ঢাকাTuesday , 19 March 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালের জেলা প্রশাসক ভর্ৎসনা করলেন বিদায়ী ডিএফও আউয়ালকে

Link Copied!

মাসিক সমন্বয় সভায় মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের বিদায়ী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল আউয়ালকে ভর্ৎসনা করেছেন জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম। বরিশাল কোস্টাল সার্কেলের বন সংরক্ষক হারুন অর রশিদের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসক ভুরঘাটার রাস্তায় গাছ নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা না নেওয়ায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আব্দুল আউয়ালকে ভর্ৎসনা করেন। যদিও আব্দুল আউয়াল সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে গত ১১ মার্চ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল আউয়ালকে প্রত্যাহারপূর্বক প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তর, বন ভবন, ঢাকায় সংযুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) প্রত্যাহারকৃত দুর্নীতিবাজ ও স্বেচ্ছাচারী বন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল বরিশাল থেকে বিদায় নেন। আব্দুল আউয়ালের বিদায়ী অনুষ্ঠানও করা হয়নি। সম্প্রতি তার দুর্নীতির খবর ব্যাপকভাবে দৈনিক পাঞ্জেরীতে প্রকাশিত হওয়ায় বরিশালসহ দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠে। অবশেষে মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল ভূমিকায় আব্দুল আউয়ালকে বরিশাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করেন। অপরদিকে গত শুক্র, শনি এবং রোববার সরকারি ছুটি থাকার পরেও তিনি তার অনুগত কর্মচারীদের নিয়ে অফিস করেন।
ডিএফও আব্দুল আউয়ালের হাতে নির্যাতিত ঠিকাদার আনিসুর রহমান বলেন, দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাহারই ব্যবস্থা নয়। ঐ ডিএফও’র অপকর্মের জন্য দপদপিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বেহাত হওয়ার কারণে রাষ্ট্র যে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে উক্ত রাজস্বের টাকা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক দুর্নীতিবাজ ডিএফও আব্দুল আউয়ালের কাছ থেকে আদায়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি দৈনিক পাঞ্জেরীতে দুর্নীতির বরপুত্র বরিশালের ডিএফও আউয়াল কাণ্ডে বিব্রত বন অধিদপ্তর শীর্ষক শিরোনামে একটি তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়ালের দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বন বিভাগের উপকারভোগীরা। মানববন্ধনে বলা হয়, ২৫ বছর আগে জেলার গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুরে বন বিভাগের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক গাছ লাগান তারা। ২০ বছর পর ২০১৮ সালে খাঞ্জাপুরের সব গাছ বিক্রি করে বন বিভাগ। চুক্তি অনুযায়ী বিক্রিত অর্থের ১০ ভাগ বন বিভাগ ও ২০ ভাগ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৭০ ভাগ উপকারভোগীর পাওয়ার কথা।
কিন্তু গত ৫ বছর ধরে বন বিভাগ উপকারভোগীদের অর্থ না দিয়ে হয়রানি করছে। গাছের অর্থ চাইতে গেলে উল্টো তাদের কাছে উৎকোচ চাওয়া হচ্ছে। বক্তারা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার হয়রানি ও ঘুষ-দুর্নীতির প্রতিবাদ জানান এবং তার অপসারণ দাবি করেন।
সূত্র জানায়, পিআরএল-এ যাওয়া কর্মচারিদের এককালীন বেতন ও পেনশন পাওয়ার বিষয়ে ঘুষ না দিলে দুর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল বিভিন্ন অযুহাতে তাদের ফাইল ২/৩ মাস ঘুরিয়ে হয়রানি করেন। নানা অভিযোগে জানা গেছে, গত ১৬ জানুয়ারি দপ্তরে কম্পিউটার ক্রয়ের জন্য এম.এম কর্পোরেশনের নামে ১ লক্ষ টাকার কার্যাদেশ প্রদান করেন এবং কম্পিউটার না নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে সদর রেঞ্জ কর্মকর্তাকে সামগ্রী গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং বিল প্রদানের সুপারিশ ছাড়াই বিলের চেক প্রদান করতে বাধ্য করেন। সদ্য বিদায়ী সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন ডিএফও’র ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে বন সংরক্ষক হারুন অর রশিদকে দিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পটুয়াখালী বন বিভাগে বদলি করার ব্যবস্থ করেন এবং ডিভিশনে বেশ কয়েকজন সিনিয়র ফরেস্টার থাকার পরেও ডিএফও’র অপরাধের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে চাকরিতে সদ্য যোগদানকৃত ফরেস্টারকে বিধিবহির্ভূতভাবে সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেন এবং গত ২৩ জানুয়ারি তড়িঘড়ি করে মামুনের দায়িত্ব হস্তান্তর করার পরের দিন বন অগ্রিম হিসাবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন এবং ২৫ জানুয়ারি ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকার বন অগ্রিমের চেক প্রদান করেন এবং বর্তমান সদর রেঞ্জ কর্মকর্তার (জুনিয়র ফরেস্টার) নিকট থেকে ২০% ঘুষ গ্রহণ করেন।
৮১টি স’মিল মালিকদের নিকট থেকে ঘুষ গ্রহণ করতে না পেরে স’মিলের লাইসেন্স নবায়ন না করে তালবাহানা করেন। এ বিষয়ে স’মিল মালিকদের কয়েকজন প্রতিনিধি কোস্টাল সার্কেলের বন সংরক্ষক হারুন অর রশিদ খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযোগ জানান। সূত্র জানায়, বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের সদর দপ্তরে কর্মরত বাগান মালী মরিয়ম কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে বরিশালের একটি প্রত্যন্ত উপজেলায় বদলি করেন। ডিভিশনে অনেক সিনিয়র ফরেস্টার থাকার পরেও ডিএফও’র আজ্ঞাবহ বন প্রহরী আবু তাহেরকে বানারীপাড়া উপজেলায় বন কর্মকর্তার পদে দায়িত্ব দেন। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল অনুসারে কর্মচারিদের পোশাক ক্রয়ের ক্ষেত্রে ডিএফও’র আর্থিক ৩ লক্ষ টাকার সীমাবদ্ধতার পরেও বিধিবহির্ভূতভাবে বিগত ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৪ লক্ষ ৪৮ হাজার ২২০ টাকার ম্যানুয়াল কোটেশন করেন। যা অদক্ষতা ও অযোগ্যতার সামিল বলে বিজ্ঞ মহল মনে করেন। বিগত ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে কাশিপুরে অবস্থিত রেস্ট হাউজ মেরামত কাজ ঠিকাদার কর্তৃক মেরামত কাজটি সম্পূর্ণ সমাপ্তির পরেও তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন কার্য সমাপ্তি রিপোর্ট ও বিল প্রদানের জন্য সুপারিশ প্রদান করেন এবং ঠিকাদারের নিকট থেকে ১৫% ঘুষ আদায় করতে না পেরে ঠিকাদারকে দাখিলকৃত ও সুপারিশকৃত বিলের চেক প্রদান না করে বিধিবহির্ভূতভাবে পুনরায় তদারক কমিটি গঠন করেন। বিল পাওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ৩ বার আবেদন নিবেদন করার পরেও বিলের চেক কেটে রাখার দীর্ঘ ১ মাস ২৬ দিন পরে বন সংরক্ষকের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চেক প্রদান করেন।
সূত্র জানায়, আব্দুল আউয়াল বিগত ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের ৬ মার্চ ৩টি কাজের কার্যাদেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে অডিট আপত্তির কথা বলে কাজের শেষ পর্যায়ে গত বছরের ২৩ মার্চ উক্ত কার্যাদেশ বাতিল করেন। ফরেস্টার এস.এম. কাওসার হোসেন চিকিৎসার জন্য ভারতে গমনের উদ্দেশ্যে পাসপোর্টের জন্য এনওসি চেয়ে ডিএফও’র নিকট আবেদন করলে উক্ত ফরেস্টারের নিকট থেকে উৎকোচ গ্রহণে ব্যর্থ হয়ে দীর্ঘ ২ মাসের বেশি হয়রানি করেন। পরবর্তীতে এস.এম. কাওসার বন সংরক্ষকের নিকট আবেদন জানালে ঐদিনই আব্দুল আউয়াল ফরেস্টার এস.এম. কাওসারকে এনওসি দিতে বাধ্য হন। আব্দুল আউয়াল বগুড়া সামাজিক বন বিভাগে চাকুরীকালীন সময়ে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে সূত্র নিশ্চিত করে। প্রধান বন সংরক্ষক অনিয়মের বিষয়ে তদন্তের জন্য বন অধিদপ্তরের উপ-প্রধান বন সংরক্ষক জগলুল হোসেনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করলেও রহস্যজনক কারণে জগলুল হোসেন তদন্তের বিষয়ে মুখ খুলছেন না। বগুড়া ডিভিশনের ১৮ জন কর্মচারির নিকট থেকে এসিআর প্রেরণের লক্ষ্যে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করে এবং না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ১৮ জন কর্মচারির এসিআর-এ বিরূপ মন্তব্য লিখে ঊর্ধ্বতন মহলে প্রেরণ করেন দুর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে তার দহরম মহরম সম্পর্ক রয়েছে বলে ডিএফও আব্দুল আউয়াল দম্ভোক্তি দেখান। যে কারণে তার অধঃস্তন কর্মকর্তা কর্মচারি থাকেন সর্বদা তটস্থ। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে পারোয়া করি না, কেউ আমার কিছুই করতে পারবে না এবং কোন অভিযোগ কেউ আমলে নিবে না।’
ডিএফও আব্দুল আউয়াল গত ২৫ জানুয়ারি সরকারি কাজে ঢাকা গমনের জন্য মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশন বরিশাল থেকে ৮০ লিটার অকটেন উত্তোলন করে সরকারি গাড়িতে না নিয়ে তার ব্যক্তিগত বিলাসবহুল গাড়িতে সরকারি তেল নিয়ে ঢাকায় আসেন। যা স্বেচ্ছাচারিতা ও চাকরিবিধির পরিপন্থি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে সচেতন মহল মনে করেন। বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন কোন উপজেলায় কর্মকর্তার অফিস ও বাস ভবন নেই। নার্সারি কেন্দ্রগুলোতে চারা উত্তোলনের জন্য কোন স্থায়ী নার্সারী বেডও নেই। গৌরনদী এসএফএনটিসি অরক্ষিত এবং গরু-ছাগল বসবাস করে। কাশিপুর বন সংরক্ষকের অফিসের সম্মুখ ভাগের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হলেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেন না তিনি। বন সংরক্ষকের দপ্তরের পূর্ব দিকে কোন সীমানা দেয়াল নেই। যে কারণে গরু-ছাগল বিচরণ করে এবং রাতে মাদকের আড্ডা বসে।