নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ যৌথ মালিকানাধীন একটি কারখানা অনির্দিষ্টকাল বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের দু’দফা লাঠিচার্জে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রোববার সকালে বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা ইপিজেডের অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদের বের করে আনতে ও সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পুলিশের লাঠিচার্জে আহতরা হলেন- নার্গিস আক্তার, হ্যাপি, পলি, সালমাসহ কমপক্ষে ১৫ শ্রমিক। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন (৪০), শ্রমিক আউয়াল (৩৩) ও খোকনকে (২৮) আটক করে পুলিশ।
ব্ক্ষিুব্ধ শ্রমিকরা জানান, আদমজী ইপিজেডে এমসিএস টেক্সটাইলটি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। ওই প্রতিষ্ঠানটি জ্যাকেট ও ব্লেজার তৈরি করতো। এক মালিক ইংল্যান্ডের নাগরিক। অপরজন মালিক চাঁদ মিয়া বাংলাদেশের নাগরিক। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের মালিকদ্বয়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিদেশি মালিক চাঁদ মিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের নিম্ন আদালতে মামলা করলে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত রাখা হয়। এতে গত দুই মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে।
বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে কয়েকদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শ্রমিক অসন্তোষ বিরাজ করছিল। মঙ্গলবার রাতে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেয় ১২’শ শ্রমিক। পরে বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানাটি বন্ধের নোটিশ দেয় মালিকপক্ষ।
এদিকে, রোববার সকাল ৯টার দিকে কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে থাকেন শ্রমিকরা। পরে তারা অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা করলে শিল্প পুলিশের লাঠিচার্জে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে শ্রমিকরা ১১টার দিকে কদমতলী নাভানা ভূঁইয়া সিটি এলাকায় আবারও জড়ো হতে থাকলে পুলিশ সেখানেও শ্রকিদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দু’দফা সংঘর্ষে নার্গিস আক্তার, হ্যাপি, পলি, সালমাসহ কমপক্ষে ১৫ জন শ্রমিক আহত হন।
নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪ এর পুলিশ সুপার মাহবুব আলম জানান, শ্রমিকরা ইপিজেডের অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদের বের করে আনতে ও সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন জনকে আটক করা হয়। তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

