কাতার বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর ব্রাজিলের ফুটবল এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দলের পারফর্মেন্সের অবস্থা করুণ থেকে করুণতর হচ্ছে দিনে দিনে। কোচ নিয়োগ দিতেই লেগে গেছে দুই বছর। এমন সময়েই আলোচনা শুরু হয়েছে ব্রাজিলের ‘নতুন মেসি’কে ঘিরে। ফুটবলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা চিরশত্রু। সেই ব্রাজিলের উঠতি এক ফুটবলারকে ‘নতুন মেসি’ বলা বেশ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে।
এমনিতেই বিখ্যাত তারকাদের কাছাকাছি ভঙ্গিমায় কেউ খেললে তাকে ‘নতুন পেলে’, ‘নতুন ম্যারাডোনা’ বা ‘নতুন মেসি’র মতো নাম দেওয়া হয়। যা অনেক সময় বাড়াবাড়ির পর্যায়েও চলে যায়। এবার এমন উপাধি দেওয়া হয়েছে ব্রাজিলের বিস্ময়বালক এস্তেভাও উইলিয়ানকে। শুধু তাই নয়, ১৬ বছর বয়সী উইলিয়ানকে ডাকা হচ্ছে ‘মেসিনিও’ নামে, যার অর্থ হলো ‘ছোট মেসি’। ইতোমধ্যেই উইলিয়ানের ওপর নজর পড়েছে ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর। কিন্তু উইলিয়ান কোথয় যেতে চান?
ব্রাজিলের ক্লাব ক্রুজেইরোতে উইলিয়ানের বয়সভিত্তিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল। চার বছর পর ক্রুজেইরো থেকে উইলিয়ানকে প্রায় ‘ছিনতাই’ করে নিয়ে যায় পালমেইরাস। যা নিয়ে ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলে তোলপাড় হয়েছিল। এই পারমেইরাসে খেলেই নিজেকে এখন পোক্ত করে তুলেছেন উইলিয়ান। তার ক্লাব সতীর্থ আরেক ব্রাজিলিয়ান কিশোর এনদ্রিক ইতোমধ্যেই রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পাকা কথা বলে ফেলেছেন। আগামী জুনে বয়স ১৮ পূরণ হলেই এনদ্রিক পাড়ি জমাবেন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে।
এরপর থেকেই পালমেইরাস চাচ্ছে, উইলিয়ানকে কোনো বড় টিমের কাছে বিক্রি করে দিতে। এতে মোটা অংকের ট্রান্সফার ফি নিয়ে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবে। ইতোমধ্যেই চেলসি, আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার সিটি, পিএসজি এবং বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবগুলো উইলিয়ানকে পেতে আগ্রহী হয়েছে। কিন্তু ১৬ বছরের উইলিয়ানের স্বপ্ন অন্যরকম, “আমি বার্সেলোনায় খেলার স্বপ্ন দেখি। এটা বিশ্বের সেরা ক্লাব। আমি মেসি, নেইমার এবং লুইস সুয়ারেসের খেলা দেখে বড় হয়েছি।”
উইলিয়ানের এই কথায় কাতালান জায়ান্টরা আগ্রহী হতেই পারে, কিন্তু ২০২৫ সালের এপ্রিলে ১৮ বছর হওয়ার আগপর্যন্ত তাকে ব্রাজিলেই থাকতে হবে। অবশ্য এর আগেই বার্সা কিংবা অন্য কোনো ক্লাবের সঙ্গে তিনি চুক্তি করে রাখতে পারেন। যেমনটা করেছেন এনদ্রিক।

