ঢাকাSunday , 10 March 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাদারীপুর সদরে মতবিনিময় সভায় খান গ্রুপে মিঠুর যোগদান

Link Copied!

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নেই কোন দলীয় প্রতিক।

নির্বাচনের আগে সাধারণ ভোটারদের মাঝে রয়েছে অনেক হিসাবনিকাশ। কে জিতবে কার যোগ্যতা সাধারণ মানুষের কাছে কতটা বেশি, এনিয়ে চলছে মাদারীপুরে চুল-ছেঁড়া বিশ্লেষণও। তাই সদর উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে গত শুক্রবার বিকেলে আসিব খানের পক্ষে রাস্ত ইউনিয়নে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।এতে প্রধানমন্ত্রী অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নৌ মন্ত্রী শাজাহান।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদরে আওয়ামিলীগ রাজনিতিতে দুটি গ্রুপে বিভক্ত রয়েছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন সাবেক নৌ মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বর্তমান সদর আসেন

এমপি শাজাহান খান। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ঢাকা ৮ আসনের এমপি আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম। এদিকে বর্তমান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রয়েছেন শাজাহান খানের ছোট ভাই ওবায়দুর রহমান কালু খান। অন্যদিকে বাহাউদ্দীন নাসিমের ছোট ভাই রয়েছেন খালিদ হোসেন ইয়াদ। বিভিন্ন বিতর্কের কারণে শাজাহান খানের চাচাতো ভাই শফিক খানকে দীর্ঘদিন ধরে রেখেছেন খান গ্রুপের বাইরে। তাই তিনি নিরুপায় হয়ে যোগ দিয়েছেন নাসিম গ্রুপে। তিনি এবারও উপজেলা নির্বাচন করবেন। রাস্তি ইউনিয়নের মতবিনিময় সভায় ও মিঠু হাওলাদারের যোগদান উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার নেতাকর্মীরা শাজাহান খান ও আসিব খানের স্লোগানে স্লোগানে এ সভায় উপস্থিত হন। মিঠু হাওলাদার দীর্ঘ ১৮ বছর রাজনিতি করেছিলেন নাসিম গ্রুপের সাথে। বিকেলে ৪টায় শুরু হয়ে রাত সোয়া আটটা পর্যন্ত চলে এই মতবিনিময় সভা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সীমিতর সভাপতি, বর্তমান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও নৌ মন্ত্রীর ভাই ওবায়দুর রহমান কালু খান, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ তালুকদার।

মান্নান হাওলাদারের সভাপতিত্বে ও ফয়সাল আহমেদ মিঠু হাওলাদারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, মাদারীপুর সদর উপজেলার আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এজাজুর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী আসিবুর রহমান খান, জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মোঃ রেজাউল আকন্দ, পৌর ছাত্রলীগের একাংশের সভাপতি নোবেল বেপারীসহ বিভিন্ন কর্মীরা।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডেন্ট সদস্য শাজাহান খান এমপি বলেন, আমার ছেলে আসিবুর রহমান খানকে আপনাদের সেবায় উৎসর্গ করলাম। আপনারাই আমার পরিবারের লোকজন, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে আপনারাই আমার ছেলেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করেছেন। আপনারা তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।আপনাদের পাশে থেকে সেবা করার সুযোগ করে দিবেন। তিনি আরও বলেন, শফিক পট্টিবাজ সে বিষয়ে বলতে চাই না। শুধু এটুকু বলবো তাকে ব্যবসা করার জন্য আমি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে তাকে ৮৫ লাখ টাকা দিয়েছি। মন্টু খান পনেরো লাখ টাকা দিয়েছি ও শফিকের আর এক বোন ৫ লাখ টাকা নিয়েছ। এ-র মধ্যে ভাগ্যক্রমে ৫০ লাখ টাকা উঠেছে। আরও ৫৫ লাখ টাকা দেওয়ার নাম নেই। তার পরেও যদি বলে আমি তাদের সহযোগিতা করিনি। এখন আপনারাই বলেন?।আপনাদের কাছে এর বিচার দিলাম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান খান বলেন, আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে দুই বার চেয়ারম্যান ছিল শফিক। তবে উপজেলাবাসির উন্নয়নের পরিবর্তে উপজেলা পরিষদ টাকে আড্ডাখানা বানিয়েছিল।মানুষকে মানুষ ভাবতোনা। বিভিন্ন বদনাম, হরহামেশাই অভিযোগ আসছিল। আমরা তাকে শাসনের অনেক চেষ্টা করছি, কিন্তু পারিনি। আমি নিরবাচিত হওয়ার পরে এখন উপজেলা পরিষদে সেই আড্ডা আর খানা নেই। আমি যথেষ্ট উন্নায়ন করেছি। আমি একজন আইনজিবি আমার শারিরিক অসুস্থার কারনে কোট করার পরে পরিষদের কাজে মসয় দিতে অনেক কষ্ট হয়।আমার সেহ্নের ভাতিজা আসিব খান নিরবাচন করবে আপনারা তাকে ভোট দিয়ে নিরবাচিত করলে আমার চেও আরও বেশি উন্নয়ন করতে পারবে। অপর প্রারথী শফিককে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, মাদারীপুর শহরের (মাইর গ্যানজাম) মারামারি অনেক কমেছে। ও আমাদের কাছে থাকলে অনেক হতো। তাই তাকে আমাদের পরিবার থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। সে যাদের সাথে বিনা কারণে মারামারি করতো এখন সে তাদের সাথেই গেছে। ওদের সাথে আবার একটা মারামারি করেই সরবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য আসিবুর রহমান খান বলেন, আগামী উপজেলা নির্বাচনে আমাকে আপনারা প্রার্থী করেছেন,আমি আপনাদের দোয়া নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। নির্বাচনে আমার জন্য আপনারা অনেক পরিশ্রম করছেন, আজ এই মতবিনিময় সভায় যারা আয়োজন করেছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ  আগামী উপজেলা নির্বাচনে আপনাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবেন। আমি আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই আগামীতে এই জেলাকে একটি স্মার্ট জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।