসিসিএইচএসএল)এর ”অবৈধ” চেয়ারম্যান আগষ্টিন পিউরিফিকেশন এখন হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক।আমেরিকার মিশিগান অঙ্গরাজ্যে বাড়ি, গাজীপুর জেলার টঙ্গী থানাধিন পাগাড়ে বিলাশবহুল বাড়ী,টঙ্গীস্থ জীনুর মার্কেটে একটি ৫তলা ও একটি ৭ তালা বিল্ডিং, তেজগাঁও হুন্ডা গলিতে ২টি ফ্লাট, মনিপুরিপাড়ায় ১টি ফ্লাট, উওরা ১৬ নং সেক্টরে ৫ কাঠা প্লট , এশিয়ান টাউনে ২টি প্লট ,পাগাড়ে ১ বিঘার প্লট , পাগাড়ে ১৫ কাঠার উপর বাড়ী, শেরপুর বার মারিতে আড়াই বিঘা প্লট ,তুমিলিয়ায় ২০ বিঘা প্লট , বাটারা ৪ নং সেক্টরে ২টি প্লট , ২য় স্ত্রী লতার নামে উওরার ৯ নং সেক্টরে ২টি প্লট , মাউসাইদে ২ বিঘা প্লট এবং ভাদুনে ১টি প্লট ।নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর। উক্ত সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে দি মেট্রোপলিটন খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি:এ লুটপাট করেই তিনি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি আগষ্টিনের দুই ছেলে, ভাই সেবাষ্টিন সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সমবায়ের সম্পদ লুটপাট করে প্রচুর অর্থ বিত্তের মালিক।এছাড়া তার বিরুদ্ধে বাড়ি কেনার সুবাদে মানি লন্ডারিং প্রক্রিয়ায় আমেরিকায় অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি আগষ্টিন পিউরিফিকেশন এর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ,ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন করেছেন সোসাইটির সদস্য অমূল্য লরেন্স পেরেরা। অন্যদিকে দি মেট্রোপলিটন খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি:এ ”অবৈধভাবে”চতুর্থ মেয়াদে সেক্রেটারির পদ দখলে রাখা ইমানুয়েল বাপ্পি মন্ডল, ”অবৈধভাবে”চতুর্থ মেয়াদে ট্রেজারার পদ দখলে রাখা বাদল বি. সিমস্যাং, ”অবৈধভাবে”চতুর্থ মেয়াদে পরিচালক পদ দখলে রাখা কল্পনা ফলিয়া, পরিচালক ডেভিড প্রবিন রোজারিও এবং সিনিয়র ম্যানেজার(ল্যান্ড) রতন আর. পেরেরাও সমবায় প্রতিষ্ঠানটি লুটপাট করে অঢেল অর্থ বিত্তের মালিক বনে গেছেন।
উল্লেখ্য,সমবায় আইন ২০০১(সংশোধিত ২০১৩) জাতীয় সংসদে পাস করার পূর্বে আইন সংশোধনকল্পে সমবায় মন্ত্রণালয় ও সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত কমিটি পর্যাপ্ত যাচাই বাচাই,সমবায় সমিতির প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় ও বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করেই খসড়া চুড়ান্ত করেছেন।যা জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। বর্তমানে দেশে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধনকৃত সমবায় সমিতির সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার। সমবায় সমিতিসমুহের ব্যক্তি সদস্য প্রায় ১২ লাখ। ২০১৩ সালে আইন পাসের পর সমবায় আইন ২০০১(সংশোধিত ২০১৩) এর ১৮(৮) ধারা আগষ্টিন পিউরিফিকেশন, ইমানুয়েল বাপ্পি মন্ডল ও বাদল বি. সিমস্যাং ছাড়া এখন পর্যন্ত অন্যকোন সমবায়ী চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাননি।
সূত্রমতে, আগষ্টিন পিউরিফিকেশন দি মেট্রোপলিটন খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি: এ বর্তমানে অবৈধভাবে চেয়ারম্যান পদে আছেন।কেননা, সমবায় আইন ২০০১(সংশোধিত ২০১৩) এর ১৮(৮) ধারায় বলা হয়েছে”ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হিসেবে একাধিক্রমে তিনটি মেয়াদ পূর্ণ করিয়াছেন এমন কোন সদস্য উক্ত মেয়াদের অব্যবহিত পরবর্তি একটি মেয়াদের নির্বাচনে প্রার্থী হইবার যোগ্য হইবেন না”। অথচ সমবায়ের মাফিয়া খ্যাত দর্জি আগষ্টিন পিউরিফিকেশন দি মেট্রোপলিটন খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি:(এমসিসিএইচএসএল) এ অবৈধভাবে চতুর্থ মেয়াদে চেয়ারম্যানের পদ দখল করে আছেন। এবিষয়ে সমবায় অধিদপ্তরের ২০২০-২১ অর্থবছরের অডিট রিপোর্টে চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত দেখানো চেয়ারম্যান সহ ৪ জনকে অপসারনের নির্দেশনা দেয়া হয় এবং তাদের স্বাক্ষরে ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা বন্ধ করতে বলা হয়।কিন্ত আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে আগষ্টিন পিউরিফিকেশন দম্ভের সাথে চেয়ারম্যানের পদ দখল করে রেখেছেন।
সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক ও অডিট দল প্রধান মোছা: নূর-ই-জান্নাত এর নেতৃত্বে সম্পাদিত অডিট রিপোর্টের ১৫ নং পৃষ্ঠায় পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে- বর্তমান কমিটির পূর্বের কমিটির মেয়াদ ২৯/১০/২০২১ পর্যন্ত বলবৎ ছিল। কভিড মহামারির অজুহাত দেখিয়ে ব্যববস্থাপনা কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে সমবায় সমিতি আইন ২০০১(২০০২,২০১৩)এর ৪ ধারা হতে অব্যাহতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে(আদেশ নং-৪৭.৬১.০০০০.০৩২.০৬.০৮৬.১৬-৩৬৮ তারিখ ১৪/৯/২০২১)৪ ধারাা হতে অব্যাহতি পেয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ ১২০ দিন বৃদ্ধি পায়। সে মোতাবেক ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ ২৮/২/২০২২ তারিখ পর্যন্ত বহাল থাকে।
পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, ১৯/২/২০২২ তারিখের নির্বাচনে চেয়ারম্যান আগষ্টিন পিউিিরফিকেশন,সেক্রেটারী ইমানুয়েল বাপ্পি মন্ডল,পরিচালক অর্থ ও প্রশাসন বাদল বি সিমস্যাং ও সদস্য কল্পনা মাারিয়া ফলিয়া চতুর্থ বারের মত নির্বাচিত হয়েছেন। উক্ত চার ব্যক্তি সমবায় সমিতি আইন ২০০১(২০০২,২০১৩)এর ১৮(৮) ধারা এবং জারিকৃত সংশ্লিষ্ট তফসিলের নির্বাচনী জ্ঞাতব্য বিষয়ের ৬ নং শর্ত অনুযায়ী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অযোগ্য।দ্রুত তাদের ব্যবস্থাপনা কমিটি থেকে অপসারন করার লক্ষ্যে সমবায় সমিতি আইন ২০০১(২০০২,২০১৩)এর ধারা ২২(১) অথবা সমবায় সমিতি বিধিমালা ২০০৪ এর ৩৮ ও ৩৯ বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন। পরবর্তিতে উক্ত চারটি শুন্য পদে সমবায় সমিতি আইন ২০০১(২০০২,২০১৩)এর ধারা ২০(১) অনুসরন করে যোগ্য সদস্যকে কো-অপ্ট করা যেতে পারে।
আবার সমিতির উপ-আইন অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব সভাপতি,সেক্রেটাারি এবং ম্যােেনজারের যেকোন দুই জনের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হয়ে থাকে। যেহেতু সভাপতি এবং সেক্রেটারি দুই জনই সমবায় সমিতি আইন ২০০১(২০০২,২০১৩)এর ১৮(৮) ধারা মোতাবেক ব্যবসস্থাপনা কমিটির সদস্য হওয়ার অযোগ্য,সেহেতু তাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও ব্যাংক হিসাব পরিচালনা নৈতিক ও আর্থিক বিধির পরিপন্থি।
পর্যবেক্ষণ অন্তে সুপারিশে বলা হয় – সমবায় সমিতি আইন ২০০১(২০০২,২০১৩)এর ১৮(৮) ধারা মোতাবেক অযোগ্য ব্যক্তিবর্গকে দ্রুত একই আইনের ধারা ২২(১) অথবা সমবায় সমিতি বিধিমালা ২০০৪ এর ৩৮ ও ৩৯ বিধি মোতাবেক অপসারন করে সমবায় সমিতি আইন ২০০১(২০০২,২০১৩)এর ধারা ২০(১) অনুসরন করে যোগ্য সদস্যকে কো-অপ্ট করার পরামর্শ দেয়া হলো। একই সাথে ব্যাংক হিসাব পরিচালনার স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে সহ-সভাপতিকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়ার পরামর্শ দেয়া হল।
অথচ রহস্যজনক কারনে আজ পর্যন্ত দর্জি আগষ্টিন পিউরিফিকেশন সহ অবৈধ চার জনকে অপসারন করা হয়নি। অডিট রিপোর্টের সুপারিশ,আইন পদদলিত করে দম্ভের সাথে চেয়ারম্যানের পদ দখল করে লুটপাট করে যাচ্ছেন। এই অবৈধ ক্ষমতা দখলে সহযোগিতা করেছে সমবায় অধিদপ্তরের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তা। ১৯/২/২০২২ তারিখের প্রহসনের নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান,সদস্য হিসেবে ছিলেন পরিদর্শক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদিন ও পরিদর্শক মো: শাকিলুজ্জামান। নেপথ্যে ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের তৎকালিন যুগ্ম নিবন্ধক রিয়াজুল কবির। চতুর্থ মেয়াদে অবৈধভাবে আগষ্টিন পিউরিফিকেশন এর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রীট পিটিশন দায়ের করেছেন অমুল্য লরেন্স পেরেরা। রীট পিটিশন নং-৫৫৯১/২০২৩। হাইকোর্ট এই আইন বহির্ভূত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধকের প্রতি আদেশ প্রদান করেন।
সূত্রমতে,তিনি ০৮-১২-২০০৬ হতে ০৮/১২/২০০৯ পর্যন্ত সমিতির বোর্ড ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। ০৬-১২-২০১২ তারিখ থেকে একটানা চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন।কেবল প্রথমবার নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। পরে সমবায় অধিদপ্তরের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তার সহায়তায় কায়দা কৌশল করে প্রহসনের নির্বাচন দেখিয়ে ”বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায়” নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জেল জুলুমের ভয় দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এখন সমিতির সদস্যদের প্রশ্ন আগষ্টিন পিউরিফিকেশন কি আইন আদালতের উর্ধ্বে?
গাজীপুর জেলার টঙ্গী থানার পাগার গ্রামের এককালের দর্জি ও জমির দালাল আগষ্টিন পিউরিফিকেশন ০৩-০২-১৯৯২ তারিখে দি মেট্রোপলিটন খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি:(এমসিসিএইচএসএল) এর সদস্য হন। অত:পর আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে যান।চেরাগ ঘষে এখন হাজার কোটি টাকার মালিক! ১১ বছরে দর্জি আর জমির দালাল থেকে হয়ে গেছেন ধনকুবের সমাজসেবি। উচ্চ শিক্ষা বঞ্চিত দর্জি আগষ্টিন বনে গেছেন বিশিষ্ট সমবায়ী। তদবিরের মাধ্যমে বাগিয়ে নিয়েছেন শ্রেষ্ঠ সমবায়ির পুরস্কার।সমবায় সমিতির টাকা ব্যয় করে সেজেছেন সমাজসেবি। সকল অপকর্মজাত রোষানল থেকে বাঁচতে সমিতির প্রধান কার্যালয়ে ট্রেডিশন ভঙ্গ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবি মার্বেল পাথরে খোদাই করে রেখেছেন। সমবায় প্রতিমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে চলেন। এজিএম-এ অনুমোদন ছাড়া সমিতির টাকা দিয়ে তেজগাঁও থানায় ভ্যান উপহার দিয়ে বনেছেন পুলিশ বন্ধু।
দর্জি আগষ্টিন অবৈধ টাকার জোরে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন।আইন আদালত পর্যন্ত তোয়াক্কা করছেন না। তিনি দি মেট্রোপলিটন খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি: ও দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ লি:(কালব) এ অবৈধভাবে চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। সমিতিকে বানিয়েছেন নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এমসিসিএইচএসএল-এ নাই কোন জবাবদিহিতা।বোর্ড সদস্যরা তার স্টাফের ন্যায় কাজ করেন। এখন আবার কালব কেও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান বানানোর চেষ্টা করছেন। বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে একা সব নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করছেন। সমবায় অধিদপ্তর এমসিসিএইচএসএল এর যে অডিট করে তাতে অনিয়ম দুর্নীতির ছিটেফোঁটাও ওঠে আসে না। ঘুষে তুষ্ট অডিট দলের নজরে পরে না কোন অনিয়ম দুর্নীতি। তাছাড়া, একাধিক সমবায় কর্মকর্তা নিয়মিত এমসিসিএইচএসএল এ অফিস করেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে। তারাই সকল অনিয়ম জায়েজ করার ফর্মুলা বাতলিয়ে থাকেন।নির্বাচিত ইন্টারনাল অডিট কমিটি আছে কিন্ত কমিটি যে নামকাওয়াস্তে রিপোর্ট প্রদান করে তাও বোর্ড সভা বা সাধারন সভায় উপস্থাপন করা হয়না। সমবায় অধিদপ্তরের ২০২০-২১ অর্থবছরের অডিট রিপোর্টে এবিষয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। ইন্টারনাল অডিট কমিটির একজন সাবেক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,কমিটির আসলে কোন ক্ষমতা নেই। সমিতি চলে চেয়ারম্যানের ইচ্ছায়। নাম মাত্র একটা কমিটি আছে,রিপোর্টও নাম মাত্রই দেয়া হয়। এখানে আইন কানুনের বালাই নাই। চেয়ারম্যানের কথাই আইন।
সমবায় অধিদপ্তরের ২০২০-২১ অর্থবছরের জোড়াতালির অডিটেও অনেক অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে। মামলার পিছনে অতিরিক্ত ব্যয়,বিলের ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করা,একাউন্ট পেয়ি চেকে লেনদেন না করে নগদ অর্থ প্রদান,অতিরিক্ত নগদ অর্থ হাতে জমা রাখা,সরাসরি জমি না কিনে পাওয়ার অব এটর্নীর মাধ্যমে বেশি দামে জমি কেনা,উন্নয়ন কাজে দরপত্র ছাড়া ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম,বারবার বাজার দরের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ভাবে জমির উর্ধ্ব মুল্যায়ন সহ নানা অনিয়মের সমালোচনা করা হয়েছে অডিট রিপোর্টে।
জমি সরাসরি ক্রয় না করে তার স্ত্রী,পুত্র,ভাই ও আত্মীয় স্বজনের নামে পাওয়ার অব এটর্নী নিয়ে আবার বেশি দামে সমিতির কাছে বিক্রি করেন। প্লট ফ্লাট বিক্রির ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরন করেন। এমসিসিএইচএসএল’র সকল ঠিকাদারি কাজ নামে বেনামে তার পুত্রদ্বয়,স্ত্রী,ভাই সহ পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরাই করে। তার পরিবারের সদস্যদের ব্যবসা বলতে এমসিসিএইচএসএল’র ঠিকাদারি। সমবায় আইন,বিধি,পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস ও সমিতির উপ-আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্যরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঠিকাদারি কাজে অংশগ্রহন করতে পারেন না।
অন্যদিকে আগষ্টিন পিউরিফিকেশন এর অবৈধভাবে চেয়ারম্যানের পদ দখলে রাখা,অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্ত করার জন্যে সমবায় মন্ত্রণালয়,সমবায় অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন করেছেন অমুল্য লরেন্স পেরেরা ও রিচার্ড যেভিয়ার কল্লোল প্যারিশ। দি মেট্রোপলিটন খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি: এর সদস্য অমুল্য লরেন্স পেরেরা ও রিচার্ড যেভিয়ার কল্লোল প্যারিশ এর আবেদনের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে সমবায় মন্ত্রণালয় আগষ্টিন পিউরিফিকেশন এর দুর্নীতি তদন্তের জন্যে কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে সমবায় অধিদপ্তরকে। স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব সিদ্ধার্থ শংকর কুন্ডু স্বাক্ষরিত এক পত্রে(স্মারক নং-৪৭.০০.০০০০.০৩২.০৬.০৬২.১৫.১৩৯তারিখ-৩০/৩/২০২৩) এই আদেশ প্রদান করেন। অবশ্য পূর্বেই সমবায় অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম নিবন্ধক কে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মাফরোজা আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে(স্মারক নং- ৪৭.৬১.০০০০.০২৪.৪০.০৭০.১৮.৭৭ তারিখ-১/৩/২০২৩) এই আদেশ প্রদান করেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধিন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে।
এদিকে আগষ্টিন পিউরিফিকেশনের অন্যায়,অনিয়ম,দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় অমুল্য লরেন্স পেরেরা সহ প্রতিবাদি সদস্যদের বেআইনিভাবে সদস্য পদ বাতিল করেছেন। এমনকি আলামত বিহীন ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় অমুল্য লরেন্সকে জেলও খাটিয়েছেন।অবশ্য অমুল্য লরেন্স পেরেরা বেআইনি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রীট পিটিশন দায়ের করেছেন। এমনকি যে খ্রীষ্টান নেতা আগষ্টিন পিউরিফিকেশন কে পাগারের গ্রাম থেকে তুলে এনে এমসিসিএইচএসএল’র সদস্য বানিয়ে চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি তারও সদস্য পদ বাতিল করে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য,সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক আগষ্টিন পিউরিফিকেশনের অনিয়ম দুর্নীতি তদন্তের জন্যে ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক শেখ কামাল উদ্দিন আহমদ-কে নিযুক্ত করা হয়েছে। অথচ ২৯/৫/২০২৩ তারিখে এমসিসিএইচএসএল’র এর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমবায় প্রতিমন্ত্রী,সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধকের সাথে যুগ্ম নিবন্ধক শেখ কামাল হোসেন কেও বিশেষ অতিথি হিসেবে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তদন্ত দলের প্রধানের সংবর্ধনা ও আতিথেয়তা গ্রহন দেখে সদস্যদের মধ্যে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তাছাড়া, চলমান তদন্ত কাজের প্রধানের অভিযুক্ত কর্তৃক সংবর্ধনা বা আতিথেয়তা অথবা উপহার গ্রহন অনৈতিক ও তদন্ত কাজে পক্ষপাতিত্ব হবার আশংকা সৃষ্টি হয় বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন।

%d bloggers like this: