বেনাপোল চেকপোস্টের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্টে আবারও ২৫টি স্বর্ণের বারসহ ২ ভারতীয় ট্রাক চালক-হেলপার ও ১ বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রী আটক হয়েছে। রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পৃথক বার্তায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ১৪৫ ব্যাটালিয়নের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যরা ট্রাক চালক ও হেলপারের কাছ থেকে ২২টি এবং পাসপোর্ট যাত্রীর কাছ থেকে ৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধারসহ তাদেরকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে পেট্রাপোল থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে বলে এক বার্তায় জানিয়েছেন বিএসএফ।
আটককৃতরা হলো- ভারতীয় ট্রাক চালক রাজু দাস, হেলপার সঞ্জিব দাস এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রী রিবাউদ্দিন।
জানা যায়, বেনাপোর বন্দর থেকে পণ্য খালাশ করে ফিরে যাওয়ার সময় ভারতীয় ট্রাকে তল্লশী করে কেবিনের মধ্যে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ২২টি স্বর্নবার উদ্ধার করে বিএসএফ। এসময় আটক করা হয় ট্রাকের চালক ও তার হেলপারকে।
একইদিন, বেনাপোল ইমিেেগ্রশন কাস্টমস পার হয়ে ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমসে পৌঁছালে তার গতিবিধির উপর নজরদারি করে বিএসএফ। একপর্যায়ে তার শরীরে তল্লাশির এক পর্যায়ে পেটের ভিতর পায়ু পথে লুকিয়ে রাখা ৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধারসহ তাকে আটক করে।
এর আগে গত বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি), ৮৫০ গ্রাম স্বর্ণের বারসহ আবু বক্কর হানিফা ওরফে জিয়া উদ্দীন নামে এক ভারতীয় পাসপোর্টধারীকে আটক করে বিএসএফ। তার ১দিন পূর্বে মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি), ৪৬৬ গ্রাম ওজনের ৪টি স্বর্ণের বারসহ নাজনীন নাহার নামে এক বাংলাদেশি নারী পাসপোর্ট যাত্রীর পায়ুপথে লোকানো ৪টি স্বর্ণের বারসহ আটক করেন।
স্থানীয়রা জানায়, বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে নিয়োজিত দূর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর তাদের অবৈধ আর্থিক সুযোগ সুবিধার কারণে প্রতিদিন এপথ দিয়ে অবাধে পাঁচার হয়ে যাচ্ছে স্বর্ণের বারসহ মূল্যবান সামগ্রী ও বৈদেশিক মুদ্রা। যা নিয়ে প্রতিনিয়ত পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ইলেকেেট্রানিক্স মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হলেও টন নড়েনি সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের।
এ স্বর্ণের বার উদ্ধারসহ আসামী আটকের বিষয়ে ভারতের সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের ডিআইজি, (পাবলিক রিলেশন অফিসার) শ্রী এ কে আর্য, গণমাধ্যম কর্মীদেরকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, স্বর্নচালান আটক, এটি ডিউটিতে নিয়োজিত বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের সৈন্যদের দ্বারা প্রদর্শিত সতর্কতার প্রতিফলন।
তিনি জনগণকে কোনো অবস্থাতেই চোরাচালানের পথ অবলম্বন না করার আহ্বান জানিয়ে কড়া ভাষায় বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কোনো অবস্থাতেই সীমান্তে চোরাচালান বা অন্য কোনো ধরনের অপরাধ ঘটতে দেবে না এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও ছাড় দেবে না।
জানা যায, বেনাপোল বন্দর দিয়ে বানিজ্য ও যাত্রী যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ৪ টি স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করে। স্ক্যানিং মেশিনগুলি কাস্টমসের পক্ষে পরিচালনা করে আসছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাসোসিয়েটস। তবে স্ক্যানিং মেশিন গুলোর মধ্যে ৩ টি যান্ত্রিক ত্রুটিতে নষ্ট হয়ে থাকায় দীর্ঘদিন যাবত এপথে স্কানিং কার্যক্রম সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে। সেসুযোগ নিয়ে এখানে নিয়োজিত কর্মীরা রাতারাতি কোটিপতি বনেযেতে চোখ কান অন্যদিকে ঘুরিয়ে অবাধ চোরাকারবারির সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। যেকারণে অবাধে আমদানি পণ্য ও পাসপোর্ট যাত্রীর মাধ্যমে স্বর্ণ ও মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে চোরাচালান ব্যাপক হারে বেড়েগেছে। এছাড়া ঢাকা-কলকাতা রুটে যাত্রি নিয়ে চলাচলকারি পরিবহনগুলোর অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে এসকল চোরাচালানে।
কাস্টমসের পক্ষে স্ক্যানিং মেশিন তদারকিতে নিযুক্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ফাইবার এ্যাসোসিয়েটস এর বেনাপোল অফিস ব্যবস্থাপক বনি আমিন জানান, স্ক্যানিং মেরামত করতে বড় অংকের অর্থের প্রয়োজন। সেটি চুক্তি অনুযায়ী ব্যয় কাস্টমস বহন করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করায় স্ক্যানিং ৩টির কার্যক্রম বন্ধ আছে।

