ঢাকাWednesday , 21 February 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মৌলভীবাজারে শহীদ মিনারে আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুলিশের হট্টগোল

Link Copied!

 মৌলভীবাজার শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার পূর্ব মুহূর্তে আওয়ামী লীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতাকর্মীকে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রাখে। এসময়
নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তখন তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে থাকেন।
বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টায় প্রথম প্রহরে জেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ঘটনা ঘটে।
রাত ১২টা কিছু আগে শহীদ মিনারে কাছে আড়াআড়ি ভাবে অবস্থান নেন জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা, জেলা আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
এ সময় ক্ষমতাসীন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতা কর্মীকে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রাখে। এরই জের ধরে পুলিশের সাথে হট্টগোল শুরু হয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের। এই পরিস্থিতিতে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তখন তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে থাকেন।
এসময় পাশেই অবস্থানকারী পুলিশ সুপার মোঃ মানজুর রহমানের কাছে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নেছার আহমদ ব্যারিকেড দেয়ার কারণ জানতে চান এবং ব্যারিকেড তুলে নেয়ার অনুরোধ করেন। শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার সময় আওয়ামী লীগের সামনে ব্যারিকেড দেওয়ায় পুলিশের এমন আচরণে হতবাক হন নেতাকর্মীরা। পরে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ব্যারিকেড দেয়া নিয়ে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সকলের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষ হলে তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাইক হাতে নিয়ে সকলকে শান্তিপূর্ণভাবে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে অনুরোধ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১২টা ১মিনিটে প্রটোকল অনুযায়ী প্রথমে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের পক্ষে শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যান জেলা প্রশাসক। এরপরই ফুল দিতে চান পুলিশ সুপার মনজুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ। এদিকে আবার নবনির্বাচিত মৌলভীবাজার রাজনগর আসনের এমপি জিল্লুর রহমানের পক্ষে তার প্রতিনিধি দল শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
১২টার কয়েক মিনিট আগে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ফুল দিতে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নির্দিষ্ট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। হঠাৎ করে তাদের সামেন পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তখন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক এমপি নেছার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমানসহ নেতাকর্মীরা পুলিশকে ব্যারিকেড সরিয়ে নিতে বারবার অনুরোধ করেন। একটা পর্যায়ে পুলিশের আচরণে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
হট্টগোলের মধ্যে নির্ধারিত সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার মোঃ মনজুর রহমান।
পরে শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশ থেকে মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুর রহমানের প্রতিনিধি ফুলের তোড়া নিয়ে ও শহীদ মিনারের সম্মুখ থেকে ক্ষমতাসীন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
পরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক মোঃ ফজলুর রহমান, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এম .এ রহিম (সি.আই.পি), জেলা বিএনপি, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ভিডিপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, বাসদ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডি, বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পানি উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্ত বিভাগ, সদর হাসপাতাল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন।
জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আমিন চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশ এমন আচরণ করতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে মৌলভীবাজার পুলিশ আচরণ আমরা হতবাক।
মৌলভীবাজার পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক মোঃ ফজলুর রহমান জানান, মৌলভীবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমবার স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগকে ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পুলিশ। পরে অবশ্যই শান্তিপূর্ণভাবে আমরা ফুল দিয়েছি।
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি নেছার আহমদ বলেন, পুলিশ আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালে নেতাকর্মীরা সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পুলিশকে ব্যারিকেড সরিয়ে নিতে আমরা বারবার অনুরোধ করি। যে সব পুলিশ সদস্য ব্যারিকেড দিয়ে আমাদের সামনে হাতে হাত ধরে যারা দাঁড়িয়েছিল তাদের কোন দোষ ছিলনা। কি কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো জানেন।
সুন্দর সুশৃঙ্খল ভাবে সবাই শহীদ মিনারে ফুল দিবেন এ বিষয়ে আমরাও দীর্ঘদিন থেকে সহযোগিতা করে আসছি।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোঃ মনজুর রহমান জানান শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জাানাতে আসা সকলের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনি দেয়া হয়েছিল। ওই নিরাপত্তা বেষ্টনি সব সময় ওইসব অনুষ্ঠানে থাকে। রাত ১২টা বাজার ১ মিনিট আগে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে কিারণে বাঁধার বিষয়টি এসেছে এটি খুঁজে দেখা হবে।