ঢাকাThursday , 29 February 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিচ্ছে বাংলাদেশি তরুণেরা

Link Copied!

জাল কাগজপত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টাসহ মানব পাচারের অভিযোগে গত এক বছরে পাঁচটি চক্রের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। এসব মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশি তরুণদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর প্রথমে তাদের নিয়ে যায় ভারতের নয়াদিল্লিতে। সেখান থেকে ভ্রমণ ও ব্যবসায়ী ভিসায় নেওয়া হয় তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। পরে নতুন বোর্ডিং পাস ও নতুন টিকিটে তাদের কোপা ও ক্যারিবিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে করে নেওয়া হয় গায়ানা ও সুরিনামে। সেখান থেকে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকানো হয়। গত বছরের জুন মাসে করা একটি মামলায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যে দেশ ছেড়ে যাওয়া অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি দক্ষিণ আমেরিকার গায়ানায় গ্রেপ্তার হন।

মার্কিন দূতাবাসের দাবি, গায়ানায় গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের একটি মানব পাচারকারী চক্রের সন্ধান পান। ওই মামলার তদন্তে নেমে ডিএমপি একটি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও তার সহযোগী আকলিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছিল। পুলিশের দাবি, রুহুল আমিনসহ চক্রটি ৯০ জনের বেশি বাংলাদেশিকে গায়ানা ও সুরিনামে পাঠিয়েছে। তাদের অনেকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছেন, কেউ কেউ মেক্সিকো সীমান্তে অপেক্ষা করছিলেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা যায়, ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণার’ অভিযোগে মিকাইল লি গুলশান থানায় প্রথম মামলাটি করেছিলেন গত বছরের ১৫ মার্চ। সেই মামলায় প্রথমে চারজনকে আসামি করা হয়েছিল। ওই আসামিরা মূলত নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি সম্মেলনে যোগ দিতে ‘কথক একাডেমি’ নামের একটি এনজিওর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন। ‘কথক একাডেমি’ নামে বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোনো এনজিও নেই। ওই চারজনের ভিসাপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় দূতাবাস কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে মামলা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দালালদের কাছ থেকে ভুয়া নথিপত্র সংগ্রহ করে দূতাবাসকে প্রতারিত করেন। ওই চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারও করেছিল পুলিশ। প্রতারণার মাধ্যমে তত দিনে কয়েকজনকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয় বলেও তখন পুলিশ জানতে পেরেছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়। মামলার আসামিসহ অর্ধশতাধিক তরুণের বিরুদ্ধে কাগজপত্র জালিয়াতি, অবৈধ পথে সীমান্ত পেরোনো কিংবা সীমান্তে অপেক্ষায় থাকার অভিযোগ আনা হয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি এই প্রক্রিয়ায় মানব পাচার ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়।
ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, ভুয়া এনজিওকর্মী পরিচয়ে জাল কাগজপত্র দিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মানব পাচার এবং এর মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সম্প্রতি সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য দালালদের কাছ থেকে ভুয়া নথিপত্র সংগ্রহ করে দূতাবাসকে প্রতারিত করে। পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে এরই মধ্যে কয়েকজনকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে বলেও তারা জানতে পেরেছেন। কেউ আবার বিদেশে গিয়ে ধরাও পড়েছেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে মানব পাচার ঠেকানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছুদিন আগে থেকেই কথা বলে আসছিল। ওই দেশে এমন পাচার বন্ধ করতে তারা আরও বেশি সক্রিয় থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। মানব পাচার ঠেকাতে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) নির্বাহী পরিচালক সি আর আবরার বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আশ্রয় নেওয়াটা যুক্তিযুক্ত। দেশটির দূতাবাস মানব পাচারকারীদের কিছু তথ্য দিয়েছে, সেটাও আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে সহযোগিতা করবে। কিন্তু এসব অপকর্ম যারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না নিলে এই পাচার বন্ধ হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের উচিত, যারা মানব পাচার করছে, তাদের আইনের আওতায় আনা। যাদের অবহেলায় এসব হচ্ছে, তাদের জবাবদিহি করতে বাধ্য করা।’